অসুখী একজন কবিতায় মধ্যে যে মানব হৃদয়ে একান্ত আর্তির প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো
![]() |
প্রশ্ন : পাঠ্য কবিতাটি অতৃপ্ত মানবহৃদয়ের একান্ত আর্তির প্রকাশক ‘অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
অথবা, 'অসুখী একজন' কবিতায় বিশ্বশান্তির বার্তা নিহিত আলোচনা করো।
অথবা, ‘অসুখী একজন' কবিতাটিকে যুদ্ধবিরোধী কবিতা বলা যায় কিনা—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর> পাবলো নেরুদার কবিতা ‘অসুখী একজন’– এই ব্যঞ্জনাময় নামকরণ থেকেই বোঝা যায় যে, কবিতাটি অতৃপ্ত কোনো বাসনার প্রতিচ্ছবি।
অনেক সময় কবি-সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিচ্ছবি যা সর্বজনের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় তা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়। আমাদের পাঠ কবিতাটিতেও তা ঘটেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে।দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁর প্রিয় নারী তাঁর অপেক্ষায় থাকে, কেন-না সে জানে না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। কবিতার শেষ পর্যন্ত এই অপেক্ষাকেই আমরা দেখেছি। সময় অতিক্রান্ত হয়, আবছা হয় স্মৃতি, অপেক্ষার বছরগুলো ভারী হয়। প্রাণঘাতী যুদ্ধের বীভৎসতা তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে। দেবালয়, শহর সব কিছু ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও অতৃপ্ত হৃদয়ে সেই মেয়েটি অপেক্ষার আলোকশিখা দু-হাত দিয়ে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে কবিও অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রতীক্ষমাণা ভালোবাসার কাছে। সব কিছু।ধ্বংসের মাঝেও কবির হৃদয়ে অপেক্ষরতা নারীটির মৃত্যু নেই। চিরায়ত অতৃপ্ত মানবার্তিই এই নারী। কবির অতৃপ্ত মন তার কাছে বারবার ফিরে যেতে চায় বলেই তিনি বলে ওঠেন, ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।' স্পষ্টতই কবিতাটিতে কবি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বিশ্বশান্তির বার্তা প্রেরণ করেছেন পাঠকের কাছে।
