প্রার্থনা কবিতায় হৃদয়ে উৎস-মুখ বলতে কবি কি বুঝিয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণী বাংলা প্রার্থনা কবিতা - Online story

Tuesday, 30 December 2025

প্রার্থনা কবিতায় হৃদয়ে উৎস-মুখ বলতে কবি কি বুঝিয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণী বাংলা প্রার্থনা কবিতা





 প্রশ্ন: প্রার্থনা কবিতা হৃদয়ের  উৎসমুখ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : মানুষের প্রাণের আবেগ প্রকাশের উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হল কথা বা মুখনিঃসৃত শব্দ, আর এই আবেগের উৎসস্থল তো মানবহৃদয়ই। আপন আপন বিশ্বাসের ভিত্তিভূমি হল মানবহৃদয়। এই হৃদয়ই পারে সকল প্রকার বাধাবিঘ্নকে অতিক্রম করে প্রাণের কথা বা মনের কথাকে উন্নতশিরে সাহসিকতার সঙ্গে প্রকাশ করতে। হৃদয়ের অন্তঃস্থল বা হৃদয়ের উৎসমুখ' বলতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই মানবতাকেই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন:  “যেথা নির্বারিত স্রোতে.... ” 'নির্বারিত স্রোত' কথার অর্থ লেখো।
উত্তর : ‘বারিত' বলতে বোঝানো হয় নিষিদ্ধ বা আবদ্ধতাকে। অর্থাৎ ‘নির্বারিত' কথার অর্থ হল যা নিষিদ্ধ নয় বা আবদ্ধ নয়- এমন পরিস্থিতি।
নির্বারিত স্রোত কোনো বাধাবিঘ্নকে মেনে চলে না। কোনো শক্তিই এই স্রোতকে আটকে রাখতে পারে না। কবির আশঙ্কা প্রাচীন ভারতবাসীদের মতো বর্তমান ভারতীয়রাও সকল বাধাবন্ধন, সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করেই দুর্নিবার গতিতে তাদের কর্মসাধনার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে। 'প্রার্থনা' কবিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাধাহীনভাবে এগিয়ে চলার
গতিকেই 'নির্বারিত স্রোতা বলে বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন:  'প্রার্থনা' কবিতায় ভারতীয়দের বৈশিষ্ট্য কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রার্থনা' কবিতায় প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চা, চিন্তাচেতনা, সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র ছিল মুক্ত বা বন্ধনহীন, অর্থাৎ সেখানে স্বাধীনভাবে ভারতীয়রা
জ্ঞানচর্চার সুযোগ পেতেন। মানুষ উন্নত মস্তকে সাহসিকতার সঙ্গে নিজের স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে পারতেন। বাক্য সেখানে মানবহৃদয়ের উৎসমুখ থেকে উৎসারিত হত, ভারতীয়দের কর্মধারা ‘দেশে দেশে দিশে দিশে ছড়িয়ে যেত। তুচ্ছ আচারের বালুকারাশি প্রাচীন ভারতীয়দের বিচারবোধকে অবরুদ্ধ
করে রাখেনি।

প্রশ্ন:  ‘প্রার্থনা কবিতায় কবি 'তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নৈবেদ্য' কাব্যের ৭২ নং কবিতা 'প্রার্থনা'- প্রশ্নোদ্ভূত শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। 'আচার' অর্থাৎ নানাপ্রকার রীতিনীতি।
ভারতীয়রা যুগ যুগ ধরেই নানা ধরনের ‘আচার মেনে আসছে, যার অধিকাংশই অবৈজ্ঞানিক চিন্তার ফসল, যা সমাজের অগ্রগতির পরিপন্থী। বালুকারাশিও তেমনই চলার পথকে মসৃণ না-করে কঠিন করে তোলে, অগ্রগমনের পথে
প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই আচার-বিচারের সংকীর্ণতাকে বোঝাতেই কবি প্রশ্নোদ্ভূত শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্ন:  “বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি”—উদ্ধৃতাংশে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
উত্তর : অজস্র সংস্কারের নাগপাশে নিজেদেরকে আবদ্ধ করে বর্তমানে ভারতীয়রা নিজেদের চলার পথকেই অপ্রশস্ত করে ফেলেছে। ফলে যুক্তি দিয়ে বিচার করার ইচ্ছা বা প্রবণতা থেকে তারা সরে যাচ্ছে। এই মানসিক অসারতাকে দূর করতে হবে। সব কিছুকে বিচারবিশ্লেষণ করতে হবে মুক্তির আলোকে। তুচ্ছ সংস্কারের আবিলতা যাতে জীবনকে গ্রাস করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ভারতবাসীকে। এভাবেই ভারতীয়রা তাদের প্রাচীন গৌরবকে ফিরে পেতে পারবে। এমন ইঙ্গিতই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"প্রার্থনা' কবিতার উদ্ধৃত অংশে করেছেন।