বহুরূপী গল্পের তিন নম্বরে কিছু প্রশ্ন ৷ দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন; ‘হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে ভাত ফোটে না।/ - হরিদার উপার্জনের উপায় কী ছিল? অনেক সময় তাঁর হাঁড়িতে ভাত না-ফুটে কেবল জল ফোটে কেন?
উত্তর> সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা পেশায় ছিলেন বহুরূপী। মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে খেলা দেখিয়ে যা রোজগার হত; তা দিয়েই তিনি জীবিকানির্বাহ করতেন।
॥ হরিদা খুব গরিব মানুষ হলেও, গতে বাঁধা কাজ করায় তাঁর প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা ছিল। মনে করলে তিনি কোনো অফিসে বা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ পেয়ে যেতেন। কিন্তু এ ধরনের কাজ তাঁর পছন্দ ছিল না। ঘড়ির কাঁটার সময় ধরে নিয়মমাফিক রোজ একটা চাকরি করতে যাওয়া হরিদার পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই তাঁর হাঁড়িতে অনেক সময়েই শুধু জল ফুটলেও; ভাত ফুটত না।
প্রশ্ন:; ‘একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।–‘আতঙ্কের হল্লা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে কী ঘটনা ঘটেছিল ?
উত্তর> সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী' গল্পে ঠিক দুপুরবেলা চকের বাস স্ট্যান্ডে
বহুরূপী হরিদাকে পাগলের বেশে দেখে সকলে চমকে উঠে ভয়ে চ্যাঁচামেচি শুরু করে দিয়েছিল। একেই আতঙ্কের হল্লা' বলা হয়েছে।
|| চকের বাস স্ট্যান্ডে দুপুরবেলা এক পাগলের আবির্ভাবে সকলে ভীত হয়ে পড়ে। সেই পাগলের মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছিল, চোখ ছিল কটকটে লাল, কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটোর মালা। হাতে থান ইট নিয়ে সে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: ‘হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরক চলে যাচ্ছে।—হরিদার জীবনের 'বহু রূপের খেলা'-র পরিচয় দাও।
উত্তর> গল্পকার সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা মাঝে মাঝে বিভিন্ন সাজে সেজে রাস্তায় বেরোতেন—কখনও পাগল, কখনও-বা রূপসি বাইজি, কখনও বাউল, কাপালিক; কোনো দিন বুড়ো কাবুলিওয়ালা, কোনো দিন-বা হ্যাট-কোট-প্যান্ট পরা ফিরিঙ্গি সাহেব। একবার তিনি পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাই ও তাঁর ছাত্রদের চোখে ধুলো দিয়েছিলেন। আবার বাইজির সাজেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশি উপার্জন হয়েছিল। তবে হরিদার সেরা রূপ ছিল জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশ।
