বিদ্রুপ করেছিলে ভীষণ কে, বিদ্রুপের ছদ্মবেশে। বিদ্রুপের ছদ্মবেশের শঙ্কাকে হারানোর তাৎপর্য কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও। আফ্রিকার কবিতার দশম শ্রেণি।
![]() |
প্রশ্ন: 'বিদ্রুপ করছিলে ভীষণকে/বিরূপের ছদ্মবেশে,/ শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে ভীষণকে বিদ্রুপ করা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অথবা 'আফ্রিকা' কবিতায় বিরূপের ছদ্মবেশে শঙ্কাকে হার মানানোর তাৎপর্য কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর> বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্ধকারে জন্ম নেওয়া
নবজাতক আফ্রিকা যখন রহস্যময় দুর্বোধ্য প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিল
তখন তার অন্তর্জগতে ভীতি জাগ্রত হয়েছিল। সেই ভয়ংকর ভীষণ ভীতিকে হার মানাতে চেয়ে তাকে আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছে। প্রকৃতির রহস্যময়তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে, নিজের জন্মদাত্রী প্রকৃতি মায়ের কাছে বিরূপের ছদ্মবেশে তার আত্মপ্রকাশ।
|| মা হারানো শিশুর মতো জন্মকালেই এশিয়া মহাদেশ থেকে আলাদা হয়ে পড়ে আফ্রিকা। অরণ্যময় দুর্গম আফ্রিকা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে ছিল। সভ্যতার সামান্যতম আলোক সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না। থেমে থাকার অর্থ মৃত্যু। তাই অবজ্ঞা, অশিক্ষা, অজ্ঞানতা, অসহায়তার হাত থেকে মুক্তি পেতেই হবে তাকে। সে বেছে নিল প্রত্যাঘাতের পথ। তার চেতনাতীত মনে অনুরণিত হচ্ছিল জেগে ওঠার নতুন মন্ত্র। বিরূপের ছদ্মবেশে সে ভীষণকে বিদ্রুপ করছিল। হার মানাতে চাইছিল শঙ্কাকে। সে
নিজেকে উগ্র ও বিভীষিকাময় করে তুলে তীব্র শব্দে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করে, যার ফলে শঙ্কা ভীত ও পরাস্ত হয়।
প্রশ্ন : ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,—ওরা কারা? ওদের নগ্নরূপের পরিচয় দাও ।
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদের ঘোরতর বিরোধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা কবিতা থেকে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটিতে ‘ওরা’ বলতে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের বোঝানো হয়েছে।
|| এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' পঙ্ক্তিটির সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে ও তার নগ্নরূপকে তুলে ধরেছেন। সৃষ্টির প্রথম থেকে বিচ্ছিন্ন আফ্রিকা নিভৃতে দুর্গমের রহস্য সন্ধানে ব্যাপিত ছিল। তার চেতনাতীত মনে জাগ্রত হচ্ছিল নতুন মন্ত্র। নিজেকে উগ্র বিভীষিকাময় তাণ্ডবে শামিল করে শঙ্কাকে সে হার মানাচ্ছিল একটু একটু করে। সভ্যসমাজের উপেক্ষার পাত্র ছিল আফ্রিকা। তারপর
একদিন বিষবাষ্প গ্রাস করল আফ্রিকার স্বাভাবিক সারল্যকে। দাস ব্যাবসার মতো চরম পাশবিকতা নিয়ে উপস্থিত হল মানুষরূপী হিংস্র বর্বরের দল। যাদের হাতকড়িতে আবদ্ধ হল আফ্রিকার অসহায় মানুষ। এই সাম্রাজ্যবাদী শাসকের বর্বর লোভ নগ্ন করেছিল নিজেদের অমানবিকতাকে। আফ্রিকার অধিবাসীদের মানবিকতাকে উপেক্ষা করে শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীরা দিনের-পর-দিন আফ্রিকার সভ্যতা- সংস্কৃতিকে দলেছে, পিষেছে, ধ্বংস করেছে। এককথায় নানানভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনে আফ্রিকার শৃঙ্খলিত হওয়ার ঘটনাকে কবি উদ্ধৃত পঙ্ক্তিতে ব্যক্ত করেছেন।
