পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী ম পথের দাবী গল্পে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কি জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সময় কি পরিস্থিতি তৈরি হয়? - Online story

Friday, 31 July 2026

পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী ম পথের দাবী গল্পে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কি জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সময় কি পরিস্থিতি তৈরি হয়?





প্রশ্ন > পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।- 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

উত্তর > আলোচ্য অংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' রচনাংশ থেকে গৃহীত। পাঠ্যাংশটি থেকে জানা যায়, পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অসাধারণ পারদর্শী, ডাক্তারিতে বিলাতি ডিগ্রিধারী এক রাজদ্রোহী।

|| সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে যাকে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হল সে নিজের পরিচয় দিল গিরীশ মহাপাত্র বলে। রুগ্ণ চেহারার বছর ত্রিশ-বত্রিশের লোকটির সাজপোশাক ভারী অদ্ভুত। কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল অন্তর্ভেদী। সে তেলের খনিতেই কাজ করত। বর্মা থেকেই সে রেঙ্গুনে এসেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটবুল, একটা টাকা, কিছু বিড়ি, একটা দেশলাই আর একটা গাঁজার কলকে। নিমাইবাবু তাকে গাঁজার কলকে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে সে। জানায়, কলকেটা সে পথে কুড়িয়ে পেয়ে রেখে দিয়েছে। সে নিজে গাঁজা খায় না বটে, তবে প্রয়োজনে অন্যকে বানিয়ে দেয়। কিন্তু তার কথায় কেউই বিশ্বাস করে না। বরং গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা, সাজপোশাক আচার-আচরণ ও কথাবার্তা থেকে থানায় উপস্থিত সকলেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যক্তি কোনোভাবেই সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না। তাই তাকে নিয়ে খানিক হাসিতামাশার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


প্রশ্ন > 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে- বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও ।

অথবা, 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে— বাবুটি কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ অধীনস্থ এক বাঙালি পুলিশকর্তা নিমাইবাবু। তিনি পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট হিসেবে চিহ্নিত ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।

। বছর ত্রিশ-বত্রিশের ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রের ফরসা রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। রোগা চেহারার মানুষটি যখন কাশতে কাশতে থানায় প্রবেশ করল তখন তার দেহের সামগ্রিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সেটি দ্রুত বেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু তার রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি ভারী অদ্ভুত। জলাশয়ের মতো গভীর সে চোখের সঙ্গে খেলা চলবে না। দূরে থাকতে হবে। সেই ক্ষীণ চোখের অতলে কোথাও যেন প্রাণশক্তি লুকিয়ে আছে, আর সেজন্যই সে বেঁচে আছে।

গিরীশ মহাপাত্র যে অত্যন্ত শৌখিন মানুষ তা তার বেশভূষাতেই প্রমাণিত চুলে বাহারি ছাঁট। তাতে সুগন্ধি নেবু তেল। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মখমল পাড়ের কালো শাড়ি। হাঁটু পর্যন্ত মোজা লাল রিবন দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে নাল লাগানো বার্নিশ করা পাম্প শু । হাতে হরিণের শিং দিয়ে বাঁধানো বেতের শৌখিন ছড়ি। এসব দেখেই নিমাইবাবু রসিকতার ছলে কথাগুলি বলেছিলেন।