আফ্রিকা কবিতার ছোট প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণী
![]() |
আফ্রিকা কবিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছোট প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: কার অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ 'আফ্রিকা' কবিতাটি লেখেন?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি অমিয় চক্রবর্তীর অনুরোধে 'আফ্রিকা' কবিতাটি লেখেন।
প্রশ্ন: ‘উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে' কী ঘটেছিল ?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে নিখুঁত করার জন্য সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন।
প্রশ্ন: ‘'স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে- স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন কেন?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে, উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম সময়ে স্রষ্টা তাঁর নিজের সৃষ্টির মধ্যে খুঁত বা ঘাটতি দেখে বিরূপতায় নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।
প্রশ্ন: ‘তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে – ঘনঘন মাথা নাড়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর > ‘আফ্রিকা' কবিতায় স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টির প্রতি বিরূপ হয়ে তাকে
নিখুঁত করার জন্য অর্থাৎ বারংবার প্রাকৃতিক পটভূমি পরিবর্তনের জন্য অধৈর্যে ঘনঘন মাথা নাড়ছিলেন।
প্রশ্ন: ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে'—কাকে, কে ছিনিয়ে নিয়ে গেল ?
অথবা, কে, কার বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর> ‘আফ্রিকা' কবিতা অনুসারে স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে
যখন বারবার প্রাকৃতিক পটভূমির বদল ঘটাচ্ছিলেন। সেইসময় উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন: সমুদ্র আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে কীভাবে রেখেছিল ?
উত্তর > সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে
নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে বন্দি করে রেখেছিল। এক্ষেত্রে কবিকল্পনায়
আফ্রিকার দুর্গম সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন: 'বাঁধলে তোমাকে'—কী দিয়ে?
উত্তর> সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে
বেঁধেছিল বনস্পতির নিবিড় পাহারায়, অরণ্যের অন্ধকারে।
প্রশ্ন: 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে। -আলো কৃপণ কেন ?
উত্তর> আফ্রিকা মহাদেশ ঘন নিবিড় অরণ্যে ঢাকা যেখানে সূর্যের আলো
প্রবেশ করতে পারে না। কৃপণ শব্দের অর্থ ব্যয়কুণ্ঠ। অর্থাৎ নিবিড় অরণ্যানীতে ঢাকা আফ্রিকা মহাদেশে আলো প্রবেশ করতে পারে না। অন্ধকারে ঢাকা তাই আলোকে কৃপণ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে বলার অর্থ কী?
উত্তর> 'কৃপণ আলোর অন্ত্যপুরে কথাটির অর্থ যেখানে আলোর প্রবেশপথ সুগম নয়। অর্থাৎ উদ্ধৃতাংশটি জঙ্গলময় আফ্রিকার দুর্গম ও অন্ধকার রহস্যময়তার প্রতীক।
প্রশ্ন; আফ্রিকা নিভৃত অবকাশে কী করছিল?
উত্তর> সমুদ্র যখন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছিল
তখন অরণ্যের অন্ধকারে আফ্রিকা দুর্গনের রহস্য সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল।
প্রশ্ন: কে চিনেছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত।
উত্তর> বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে গৃহীত
প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেতকে আফ্রিকা চিনেছিল।
প্রশ্ন: ‘তোমার চেতনাতীত মনে?—'চেতনাতীত কথাটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা' কবিতার কল্পনা করা যায় এমন সময়কালেরও আগেকার সময়কে বোঝাতে ‘চেতনাতীত” শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে—কীভাবে বিদ্রূপ করেছিল?
উত্তর > পাঠ্য কবিতা অনুসারে আফ্রিকা মহাদেশ আদিম রহস্যময়তায় ভর করে ভয়াবহ ভীষণকেই যেন বিদ্রুপ করেছিল।
প্রশ্ন: ‘শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে – কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল ?
উত্তর> দুর্গম, দুর্ভেদ্য ছায়াবৃতা আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়, বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচন্ড শব্দে শঙ্কাকে হার মানাবে চেয়েছিল।
