অদল বদল গল্পের কিছু তিন নম্বরে প্রশ্নের উত্তর
অদল বদল গল্পে কিছু ছোট প্রশ্নের উত্তর
অদলবদল গল্পের বিষয়সংক্ষেপ :
এক হোলি উৎসবের দিনে গল্পের সূত্রপাত। অমৃত ও ইসাব–দুই বন্ধুর পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে নতুন জামা পর্যন্ত সব কিছুই একরকম। এমন হরিহর আত্মা দুই বন্ধু গ্রামের দুষ্টু ছেলেদের সহজ শিকারে পরিণত হয় এবং তাদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অমৃত নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে কুস্তিতে রাজি না-হলে, কালিয়া নামে একটি ছেলে তাকে ফেলে দেয় বন্ধুর হেনস্তায় ক্রুদ্ধ ইসাব কালিয়াকে আক্রমণ করে। ঘটনাচক্রে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। দরিদ্র চাষি পরিবারের সন্তানের কাছে নতুন জামা ছিঁড়ে ফেলা প্রায় ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা ইসাবকে এক অভাবনীয় প্রস্তাব দেয় অমৃত। সে নিজের অক্ষত জামাটি ইসাবের ছেঁড়া জামার সঙ্গে অদলবদলের কথা বলে। সে জানায়, তার বাবার কাছে মার খাওয়া থেকে বাঁচাতে তার মা রয়েছেন। কিন্তু ইসাবের মা নেই, তাই তাকে বাঁচানোর কেউ নেই। অমৃত এই গভীর বিশ্বাসে ইসাবকে নিজের জামা পরিয়ে দেয়। দুই বন্ধুর এই লেনদেনের দৃশ্য ইসাবের বাবা দেখে ফেলেন। তাঁর মধ্যে এক পরিবর্তন ঘটে। অমৃতর কথা ও কাজ, তাঁকে তাঁর নিজের কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়। মাতৃহীন সন্তানকে শুধু শাসন নয়, মাতৃসুলভ মমতাদান করাও যে পিতারই কাজ, তা তিনি বুঝতে পারেন। ছেলে দুটিকে কাছে টেনে নিয়ে তিনি অমৃতর মা ও পাড়াপড়শিকে ডেকে তাদের গল্প শোনান
গ্রামের ছেলেরাও অমৃত ও ইসাবের নামে ধ্বনি তুলতে থাকে। অবশেষে গ্রামপ্রধানের কানে বিষয়টি পৌঁছোলে তিনি অমৃত ও ইসাবের নাম পালটে যথাক্রমে 'অদল' ও 'বদল' রেখে দেন।
অদলবদল গল্পের নামকরণের সার্থকতা :
পান্নালাল প্যাটেল রচিত 'অদল বদল' গল্পের মূল বিষয়টি অমৃত ও ইসাব নামক দুই বন্ধুর জামা অদলবদলের ঘটনা। কিন্তু আপাত নিরীক
এই ঘটনাটিই কাহিনির গতি নির্ধারণ করে, এমনকি গল্পের চরিত্রগুলির অবস্থান বদলে, তাদের রূপান্তর ঘটায়। গল্পে দেখা যায়, অমৃতর হেনস্থা দেখে ক্রুদ্ধ ইসাব, তাকে বাঁচাতে যায়। ঘটনাচক্রে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ভীত ইসাবকে নিজের জামা দিয়ে অমৃত রক্ষা করতে চায়। অমৃত যদি ইসাবের সঙ্গে তার এই জামা বদল না-করত, তবে অমৃতর চিন্তাভাবনার উদারতা ও উচ্চতা, ইসাবের বাবা ও পাড়াপড়শিদের কাছে অজানাই থেকে যেত। এমনকি এই ঘটনার সূত্রেই মাতৃহীন সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও ইসাবের বাবা হৃদয়ে অনুভব করেন।
সুতরাং, অতিসাধারণ একটি ছোটোগল্প, নাটকীয় মোড় নেয় এই অদলবদলের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে। তাই এই জামাবদলের ঘটনাটিকে গল্পের ক্লাইম্যাক্সও বলা যেতে পারে। আবার গল্পের শেষ অংশে এসে দেখা যায়, ঘটনাটি গ্রামপ্রধানের কানে যাওয়ায় তিনি স্বয়ং ছেলে দুটির নামকরণ করেছেন ‘অদল' ও 'বদল'। জামার অদলবদলটুকু শুধু গল্পের কেন্দ্রীয় ঘটনামাত্র নয়, সমগ্র কাহিনির সার্থক নামকরণ শেষে ইসাবের বাবার সঙ্গে সঙ্গে গোটা গ্রামের মানসিক রূপান্তরের এক প্রচ্ছন্ন প্রতীকী মোটিফ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই গল্পটির ‘অদল বদল' নামকরণ সার্থক ও গভীরভাবে ব্যঞ্জনাবাহী।
প্রশ্ন: 'ওদের একরকম পোশাক দেখে দলের একটি ছেলে বলল,'- ওদের পোশাকের বর্ণনা দাও। দলের ছেলেটি কী বলেছিল ?
উত্তর> পান্নালাল প্যাটেল রচিত 'অদল বদল' গল্পের অভিন্নহৃদয় বন্ধু অমৃত ও ইসাবকে 'ওদের' বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তাদের পোশাক বলতে সদ্য তৈরি করা দুটি নতুন জামার কথা বলা হয়েছে; যেগুলির রং, মাপ ও কাপড় সবই ছিল একরকম।
> দলের ছেলেটি অমৃত ও ইসাবকে একই পোশাকে দেখে কিছুটা হলেও ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের কুস্তি লড়ার প্রস্তাব দেয়। কারণ সে দেখে নিতে চেয়েছিল যে, তারা কি শুধু পোশাকেই এক নাকি শক্তিতেও এক।
প্রশ্ন : ‘অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।—অমৃত তার বাবা-মাকে কেন, কীভাবে জ্বালিয়েছিল ?
উত্তর > প্রখ্যাত গুজরাটি গল্পকার পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে অমৃতও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ইসাবের মতো একটি নতুন জামা পাওয়ার জন্য বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।
|| শিশুরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য বাবা-মাকে জ্বালাতন করেই থাকে ‘অদল বদল’ গল্পে নতুন জামার জন্য অমৃত অবশ্য তার বাবা-মাকে একটু মাত্রাতিরিক্ত জ্বালাতন করেছিল। তার প্রথম ফতোয়া ছিল ইসাবের মতো নতুন জামা না-হলে স্কুলে যাবে না। তার যে নতুন জামা নেই তা বোঝাবার জন্য ইচ্ছা করে সে জামা ছেঁড়ে, রাতে ইসাবদের গোয়ালে লুকিয়ে থাকে। এভাবেই অমৃত তার বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল।
প্রশ্ন > ‘ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।—ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল কেন? মেজাজ চড়ে যাওয়ায় সে কী করেছিল?
উত্তর > প্রখ্যাত গুজরাটি গল্পকার পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্পে ইসাবের অন্তরঙ্গ বন্ধু অমৃত হোলির এক পড়ন্ত বিকেলে নতুন জামা পরে কুস্তি লড়তে রাজি না-হলেও কালিয়া বলে একটি ছেলে তাকে জোর করে ছুড়ে মাটিতে ফেলে দেয়, আর ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে—'কালিয়া জিতেছে, অমৃত হেরে গেছে, কী মজা, কী মজা।' এই কথা শুনেই ইসাবের মেজাজ চড়ে
গিয়েছিল।
| মেজাজ চড়ে যাওয়ায় ইসাব নিজেই কালিয়ার হাত ধরে কালিয়াকে তার সঙ্গে কুস্তি লড়তে বলে। বলে-'আয়, আমি তোর সঙ্গে লড়ব।' প্রথমে কালিয়া ইতস্তত করলেও পরে কুস্তি শুরু হয়ে যায়। ইসাব কালিয়াকে এমন ল্যাং মারে যে, সে ব্যাঙের মতো হাত-পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে চ্যাঁচাতে থাকে। এভাবেই বন্ধু অমৃতর অপমানের প্রতিশোধ নেয় ইসাব।
প্রশ্ন: ‘বলতে গেলে ছেলে দুটোর সবই একরকম, – ছেলে দুটো কে কে? তাদের মিল ও অমিল উল্লেখ করো।
অথবা, অমৃত ও ইসাবের মধ্যে মিল ও অমিল কী ছিল?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্পে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু অমৃত ও ইসাবের কথা বলা হয়েছে।
|| গল্পের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র অমৃত আর ইসাব। বছর দশেকের এই দুই বালকের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। দুজনের বাবার পেশা থেকে আরম্ভ করে জমিও ছিল প্রায় সমান সমান। এদের পড়াশোনা একই স্কুলে, বেশভূষাও প্রায় একইরকম। উভয় পরিবারেরই লড়াই ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে। তাই বিপদাপদে তাদের মহাজনদের কাছে হাত পাততে হত। মোড়ের মাথায় তাদের বাড়ি দুটোও ছিল মুখোমুখি।
সম্প্রদায়গত ভিন্নতা ছাড়া আর একটি জায়গাতেই অমিল ছিল তাদের মধ্যে। সেটি হল অমৃত তার মা, বাবা ও তিন ভাইয়ের সঙ্গে থাকত। আর ইসাব থাকত শুধুই বাবার সঙ্গে।
প্রশ্ন: ‘অমৃত আর ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করল।-“রণভূমি বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তাদের রণভূমি ত্যাগের কারণ কী?
উত্তর> 'রণভূমি' শব্দের অর্থ 'যুদ্ধক্ষেত্র'। 'অদল বদল' গল্পে উক্ত শব্দটি সেই অর্থে ব্যবহৃত না-হলেও বন্ধু অমৃতকে রক্ষা করতে ছেলের দলসহ কালিয়াকে শিক্ষা দিতে গিয়ে ইসাব যা করেছিল তা যুদ্ধেরই মতো।
॥ অমৃতকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামাতে কালিয়া তাকে ল্যাং মারে। ইসাব বন্ধুর এই অপমান সহ্য না-করতে পেরে কালিয়াকেও পালটা ল্যাং মেরে দেয়। কালিয়া কাঁদতে শুরু করলে তার বাবা-মা এসে ওদের পেটাতে পারে-এ কথা ভেবে ভয়েই অমৃত আর ইসাব সে জায়গা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
প্রশ্ন: 'ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।- 'ওরা' কারা? তারা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল কেন ?
উত্তর> প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে 'ওরা' বলতে অমৃত ও ইসাবের কথা বলা হয়েছে।
|| কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামার পকেট ছিঁড়ে গিয়েছিল। জামা ছেঁড়ার জন্য বাড়িতে বকুনি খাওয়ার ভয়ে অমৃত ও ইসাবের এই অবস্থা হয়।
প্রশ্ন: ‘হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। –অমৃতর মাথায় কখন, কী বুদ্ধি খেলেছিল ?
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্প অনুসারে, হোলির দিন দুই বন্ধু অমৃত আর ইসাব নতুন জামা পরে বেরিয়েছিল। তবে পাড়ার একদল ছেলের সঙ্গে কুস্তির ফলে ইসাবের নতুন জামাটি ছিঁড়ে যায়। জামা ছেঁড়ার অপরাধবোধে ওরা ভয় পেয়ে যায়। কারণ ইসাবের বাবা তাকে মারবে। অমৃতকে তার মা বাঁচালেও, মাতৃহীন ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই। ইসাবকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃতর মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে বন্ধুর ছেঁড়া জামাটি গায়ে দিয়ে নিজের অক্ষত একইরকম জামাটি ইসাবকে দেয়। এভাবেই ভালোবাসা, ত্যাগ ও কৌশলে ভর করে, অমৃত তার বন্ধুকে বাঁচিয়েছিল।
প্রশ্ন: কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে। -কার উক্তি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের কোন্ দিকটি প্রকাশিত?
উত্তর > আলোচ্য উক্তিটি পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল' গল্পের অন্যতম চরিত্র অমৃতর মুখে শোনা যায়।
| উক্তিটি থেকে অমৃতর তার মায়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা ও নির্ভরতা প্রকাশ পায়। সে জানে, নতুন জামা ছিঁড়ে ফেলা তাদের মতো দরিদ্র পরিবারে যতই অপরাধের হোক-না-কেন, মায়ের কাছে ছেলের মূল্য অনেক বেশি। বাবার মারের থেকে বাঁচানোর জন্য মা সবসময়েই তার পাশে থাকেন। কিন্তু মাতৃহারা ইসাবের সেই উপায় ছিল না। তাই তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল অমৃত।
প্রশ্ন: কিন্তু ওর কপাল ভালো দিনটা ছিল হোলির, 'কপাল ভালো' বলার কারণ কী ? হোলির দিনের কোন বিশেষত্বের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর > লেখক পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্পে 'ওর' বলতে এখানে অমৃতর কথা বলা হয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বন্ধু ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য তার ছেঁড়া জামা নিজে পরে নিলেও সেদিন তাকে মায়ের মার খেতে হয়নি। এই ঘটনাকে 'কপাল ভালো' বলা হয়েছে।
| হোলির দিনে রং দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছোটো ছেলেদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েই থাকে, তাই অমৃতর মা ছেঁড়া জামা দেখে শুধুমাত্র ভুরু কুঁচকে ছেঁড়া অংশ রিফু করে দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: 'এতে দুজনেরই ভয় কেটে গেল, দুজন কে কে? তাদের কীভাবে ভয় কেটে গেল ?
উত্তর > প্রখ্যাত গুজরাটি লেখক পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতিতে দুজন বলতে অমৃত আর ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
| হোলির দিন কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে ইসাব জামা ছিঁড়ে ফেলেছিল। অমৃত বন্ধুকে মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে নিজের ভালো জামাটা ইসাবকে দিয়ে নিজে ইসাবের ছেঁড়া জামা পরে। সেদিন অমৃতর কপাল ভালো ছিল, কেন-না সবাই জানত হোলির দিনে।ছেলেরা অল্পবিস্তর টানাহ্যাঁচড়া, ধস্তাধস্তি করে খেলাধুলা করে। তাই অমৃতর মা তার জামাটা ছেঁড়া দেখেও কিছু মনে করলেন না। গল্পকার বলেছেন— 'মা যখন দেখলেন জামাটা ছিঁড়েছে, উনি ভুরু কুঁচকোলেন কিন্তু মাফ করে দিলেন।' এরপর তিনি একটি সুঁচসুতো নিয়ে ছেঁড়া জামাটা রিফু করে দেন। এতে দুজনের ভয় কেটে যায়।
প্রশ্ন : 'তোরা অদল-বদল করেছিস, হুম্-কার উক্তি? এই উক্তিটির মধ্যে যে-হুমকি প্রচ্ছন্ন রয়েছে, তার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর > ‘অদল বদল' গল্পে উক্তিটি অমৃত ও ইসাবের গ্রামের একটি সমবয়সি ছেলের।
কালিয়ার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেলে বাবার কাছে মার খাওয়ার ভয়ে সে ও অমৃত পরস্পরের জামা অদলবদল করে।
গ্রামের দুষ্টু ছেলের দল, যারা অমৃত ও ইসাবকে কুস্তি লড়তে বলেছিল, তাদের মধ্যেকার একটি ছেলে তাদের জামা অদলবদলের ঘটনা দেখতে পেয়ে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করে। উক্তিটির মধ্যে দুষ্টুমি করে তাদের আনন্দ মাটি করার জন্য বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও ছিল।
প্রশ্ন: ‘ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হল, — ওঁর' বলতে কার কথা বলা হয়েছে? শান্ত গলা শুনে চিন্তা হওয়ার কারণ কী?
উত্তর/ উদ্ধৃতাংশে 'ওঁর' বলতে পান্নালাল প্যাটেল বিরচিত ‘অদল বদল’ গল্পের অন্যতম চরিত্র ইসাবের বাবার কথা বলা হয়েছে।
| কালিয়ার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ছেঁড়া জামা দেখলে ইসাবের বাবা ইসাবকে আস্ত রাখতেন না, তাই অভিন্নহৃদয় বন্ধু গলা শুনে চিন্তার অমৃত ও ইসাব নিজেদের মধ্যে জামা অদলবদল করেছিল। তাদের এই জামা বদলের কীর্তি দেখে একটা ছেলে চিৎকার শুরু করলে তারা বাড়ির দিকে ছোটে। ব্যাপারটা দেখে ইসাবের বাবা শান্ত গলায় ওদের ডাকলে ওরা ভাবে—....উনি আসল ঘটনাটি জানেন, শুধু ভালোবাসার ভান করছেন।'
প্রশ্ন : ‘উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন।–'উনি' কে? কেন অমৃতকে উনি জড়িয়ে ধরলেন?
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্প থেকে গৃহীত উপরোক্ত উদ্ধৃতিটির ‘উনি’ হলেন ইসাবের বাবা।
॥ কালিয়ার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। অভিন্নহৃদয় বন্ধু অমৃতকে কালিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই এই ধস্তাধস্তি। ইসাবের মা নেই, বাবার হাতের মার থেকে ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত তার ভালো জামা ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পড়ে। আড়াল থেকে ইসাবের বাবা ঘটনাটি দেখেন আর এও শোনেন যে, অমৃতর ছেঁড়া জামার দরুন যদি বাবার হাতে তাকে মার খেতে হয়; সেক্ষেত্রে তার মা তাকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচিয়ে নেবেন। কিন্তু ইসাবের ক্ষেত্রে তার কোনো উপায় নেই। ছোট্ট অমৃতর বন্ধুপ্রীতি, উদারতা, মাতৃভক্তি ও বিশ্বাস দেখে ইসাবের বাবা অমৃতকে জড়িয়ে ধরেন।
প্রশ্ন: ‘বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।- “বাহালি বৌদি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? ‘আপনার ছেলে আমার’ বলার কারণ কী ছিল?
অথবা, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।'—বক্তা এ কথা কাকে এবং কেন বলেছিল?
উত্তর > অদল বদল' গল্পে ‘বাহালি বৌদি” বলতে ইসাবের বাবা অমৃতর মাকে বুঝিয়েছেন।
|| বাবার হাতের মার থেকে ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত নিজের ভালো জামাটি ইসাবকে দিয়ে তার ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে।আড়াল থেকে ইসাবের বাবা এটা লক্ষ করেন এবং এও শোনেন, অমৃত তার মায়ের ভরসাতেই এসব করছে। ছোট্ট ছেলেটির বন্ধুপ্রীতি, উদারতা, মাতৃভক্তি ও বিশ্বাস দেখে ইসাবের বাবা মুগ্ধ হয়ে অমৃতাকে নিজের ছেলে বলেছেন।
প্রশ্ন > 'অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও পালন করতে রাজি আছি।- বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী ?
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্প থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা ইসাবের বাবা হাসান পাঠান।
॥ অমৃত আর ইসাব শুধু যে একই স্কুলের একই ক্লাসে পড়ত তাই নয়; তাদের মধ্যে ছিল নিখাদ বন্ধুত্ব। সেজন্যই হোলির দিন কুস্তি লড়তে গিয়ে বন্ধু ইসাবের নতুন জামাটি ছিঁড়ে গেলে, অমৃত নির্দ্বিধায় একইরকম দেখতে নিজের জামাটি দিয়ে দেয়। কারণ, বাবার মারের হাত থেকে তাকে বাঁচাতে মা আছে কিন্তু ইসাবের তো মা নেই। দুটি ছোট্ট ছেলের মধ্যে ঘটে চলা এই সমস্ত ঘটনা ইসাবের বাবা দেখেন। অমৃতর অন্তরের ভালোবাসা, ত্যাগ, মাতৃভক্তি ও বন্ধুপ্রীতি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তাই আবেগ ও উচ্ছ্বাসে আপ্লুত হয়ে তিনি বাহালি বৌদি তথা অমৃতর মা-কে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন।
প্রশ্ন > 'পাড়া-পড়শি মায়ের দল পাঠানের গল্প শোনার জন্য ঘিরে দাঁড়াল - গল্পটি কী ছিল?
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেল বিরচিত ‘অদল বদল' গল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত গল্পটি হল –অভিন্নহৃদয় দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাব হোলির দিনে একইরকম নতুন জামা পরে বেরোয়। ঈর্ষান্বিত কিছু ছেলে তাদের কুস্তি লড়ার প্রস্তাব দেয়। তারা তাতে রাজি না-হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ফলে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। নতুন জামা ছেঁড়ার জন্য ইসাবকে বাবার হাতে মার খেতে হবে, তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা নেই। এ কথা ভেবে অমৃত তার ভালো জামাটি ইসাবকে দিয়ে দেয়।
প্রশ্ন > ‘অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।- অমৃতর কোন জবাবের কথা বলা হয়েছে? সেই জবাব বক্তাকে বদলে দেওয়ার কারণ কী?
উত্তর > অদল বদল' গল্পে ছোট্ট অমৃতর মহানুভবতা প্রশ্নাতীত। জামা ছিঁড়ে যাওয়ার জন্য বন্ধু ইসাবকে, বাবার হাতের মার খাওয়া থেকে বাঁচাতে অমৃতর নিজের জামা দেওয়া তারই প্রমাণ। অমৃত কীভাবে বাবার হাত থেকে রেহাই পাবে, ইসাব সে-কথা জানতে চাইলে অমৃত জানায়, ‘...আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।' এটাই ছিল অমৃতর জবাব।
| অমৃতর কথা শুনে ইসাবের বাবা মাতৃভক্তি, ত্যাগ, ভালোবাসা এবং নিখাদ বন্ধুত্বের সত্যিকারের স্বরূপটি উপলব্ধি করতে পারেন। ছোট্ট অমৃতর আচরণে তিনি টের পান মা-হারা সন্তানের ক্ষেত্রে এক বাবাকে মা ও বাবা উভয়ের ভূমিকাই পালন করতে হয়। এই শিক্ষাই হাসানকে বদলে দিয়েছিল।
প্রশ্ন > ‘ও আমাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে? -'ও বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সে কাকে, কী শিখিয়েছিল?
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে 'ও' বলতে ইসাবের বন্ধু অমৃতের কথা বলা হয়েছে।
| অভিন্নহৃদয় বন্ধু ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় অমৃত নিজের অক্ষত জামাটি ইসাবকে দেয়। কারণ অমৃতকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মা রয়েছে, কিন্তু ইসাবের তো মা নেই। পাড়ার ছোট্ট গলিতে যখন এই ঘটনাটি ঘটছিল, সেটি ইসাবের বাবা হাসান দেখেন ৷ ছোট্ট অমৃতর বন্ধুপ্রীতি আর ভালোবাসার গভীরতা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। অমৃতর মাতৃভক্তি, ত্যাগ ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বই হাসানকে বিশুদ্ধ মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছিল। একেই তিনি ‘খাঁটি জিনিস' বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন> 'বরঞ্জু অদল-বদল বলাতে তাদের ভালোই লাগল। –তাদের 'অদল-বদল' নামকরণ কীভাবে হল? এই নাম তাদের ভালো লাগার কারণ কী?
উত্তর> পান্নালাল প্যাটেল বিরচিত 'অদল বদল' গল্পে অমৃত ইসাবকে নিজের বাবার মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে, নিজের অক্ষত জামাটি তাকে দেয়। পরিবর্তে ছেঁড়া জামা অমৃত গায়ে তুলে নেয়। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইসাবের বাবা। এ কথা গল্পাকারে গ্রামের মোড়লের কানে পৌঁছোয়। মোড়ল সবদিক বিবেচনা করে অমৃতকে 'অদল' ও ইসাবকে 'বদল' নাম দেন।
জামা বদলের জন্য বন্ধুরা অমৃত-ইসাবকে খেপিয়ে বেড়াত 'অদল-বদল' বলে। সেই নাম এখন বাবা-মা ও গ্রামের মোড়লের কাছেও বৈধতা পাওয়ায় তাদের ভালো লাগে।
প্রশ্ন: ‘এই আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল।-কোন্ আওয়াজের কথা বলা হয়েছে? এই আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠার কারণ কী ?
উত্তর > অদল বদল' গল্পে দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাবের জামাবদলের ঘটনায় ছেলেরা তাদের 'অদল-বদল' বলে ডাকতে শুরু করে। সেই গ্রাম প্রধানের কাছে বৈধতা পেলে সারাগ্রামে সে নাম (অদল-বদল) মুখরিত হয়ে ওঠে
| অমৃত ও ইসাব দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের কিশোর, অভিন্নহৃদয় বন্ধু। তাদের জামা বদলের ঘটনা শুধুমাত্র ইসাবের বাবার নয় সমগ্র সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন এনেছিল, ঘুণ- ধরা সমাজে এনেছিল প্রাণের জোয়ার। তাই 'অদল- বদল শব্দবন্ধ গ্রামের আকাশ-বাতাসকে মুখরিত করে তুলেছিল।
