সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস । দুর্লভ জিনিসটা কি? কে কিভাবে তা লাভ করেছিল? বহুরূপী গল্প ৷৷ দশম শ্রেণী
প্রশ্ন > 'সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।-দুর্লভ জিনিসটা কী? কে, কীভাবে তা লাভ করেছিলেন?
উত্তর> সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো হল দুর্লভ জিনিস।
!! জগদীশবাবুর বাড়িতে যে সন্ন্যাসীটি এসেছিলেন, তিনি 'খুবই উঁচু দরের'। তাঁর বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি। তিনি হিমালয়ের গুহায় থেকে একটি হরীতকী খেয়ে জীবনধারণ করেন। এরকম এক মহান মানুষের পদধূলি পাওয়া পরম সৌভাগ্যের মনে করেন জগদীশবাবু। তাই সন্ন্যাসী বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় এক জোড়া সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম জগদীশবাবু তাঁর পায়ের কাছে ধরেন। সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দেন, নতুন খড়মটি পরার ফাঁক জগদীশবাবু কোনোক্রমে তাঁর পায়ের ধুলো নেন।
প্রশ্ন > ‘সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।- কোন্ জিনিসের কথা বলা হয়েছে? তা দুর্লভ কেন ?
উত্তর> সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো হল দুর্লভ জিনিস।
| জগদীশবাবুর বাড়িতে যে-সন্ন্যাসীটি এসেছিলেন, তিনি ‘খুবই উঁচু দরের’। তাঁর বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি। তিনি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, একটি হরীতকী খেয়ে জীবনধারণ করেন। তিনি বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় একজোড়া সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম জগদীশবাবু তাঁর পায়ের কাছে ধরেন। সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দেন, নতুন খড়মটি পরার ফাঁকে জগদীশবাবু কোনোক্রমে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে নেন। ফলে সেই বস্তুটি মোটেই সহজলভ্য ছিল না। তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার! - কোন্ ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে? ঘটনাটি মজার কেন ?
উত্তর > ‘বহুরূপী' গল্প অনুসারে জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন, তিনি এতই উঁচু দরের যে, কাউকে পদধূলি গ্রহণের অনুমতি পর্যন্ত দিতেন না। শেষপর্যন্ত জগদীশবাবু তাঁর কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে পায়ের সামনে ধরলে সন্ন্যাসী পা এগিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে একমাত্র জগদীশবাবুই তাঁর পদধুলি পেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
॥ মুখ্য চরিত্র হরিদার মতে, ঘটনাটি মজার। কারণ, সর্বস্বত্যাগী হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীও সোনার আকর্ষণ অগ্রাহ্য করতে পারেননি।
প্রশ্ন: 'কিন্তু কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে।—কোন্ কাজের কথা বলা হয়েছে? ‘হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে।'—বাক্যটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর> 'বহুরূপী' গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে 'কাজ' বলতে যে-কোনো নিয়মমাফিক ঘড়িধরা সময়ের চাকরির কথা বলা হয়েছে।
|| হরিদা নিজের খুশিমতো বহুরূপী সাজেন; যখন ইচ্ছা, যেদিন ইচ্ছাকিন্তু যে-কাজে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে কাজ করার মতো মানসিকতা তাঁর নেই। তিনি মুক্ত পুরুষ। সংসারে যেমন তাঁর কোনো বন্ধন নেই, তেমনি আর্থিক বন্ধনেও জড়িয়ে পড়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। হরিদার শিল্পীস্বভাব এবং অন্তর্মনের বৈরাগ্যই এর প্রধান কারণ।
