স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে। স্রষ্টা কে? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন ? আফ্রিকা কবিতা || দশম শ্রেণী - Online story

Monday, 9 March 2026

স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে। স্রষ্টা কে? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন ? আফ্রিকা কবিতা || দশম শ্রেণী

 



প্রশ্ন: 'স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে'—'স্রষ্টা' কে? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন?

উত্তর>  রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে অংশটি গৃহীত। যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই স্রষ্টা। এখানে কবি ঈশ্বরকেই ‘স্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

|| স্রষ্টার ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টি হয় না যতক্ষণ-না তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিজের

মনোমতো হয়। সেই সত্যকে কল্পনা করেই কবি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টির আদিম লগ্নে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে বারবার ধ্বংস করে নতুনভাবে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা কখনোই তাঁর মনোমতো হচ্ছিল না। এই কারণে তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।



★প্রশ্ন: ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে,- 'তোমাকে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাকে কে, কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে?

উত্তর>  রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় ‘তোমাকে' বলতে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।

| আদিম পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া ভৌগোলিক বিবর্তনকে এখানে কবি

ফুটিয়ে তুলেছেন এক আশ্চর্য ব্যঞ্জনায়। বৈজ্ঞানিকদের মতে ভু অভ্যন্তরে প্লেটগুলির নড়াচড়ার ফলেই এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কবি এরই কাব্যিক রূপ দিয়ে বলেছেন, রুদ্র সমুদ্র মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যেন বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্তরালে তাকে নিক্ষেপ করেছিল।


★প্রশ্ন: ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে। – আফ্রিকাকে কে, কীভাবে বেঁধেছিল?

উত্তর:  কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঠ্য কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশ্যে

জন্মরহস্যকে এক আশ্চর্য কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। পাতগাঠনিক তত্ত্ব অনুযায়ী পাতের নড়াচড়ার ফলে এশিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই এই আফ্রিকার সৃষ্টি। কবির ভাষায় সৃষ্টির আদিম লগ্নে রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারপর বিচ্ছিন্ন আফ্রিকাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় অর্থাৎ দুর্গম আরণ্যক জগতের ছায়াঘেরা রহস্যময়তায় যেন চিরতার বেঁধে রাখে।