ফরাসি দার্শনিকের সমালোচনা ধারা গুলি বিশ্লেষণ করো। নবম শ্রেণী ইতিহাস - Online story

Sunday, 29 March 2026

ফরাসি দার্শনিকের সমালোচনা ধারা গুলি বিশ্লেষণ করো। নবম শ্রেণী ইতিহাস




 প্রশ্ন:  ফরাসি দার্শনিকদের সমালোচনার ধারাগুলি বিশ্লেষণ করো। 

অথবা,ফরাসি বিপ্লবের আগমনে দার্শনিকদের ভূমিকা কী ছিল?


[ উত্তর সংকেত : প্রথম অংশ দার্শনিকদের ভাবনাচিন্তা : ১) মন্তেস্কু, (২) ভলতেয়ার, (৩) রুশো, (৪) বিশ্বকোশ রচয়িতাগণ, (৫) ফিজিওক্র্যাটস্। দ্বিতীয় অংশ  বিপ্লবের সূচনায় দার্শনিকদের ভূমিকা : প্রত্যক্ষ প্রভাব  (১) ষড়যন্ত্র, (২) বাস্তব অবস্থা প্রকাশ, (৩) দৈনন্দিন জীবনের ওপর গুরুত্ব, (৪) প্রচলিত ব্যবস্থার সমালোচনা, ৫) অসাম্য চিহ্নিতকরণ- সংশোধনবাদী মতামত - (১) পরোক্ষ ভূমিকা, (২) ভিন্ন ভিন্ন মতামত, (৩) সীমাবদ্ধ প্রভাব মন্তব্য।]

উত্তর > প্রথম অংশ : যে-কোনো বিপ্লবের মূলে একদিকে যেমন থাকে বৈষয়িক পরিবেশ, অন্যদিকে থাকে মানসিক প্রস্তুতি। ফরাসি বিপ্লবের আগমনে দার্শনিকদের চিন্তাধারা মানসিক প্রস্তুতি সঞ্চার করেছিল।

দার্শনিকদের ভাবনাচিন্তা :

১ মস্তেস্ক : নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সমর্থক মন্তেস্কু রাজার ভগবানপ্রদত্ত ক্ষমতার তীব্র সমালোচনা করেন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে আলাদা করার দাবি জানান।

(২) ভলতেয়ার : প্রগতিবাদী ও যুক্তিবাদী ভলতেয়ার দেশ ও সমাজজীবনে বিশেষ করে চার্চ ও যাজকশ্রেণির মধ্যে যে-সমস্ত কুসংস্কার ও অনাচার প্রবেশ করেছিল তার কঠোর সমালোচনা করেন।

(৩) রুশো : দার্শনিক রুশোর রচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভাবধারা ফুটে উঠেছিল। তাঁর লেখা 'সোশ্যাল কনট্র্যাক্ট' (Social Contract) গ্রন্থে তিনি বলেন যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌম শক্তির উৎস হল জনসাধারণ। সুতরাং জনসাধারণের মত অনুসারে রাজা রাষ্ট্র পরিচালনা না-করলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার অধিকার জনগণের আছে।


বিশ্বকোশ রচয়িতাগণ : সমসাময়িক পণ্ডিতদের সাহায‍্যে ডেনিস দিদেরো যে এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোশ সংকলন করেন তাতে তৎকালীন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতির সমালোচনা করা হয়।

(৫) ফিজিওক্র্যাটস্ : ফরাসি বিপ্লবের আগে একদল অর্থনীতিবিদ বিশেষত ফ্রান্সিস কুইসনে প্রমুখ বাণিজ্য, শিল্প ও কৃষির বিকাশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অবাঞ্ছিত বলে মনে করেন।

দ্বিতীয় অংশ :

ফরাসি বিপ্লবের সূচনায় দার্শনিকদের ভূমিকা : ফরাসি বিপ্লবের আগমনে দার্শনিকদের ভূমিকা ছিল এইরকম—

প্রত্যক্ষ প্রভাব :

(১) ষড়যন্ত্র : সমকালীন আইরিশ দার্শনিক এডমন্ড বার্কের মতে, ফরাসি বিপ্লব ছিল দার্শনিকদের ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি।

(২) বাস্তব অবস্থা প্রকাশ : জর্জ রুদের মতে, দার্শনিকরা আঠারো শতকে দর্শনের ব্যাবহারিক প্রয়োগ করার ফলে ফ্রান্সের বাস্তব অবস্থার অন্যায় ও যুক্তিহীন দিকগুলির প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

(৩) দৈনন্দিন জীবনের ওপর গুরুত্ব : দর্শনকে পারলৌকিক ও আধ্যাত্মিক বিষয় থেকে মানবজীবনের দৈনন্দিন ব্যাবহারিক বিষয়ে নিয়োজিত করেছিলেন এই দার্শনিকেরাই।

(৪) প্রচলিত ব্যবস্থার সমালোচনা : ফ্রান্সের দার্শনিকেরা সরাসরি বিপ্লবের কথা না-বললেও তাঁরা প্রচলিত ব্যবস্থার সমালোচনা করে একটি বিপ্লবী মানসিকতা গড়ে তুলেছিল।

(৫) অসাম্য চিহ্নিতকরণ : দার্শনিকেরা সমস্ত বিষয়ে একমত না-হলেও বিপ্লবের আগের যুগের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য সম্পর্কে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছিল না।

◆সংশোধনবাদী মতামত : ঐতিহাসিক মর্স স্টিফেনস, ডেভিড টমসন প্রমুখের মতে, বিপ্লবের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। ফরাসি বিপ্লবের আগমনে দার্শনিকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, কারণ—

(১) পরোক্ষ ভূমিকা : ফরাসি বিপ্লবের অনেক আগেই এই বিখ্যাত দার্শনিকদের মৃত্যু হয়েছিল তাই বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহে দার্শনিকরা সরাসরি অংশ নেননি।

(২) ভিন্ন ভিন্ন মতামত : সমকালীন দার্শনিকদের মতাদর্শ একইরকম ছিল না। কেউ ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের সমর্থক, আবার কেউ ছিলেন প্রজাতন্ত্রের সমর্থক।

(৩) সীমাবদ্ধ প্রভাব : দার্শনিকদের রচনা পাঠ কেবলমাত্র শিক্ষিত বুর্জোয়া বা মুষ্টিমেয় অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

মন্তব্য : ফরাসি বিপ্লবের আগমনে দার্শনিকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তা ছিল পরোক্ষ।