প্রলয়োল্লাস কবিতার কিছু প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর। - কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন ?
উত্তর > কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের 'প্রলয়োল্লাস'
কবিতায় কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতা-প্রত্যাশী জনগণকে মহাপ্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
প্রশ্ন : ‘কালবোশেখির ঝড়'-কে নূতনের কেতন বলার কারণ কী?
উত্তর > কালবৈশাখী ঝড় পুরাতনকে মুছে ফেলে নূতনের সংকেত আনে বলে কবি কালবোশেখিকে 'নূতনের কেতন' বলেছেন।
প্রশ্ন : 'আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল,- নৃত্য পাগল' কে?
উত্তর > নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ‘নৃত্য পাগল' বলতে মুক্তিগামী মানুষের বৈপ্লবিক সত্তাকে কবি প্রলয়রূপী নটরাজের নৃত্যপরায়ণ রূপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন : প্রলয়নেশার নৃত্যপাগল কীসের জন্য আসছেন? .
উত্তর > প্রলয়নেশার নৃত্যপাগল 'সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে' অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকের অন্যায়-অত্যাচারের অবসান ঘটাতে আসছেন।
প্রশ্ন : ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে কে আগল ভাঙল ?
উত্তর > কবি নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা অনুসারে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে প্রলয়নেশার নৃত্য পাগল' অর্থাৎ মুক্তিকামী ভারতীয়ের বিপ্লবী সত্তা আগল বা শৃঙ্খল ভেঙেছে।
প্রশ্ন : ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল'—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর > কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় এখানে
অনাগতর কথা বলা হয়েছে, যে 'প্রলয় নেশার নৃত্য পাগল'।
প্রশ্ন : সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর > কাজী নজরুল 'সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে' বলতে সাগরতীরে অবস্থিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা শাসিত ভারতকে বুঝিয়েছেন।
প্রশ্ন : 'মহাকাল' কী?
উত্তর > 'মহাকাল' শব্দটির একটি অর্থ হল অনবচ্ছিন্ন কাল বা সময়প্রবাহ।
কিন্তু পাঠ্য কবিতায় 'মহাকাল' হল প্রলয় সৃষ্টিকারী মহাদেবের ধ্বংসাত্মক রূপের প্রতীক। রুদ্ররূপী শিবের আর-এক নাম হল মহাকাল।
প্রশ্ন :'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় মহাকাল কেমন রূপে আসছে?
উত্তর > ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংসকারী মহাকাল-সারথি রক্ততড়িৎ চাবুক হেনে আসছে।
প্রশ্ন : 'বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর। -এমন বলেছেন?
উত্তর > কবি নজরুল ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংসকামী বিপ্লবী সন্তু
বিনাশকারী এবং যুগাবসানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে প্রশ্নোদ্ভূত উপমা
ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন : 'ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর। -ভয়ংকর হাসছে কেন?
উত্তর > নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'ভয়ংকর' শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহৃত, যার অর্থ ধ্বংসকারী বিপ্লবী সত্তা। মহাকালের চণ্ডরূপী' ভয়ংকর সকল অন্যায় অত্যাচারকে বিনাশ করে নতুন যুগের সূচনা করার তৃপ্তিতে হাসছেন।
প্রশ্ন : 'ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর।'- 'চরাচর' স্তদ কেন?
উত্তর > বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম রচিত 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়
ধ্বংসের দেবতা প্রলয়ংকর শিবের অট্টহাসির ভয়ংকর শব্দে বিশ্বচরাচর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই স্তব্ধতা মুক্তিকামী মানুষের মনে কোনো এক আসন্ন ঝড়ের ইঙ্গিত বহন করে আনে।
প্রশ্ন : ‘দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা', বলতে কী বোঝানো হয়েছে।
উত্তর > ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় নবযুগের বার্তাবাহী ভয়ংকর প্রলয়, একটা সূর্যের তেজ নয়, বারোটি সূর্যের ন্যায় দীপ্ত ও তীব্র। এই তীব্রতা বোঝাতেই উক্ত শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন : ‘সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে' – সপ্ত মহাসিন্ধু কী?
উত্তর > শাস্ত্র মতে লবণ, ইক্ষু, সুরা, সর্পিঃ, দধি, দুগ্ধ ও জল—এই সাত বিভিন্ন পদার্থময় সাতসমুদ্র।
প্রশ্ন : ‘বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর পর-- অর্থ কী।
উত্তর > কবির আহুত ‘ভয়ংকর এই বিশ্বের রক্ষাকর্তা। অশুভ শক্তির বিদা
ঘটিয়ে সে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করবে, দেশমাতার আসন সুনিশ্চিত হবে।
কবি উক্ত উদ্ধৃতিটি করেছেন।
প্রশ্ন: 'জগৎ জুড়ে প্রলয়' কেন ঘনিয়ে আসছে?
উত্তর> যা-কিছু জীর্ণ, পুরাতন, জরাগ্রস্ত ও মুমূর্ষু তাদের বিনাশ ঘটিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন ঊষা নতুন সুর্যের কিরণে উদ্ভাসিত হবে বলেই জাগৎজুড়ে প্রলয় ঘনিয়ে আসছে।
প্রশ্ন ; এবার মহানিশার শেষে –কে আসবে?
উত্তর > 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিশ্বাস মহানি শেষে নিপীড়িত দেশের দুর্দশার অন্ধকার ভেদ করে নতুন সকাল আসবে।
প্রশ্ন: ‘মহানিশার শেষে, ঊষার হাসি-র তাৎপর্য কী ?
অথবা, 'এবার মহানিশার শেষে- কোন দৃশ্য দেখা যাবে?
উত্তর > দীর্ঘ প্রলয়ের শেষে যা-কিছু জীর্ণ, পুরাতন তার অবসান ঘে
স্বাধীনতার নতুন সূর্য ভারতের আকাশকে আলোকিত করে তুলবে। আলোচ্য উদ্ধৃতিটি এই তাৎপর্যই বহন করে।
প্রশ্ন : ‘এবার মহানিশার শেষে
মহানিশার শেষে কী ঘটবে?
উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতা অনুসারে 'মহানিশার শেষে' অর্থাৎ পরাধীন
খংশের অত্যাচার-অপমানের শেষে, ঊষার হাসি তথা মুক্তি সূর্যের প্রথম
স্পদন গুলোয় জাতির জীবন নতুন করে উদ্ভাসিত হবে।
প্রশ্ন: দিগম্বরের জটায়” কে হাসে?
উত্তর > 'প্রলয়োল্লাস' কবিতা অনুসারে শিশু চাঁদের স্নিগ্ধ ও মাধুর্যময় হাত যেন দিগম্বর-মহাদেবের জটায় হাসে। এই হাসির মধ্যে ফুটে ওঠে সময়রূপী মহাকালের অভয়মন্ত্র।
প্রশ্ন : ‘রশিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন-এর মধ্যে কীসের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ?
উত্তর > ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশে মহাকাশের রথের ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি অর্থাৎ মুক্তিকামী মানুষের বৈপ্লবিক উত্থান বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: “এই তো রে তার আসার সময়-‘তার' বলতে কার আসার সময়ের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর > নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস” কবিতায় ‘তার’ বলতে প্রলয়ংকারের
আসার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীতে যখনই অস্তিত্বের সংকট ঘটেছে তখনই এই 'প্রলয়' রুদ্ররূপে তা নিরসন করেছে।
প্রশ্ন : “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - কবি এ প্রশ্ন কাদের উদ্দেশ্যে করেছেন?
অথবা, 'ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-কবি ধ্বংসকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন কেন ?
উত্তর > প্রলয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুনের বীজ। ধ্বংসের মাঝেই নিহিত আছে নতুন সৃষ্টির হাতছানি। তাই বিনাশ বা ধ্বংসের আগমনে কবি ভারতবর্ষের অচেতন, ভীরু দেশবাসীকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন।
