আফ্রিকা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর
![]() |
আফ্রিকা
দশম শ্রেণি বাংলা
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন:> 'কালো ঘোমটার নীচে'কালো ঘোমটার নীচে কী ছিল?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আফ্রিকা' কবিতায় বলেছেন কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল আফ্রিকার মানবরূপ। অর্থাৎ আফ্রিকা মহাদেশে মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে যেন অরে
ঢাকা কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল।
প্রশ্ন: আফ্রিকা উপেক্ষিত কেন ?
উত্তর > আফ্রিকার প্রাকৃতিক দুর্গমতা ও রহস্যময়তা পৃথিবীর বাকি অ
থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আধুনিক সভ্যতার আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। তাই সে উপেক্ষিত।
প্রশ্ন: 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,- 'ওরা' কারা ?
অথবা, 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে :- কারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল?
উত্তর > 'আফ্রিকা' কবিতায় 'ওরা' বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বলা হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।
প্রশ্ন: 'এল মানুষ-ধরার দল- 'মানুষ ধরার দল' বলতে কী বোঝ ?
অথবা, 'এল মানুষ-ধরার দল' – কবি কাদের মানুষ ধরার দল বলেছেন ?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় নির্মম, অত্যাচারী ও ক্রীতদাস-ব্যবসায়ী ঔপনিবেশিক শ্বেতাঙ্গ শাসককে ‘মানুষ-ধরার দল' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন : 'এল মানুষ-ধরার দল - কারা এসেছিল ?
উত্তর > বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা' কবিতায় মানুষ-ধরার দল বলতে নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসকের কথা বলেছেন। ইউরোপীয় শাসককুল আফ্রিকায় এসেছিল মানুষ ধরার জন্য। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে
ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানোর ক্ষেত্র।
প্রশ্ন:;'এল মানুষ-ধরার দল – মানুষ-ধরার দলের স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর > কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় ‘মানুষ-ধরার দল’ অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর-অত্যাচারী দাস-ব্যবসায়ী।
তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
প্রশ্ন: নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’— এর দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর> 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকার মানুষদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকের বর্বর ও পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে তাদের বন্য নেকড়ের চেয়েও নিষ্ঠুর এবং হিংস্র বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন: 'গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।-তাৎপর্য লেখো।
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতাবলে আফ্রিকার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই 'আফ্রিকা' কবিতায় তাদের গর্বকে আফ্রিকার গভীর অন্ধকার বনভূমির চেয়ে অন্ধ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: 'সভ্যের বর্বর লোভ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ইউরোপের তথাকথিত 'সভ্য' জাতিগুলি আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানকার সম্পদ লুঠ করে স্থানীয় মানুষদেরকে ক্রীতদাসেয়পরিণত করে। এই নির্মমতাকেই কবি শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীদের 'বর্বর লোভ’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন: 'নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা / — কীভাবে নির্লজ্জ
অমানুষতা প্রকাশ পেল ?
উত্তর > পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে
ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ, স্থানীয় সংস্কৃতির বিনাশ এবং কদর্য দাসপ্রথার প্রচলনের মধ্য দিয়ে শ্বেতাঙ্গা শাসকেরা তাদের 'নির্লজ্জ অমানুষতা'-র প্রকাশ ঘটিয়েছিল।
প্রশ্ন: 'চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।। -'চিরচিহ্ন' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শাসকের অত্যাচারে-অপমানে যুগ
যুগ ধরে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কলঙ্কিত ইতিহাসকে কবি "চিরচিহ্ন শব্দটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রশ্ন: ‘সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়—কী ঘটে চলেছিল?
উত্তর> ‘আফ্রিকা” কবিতা অনুসারে সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের
পাড়াতে দয়াময় দেবতার নামে সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে বেজেছিল পুজোর ঘণ্টা। সেসময় মায়ের কোলে শিশুরা খেলছিল আর কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা ।
প্রশ্ন : ‘শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;—কখন কোথায় শিশুরা খেলছিল ?
উত্তর> ‘আফ্রিকা’কবিতা অনুসারে বর্বর শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাতে আফ্রিকার মানুষেরা যখন শোষিত ও অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখন সমুদ্রপারে তাদের দেশে মন্দিরে বাজছিল ঘণ্টাধ্বনি আর নিশ্চিন্তে নিরাপদে শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে।
প্ৰশ্ন : কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল— কী বেজে উঠেছিল?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’কবিতা অনুসারে কবির সংগীতে
বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।
