কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর। -“কাল-ভয়ংকর কে? তার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দাও ও তাকে সুন্দর বলা হয়েছে কেন তা ব্যাখ্যা করো। প্রলয়োল্লাস কবিতা
![]() |
প্রশ্ন: কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর। -“কাল-ভয়ংকর কে? তার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দাও ও তাকে সুন্দর বলা হয়েছে কেন তা ব্যাখ্যা করো।
অথবা, 'কাল- ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর'—'কাল-ভয়ংকর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কবি তাকে সুন্দর বলেছেন কেন ?
উত্তর > উদ্ধৃতিটি নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতার অংশবিশেষ। বিদ্রোহী কবি বিপ্লবের পথেই যে ভারতবাসীর মুক্তি সে-কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর লেখনীতে তা স্পষ্ট ধরা পড়ে। কিন্তু প্রায় জীবনহারা অচল-অসাড় একটা
জাতিকে উজ্জীবিত করতে চাই একটা মহাপ্রলয়। সেই প্রলয় ঘটাতে পারে একমাত্র রুদ্ররূপী কাল- ভয়ংকর। যদিও এক্ষেত্রে কবি দেশের যুবশক্তিকে কাল-ভয়ংকররূপে আখ্যা দিয়েছেন।
॥ কবি রুদ্ররূপী কাল-ভয়ংকর অর্থাৎ যুবশক্তির বিভিন্ন রূপ বর্ণনা করেছেন। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রলয়-নেশার নৃত্যপাগল মহাকালের চণ্ডরূপে সামাজিক অসংগতিকে দূর করতে তাঁর আগমন ঘটে। কখনও তাঁর ঝামর কেশের দোলায় গগন দুলে যায় এবং তাঁর অট্টহাস্যে চরাচর স্তব্ধ হয়ে যায়। দু-চোখে ভয়ংকর রূপের দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা নিয়ে বিশ্বমায়ের আসনকে সে আগলে রাখে। মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এই কাল- ভয়ংকর মুমূর্ষুদের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। মহাকালের রথের সারথি হয়ে সে দেবতারূপ বিপ্লবীদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। কবি এই কাল ভয়ংকরকে ভয় পেতে বারণ করেছেন। কেন-না এই ধ্বংসের শেষেই সৃষ্টির নতুন দিগন্ত আমাদের সামনে খুলে যাবে। তাই কবি এই ভয়ংকরকে সুন্দর বলেছেন।
