হলুদ পোড়া গল্পে বুড়ো ঘোষালের চরিত্রটি আলোচনা করো। দ্বাদশ শ্রেণি
![]() |
প্রশ্ন :; ‘হলুদ পোড়া গল্পে বুড়ো ঘোষালের চরিত্র পর্যালোচনা করো।
উত্তর : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া গল্পের অন্যতম পার্শ্বচরিত্র এই বুড়ো ঘোষাল ওরফে পঙ্কজ ঘোষাল। চক্রবর্তী পরিবারের মোসাহেবী করেই তার দিন চলত; অন্তত বলাই চক্রবর্তী যতদিন বেঁচে ছিল। বলাই চক্রবর্তীরমৃত্যুর পর তার ভাইপো যখন সব কিছুর ভার নিল তার ঠিক কুড়ি দিনের মাথায় তার অর্থাৎ নবীনের স্ত্রী দামিনীর ওপর অশরীরী আত্মা ভর করে। গাঁয়ের অন্যান্য আগ্রহীদের সাথে পঙ্কজ ঘোষালও সেখানে হাজির হয়। গাঁয়ের ধীরেন ডাক্তার যখন এসব দেখে বন্ধুস্থানীয় নবীনকে শা' পুরের কৈলাশ ডাক্তারকে ডাকার পরামর্শ দিচ্ছিল তখন এই পঙ্কজ ঘোষালই তা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে কুঞ্জ গুণিনকে ডাকার পরামর্শ দেয়। নবীনও তাতে সম্মত হয়। কুঞ্জ এসে তার গুণপনা শুরু করে দেয়। দুর্বোধ্য মন্ত্র উচ্চারণের সাথে সাথে সে দামিনীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এরপর সে তার সম্মোহিনী বিদ্যার সাহায্যে দামিনীকে যখন নিজের আয়ত্তে এনে নাকে হলুদ পোড়া শোঁকায় এবং জিজ্ঞেস করে কে তুই ? তখন উত্তর আসে- আমি শুভ্রা। তখনই অতি উৎসাহী হয়ে বুড়ো ঘোষাল শুভ্রার প্রকৃত খুনি কে সেটা জিজ্ঞেস করতে বলে। কুঞ্জের প্রশ্নের উত্তরে দামিনীর মুখ থেকে বলাইয়ের নাম উঠে আসে। এ কথা শুনে উৎসাহীদের কাছে কুত্ত্বের গুণপনা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন কুঞ্জের হয়ে এই বুড়ো ঘোষাল সাফাই দিতে শুরু করে। তার কথায় শুধু জ্যান্ত মানুষ কি গলাটিপে মারে? আর কিছু মারে না। তার আরও ব্যাখ্যা হিসেবে বলেন শ্মশানে-মশানে পথহারাদের গলা মটকে দেয় কীসে তবে। যে ব্যাখ্যা কুঞ্জের দেবার কথা তা দিতে থাকে বুড়ো ঘোষাল। যখন মানুষের মনে সময়ের হেরফের, শুভ্রার খুনি বলাই চক্রবর্তী?—এমন খটকা লাগে তখন ঘোষাল ব্যাখ্যা দেয় বলাই চক্রবর্তী এ খুন কারোর ওপর ভর করে করিয়েছে। গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদিতে পার্শ্বচরিত্রগুলি গভীরতা, দ্বন্দ্ব।
এবং প্রসঙ্গ যোগ করে মূল প্লটকে সমৃদ্ধ করে। এক্ষেত্রে বুড়ো ঘোষালের চরিত্রটি সেদিক থেকে সার্থক।
