অভিষেক কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর । দশম শ্রেণী - Online story

Monday, 15 June 2026

অভিষেক কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর । দশম শ্রেণী

  



প্রশ্ন: ‘এই কি সাজে আমারে'—কার উক্তি? এমন উক্তি কেন করা হয়েছে?


উত্তর >  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে গৃহীত

উদ্ধৃতিটির বক্তা ইন্দ্রজিৎ।


|| ইন্দ্ৰজিৎ প্রমোদকাননে বামাদল মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত। এমন সময় প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মী এসে জানান বুদ্ধে রামের হাতে বীরবাহু মৃত। এই

পরিস্থিতিতে স্বয়ং রক্ষোরাজ রাবণ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লঙ্কার এমন দুর্দশায় বীরধর্ম পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ইন্দ্রজিৎ লজ্জা ও ঘৃণায় আত্মধিকার দেন। তখন ক্রোধে 'কুসুমদাম', 'কনকবলয়' ছুড়ে ফেলে যুদ্ধযাত্রার উদ্দেশ্যে অধীর হয়ে উঠে, তিনি প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছিলেন।


প্রশ্ন: 'ঘুচাব এ অপবাদ, – বক্তা কোন্ অপবাদ, কীভাবে ঘোচাতে চেয়েছেন? 

উত্তর/ প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি 'অভিষেক' নামাঙ্কিত কাব্যাংশ থেকে গৃহীত

হয়েছে। বক্তা ইন্দ্রজিৎ প্রভাষা রাক্ষসীর বেশধারিণী লক্ষ্মীদেবীর মুখে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ এবং রাবণের যুদ্ধপ্রস্তুতির কথা শুনে দ্রুত প্রমোদ উদ্যান ত্যাগ করে-লঙ্কায় যাত্রা করতে উদ্যত হলেন। যখন তিনি বুঝলে স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনে তিনি নারীদের মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত, তখন নিজেকে তিনি ধিক্কার জানালেন ও শত্রুকুলের নির্ধন

করবার প্রতিজ্ঞা করে সকল অপবাদ ঘোচাবেন বলে দৃঢ সংকল্প নিলেন।


প্রশ্ন:;'সাজিলা রণীদর্য'-'রথীন্দ্রবভ' কে? তিনি কেমনভাবে সাজলেন ?


উত্তর>  মধুসুদনের 'অভিষেক' নামক পাঠ্য কাব্যাংশে 'রথীন্দর্যভ’ শতা

পাই, যার অর্থ 'শ্রেষ্ঠ রথী'। এখানে 'রথীন্দ্রর্যভ' বলতে ইন্দজিৎকে বোঝানো হয়েছে।

||| প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে ইন্দ্রজিৎ যখন বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন।

তখন লঙ্কার ঘোর দুর্দিনের পবর পেয়ে নিজেকে ধিক্কার জানান। শত্রুপক্ষকে বিনাশ করতে এই শ্রেষ্ঠ বীর তারকাসুর বিনাশকালে কার্তিকের মতো ও বিরাট রাজার গোধন রক্ষার সময় বৃহন্নলারূপী অর্জুনের মতো রণসাজে সজ্জিত হলেন।

প্রশ্ন: বৃহন্নলারূপী কিরীটি কে? তাঁর কোন কীর্তির কথা পাঠে উল্লিখিত হয়েছে?

উত্তর>  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে বৃহন্নলারূপী কিরীটি হলেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন। অজ্ঞাতবাস কালে, বিরাট রাজার কন্যা উত্তরার নৃত্যগীত শিক্ষিকারূপে নিযুক্ত অর্জুন বৃহন্নলারূপী কিরীটি বৃহন্নলাবেশ ধারণ করেন।


||অর্জুন যখন বৃহন্নলার ছদ্মবেশে বিরাট রাজার প্রাসাদে ছিলেন, সেসময় দুর্যোধন বিরাট রাজাকে পরাস্ত করে তাঁর সমস্ত গোধন হরণ করেন। তখন অর্জুন রাজপুত্র উত্তরের সারথিরূপে কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিরাট রাজাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন। তাঁর সেই গোধন উদ্ধারের কীর্তির কথাই পাঠে উল্লিখিত হয়েছে।


প্রশ্ন:; ‘কহিলা কাঁদিয়া ধনি;’–‘ধনি’ কে? তিনি কাঁদলেন কেন?

উত্তর > ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘ধনি’ বলতে ইন্দ্ৰজিৎ-পত্নী প্রমীলাকে বোঝানো হয়েছে।


||| ধাত্রী প্রভাষা বেশধারী লক্ষ্মী যখন স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিন, ইন্দ্রজিতের ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির খবর ইন্দ্রজিতের কাছে দিলেন, তখন তিনি প্রমোদকাননে নারীদের মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন। স্বর্ণলতা যেভাবে বড়ো গাছকে আঁকড়ে ধরে, সেভাবে প্রমীলা রক্ষকুলনিধি

ইন্দ্রজিৎকে আঁকড়ে ধরে, তাঁর পথ রোধ করে কেঁদে ফেলেন। স্বামীর বিচ্ছেদ বেদনায় পত্নীর কাতর ও ব্যথাতুর রূপটি প্রমীলার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে।

প্রশ্ন: 'তাজ কিঙ্করীরে আজি?-বক্তা কে? তার মনে এমন প্রশ্ন জেগে ওঠার কারণ কী ?

অথবা, 'কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে-কার উক্তি? কেন এমন উক্তি?

উত্তর>  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতা থেকে গৃহীত অংশে ইন্দ্ৰজিৎ-পত্নী প্রমীলার মনে এই প্রশ্ন জেগেছে।

|| ইন্দ্ৰজিৎ, ধাত্রী প্রভাষা-বেশী লক্ষ্মীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিনের খবর।পান। এই সংবাদ শুনে তিনি স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। এমন সময় পত্নী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ান। প্রমীলা স্বামীর কাছে, তাঁকে ত্যাগ করার কারণ জানতে চান। জানতে চান এই হতভাগিনি ইন্দ্রজিৎ-বিনা কেমনভাবে বেঁচে থাকবেন। ব্রততীকে মাতঙ্গ ত্যাগ করলেও যেমন যুথনাথ আশ্রয় দেয়, ঠিক তেমনভাবেই তিনি কোনোক্রমে ইন্দ্রজিতের পদাশ্রয়ে নিজ স্থান খুঁজেছেন। আসলে স্বামীবিরহে বিরহাতুরা এক পত্নীর অন্তরের রূপটি এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।


প্রশ্ন:  বিদায় এবে দেহ, বিষ্ণুমুখী ।— 'বিধুমুখী' শব্দের অর্থ কী? তার কাছে কেন বিদায় চাওয়া হচ্ছে?

অথবা, 'বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।'— 'বিধুমুখী' কাকে বলা হয়েছে? কেন বিদায় চাওয়া হয়েছে?

উত্তর>  উদ্ধৃতাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ থেকে গৃহীত। ‘বিধুমুখী' শব্দের অর্থ চন্দ্রমুখী। প্রাণাধিক-প্রিয় প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর প্রতি ইন্দ্রজিতের এমন সম্বোধন।

|| ইন্দ্ৰজিৎ‍ প্রমোদকাননে প্রমীলাসহ বামাদল মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত

ছিলেন। এমন সময় ধাত্রীর ছদ্মবেশে লক্ষ্মী এসে তাঁকে স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর

দুরবস্থার কথা জানান। প্রিয় ভাই বীরবাহু মৃত এবং শোকে বিহ্বল পিতা রাবণ সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রায় উদ্যত। এ

সংবাদে লজ্জিত ও ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিৎ তৎক্ষণাৎ প্রমোদকানন ত্যাগ করে পিতার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে লঙ্কাপুরীর দিকে রওনা হন। বিদায় নেওয়ার সময় তিনি প্রশ্নোকৃত মন্তব্যটি করেছিলেন।


প্রশ্ন: কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি ! লঙ্কা কেঁপে উঠল কেন ?


উত্তর > পাঠ্য 'অভিষেক' কাব্যাংশে ছদ্মবেশী প্রভাষার কাছে লঙ্কার

দুর্দিনের সংবাদ শুনে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিৎ শত্রুর হাত থেকে

লঙ্কাকে রক্ষার্থে লঙ্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ইন্দ্রজিতের এই আগমনকে আকাশপথে মৈনাক পর্বতের সোনার পাখা বিস্তার করে উজ্জ্বল করে তোলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিতের ধনুকের গুণ পরানো ও শর নিক্ষেপকে মেঘের মাঝে গরুড়ের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর ফলেই লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে উঠেছে।

প্রশ্ন : 'এ মায়া, পিতঃ, কোন্ মায়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর>  মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে রামচন্দ্রের মায়াবলে পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছে।

ধাত্রী প্রভাষারূপী লক্ষ্মী ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনের কথা জানান

এবং এও বলেন, ‘মায়াবী মানব সীতাপতি; তব শরে মরিয়া বাঁচিল।' এ সংবাদ শোনামাত্র ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যান ত্যাগ করে লঙ্কায় পিতা রাবণের কাছে উপস্থিত হলেন। রাজা রাবণ তখন নিজেই যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই অবস্থায় ইন্দ্রজিৎ রাবণকে। রামচন্দ্রের পুনর্জীবন লাভের কারণ জানতে চাইলেন।


প্রশ্ন:  'সমূলে নির্মূল/করিব পামরে আজি - কাকে, কীভাবে বক্তা নির্মূল করবে।

উত্তর > 'মেঘনাদবদ কাব্য'-এর 'অভিষেক' সর্গের অন্তর্গত আলোচ্য পঙ্ক্তিটিতে ইন্দজিৎ রামচন্দ্রকে নির্মূল করতে চেয়েছেন।

| যুদ্ধে যখন বীরবাহুকে রামচন্দ্র নিহত করেছেন, সে সংবাদ পেয়ে ইন্দ্রজিৎ পিতা রাক্ষসরাজ রাবণকে বলেছেন পিতা অনুমতি দিলে তিনি অগ্নিবাণে তাঁকে ভস্ম করে বায়ু অস্ত্রে উড়িয়ে দেবেন, নয়তো রামচন্দ্রকে তাঁর পিতার চরণে বেঁধে এনে দেবেন।

প্রশ্ন : ‘আলিঙ্গি কুমারে,—কুমার কে? তাঁকে আলিঙ্গন করে কে, কী বলেছিলেন ?

উত্তর >  'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক' নামাঙ্কিত কাব্যাংশে কুমার হলেন রাবণ ও মন্দোদরী পুত্র ইন্দ্রজিৎ।

||| পুত্রের বীরত্বব্যঞ্জক বাক্যে অত্যন্ত খুশি ও আহ্লাদিত হয়ে রাবণ তাঁর শির চুম্বন করলেন এবং তাঁকে ‘রাক্ষস-কুল-শেখর' ও 'রাক্ষস-কুল-ভরসা' বলে বাহবা জানালেন। সেইসঙ্গে পুত্রবৎসল পিতৃহৃদয়ে জেগে উঠল পুত্রকে যুদ্ধে পাঠানোর আশঙ্কা। তিনি অকপটে পুত্রের কাছে স্বীকার করলেন নিজের অসহায়তার কথা। বিধাতার বিরূপতায় আজ তাঁকে বাধ্য হয়েই লঙ্কার শ্রেষ্ঠ সন্তান মেঘনাদকে যুদ্ধে পাঠাতে হচ্ছে।