এলো মানুষ ধরার দল। কোথায় এলো মানুষ ধরার দল ? এসে কি করেছিল? আফ্রিকা কবিতা || দশম শ্রেণী - Online story

Friday, 13 March 2026

এলো মানুষ ধরার দল। কোথায় এলো মানুষ ধরার দল ? এসে কি করেছিল? আফ্রিকা কবিতা || দশম শ্রেণী



 প্রশ্ন:  'এল মানুষ-ধরার দল,—কোথায় এল? ‘মানুষ-ধরার দল’ এসে কী করেছিল?

 উত্তর>  নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসক তথা ইউরোপীয় শাসককুল

আফ্রিকায় এসেছিল।

|| পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ। এই সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর অত্যাচারী দাস-ব্যবসায়ী। তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল। শেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা ও নির্যাতনে আফ্রিকার বনজঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল। এই ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র আর কদর্য। তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসে আফ্রিকাবাসীকে বন্দি করে দাসে পরিণত করে রাখত। কবির মতে নিরীহ মানুষকে পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করার মিথ্যা গর্ব কিংবা অহমিকা আসলে তাদের অসভ্য অমানবিকতার প্রকাশ। ইউরোপীয় শাসককুলের বর্বর লোভের এই ঘৃণ্য-করুণ ইতিহাসটিই কখনও 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' কিংবা 'এল মানুষ-ধরার দল' শব্দবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।


প্রশ্ন:  'হায় ছায়াবৃতা, – 'ছায়াবৃতা' বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:  'ছায়াবৃতা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ছায়া দ্বারা আবৃতা বা ছায়াঢাকা।

দুর্গম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানের আলো থেকে সে বঞ্চিত। দুর্গমতার কারণে উনিশ শতকের আগে পর্যন্ত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব সংস্কৃতি বাকি বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গেছে তার রহস্যময় অরণ্যের মতোই।

॥ সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী তথা মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ।

মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশকে ধিকার জানিয়ে লেখা 'আফ্রিকা' কবিতাটি আফ্রিকার সমাজ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। সৃষ্টির আদিতে আফ্রিকা তৈরি হয়েছিল প্রকৃতির খেয়ালে। আদিম প্রকৃতি নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলেছিল তাকে। বাকি পৃথিবীর কাছে সে ছিল

অপরিচিত। পরবর্তীকালে সভ্য সমাজের দৃষ্টি পড়ে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের ওপর। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানের ক্ষেত্র। এমনক সেদেশের আদিম প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা সম্পদও তাদের নজর এড়ায় না। পৃথিবীর তথাকথিত সভ্য দেশগুলির লোভ আর অমানবিকতায় লুণ্ঠিত হয় আফ্রিকা। তার ধুলো-মাটি কাদা হয় সেখানকার মানুষদের রক্তে আর কান্নায়। লেখা হয় তার অপমানের ইতিহাস। কিন্তু কবি মানবতার পূজারি। তাই সভ্যতার নামে মানবতার এই অপমান তিনি সহ্য

করেননি। দিনবদলের সন্ধিক্ষণে তাই পৃথিবীর সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত আফ্রিকার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। সভ্যতার এই সংকটের দিনে ঘৃণা বা হিংসা নয়, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা আর সংবেদনশীলতাকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন তিনি।