বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটা রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশ বাবু । বিরাগী কে ? তার কাছে জগদীশ বাবুর প্রার্থনার কারন কি? বহুরূপী গল্প‌। দশম শ্রেণী - Online story

Saturday, 16 May 2026

বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটা রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশ বাবু । বিরাগী কে ? তার কাছে জগদীশ বাবুর প্রার্থনার কারন কি? বহুরূপী গল্প‌। দশম শ্রেণী

 


প্রশ্ন:'বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটাকে রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশবাবু-বিরাগী কে? তাঁর কাছে জগদীশবাবুর প্রার্থনার কারণ কী?

উত্তর>  ‘বিরাগী' হলেন সর্বত্যাগী সাধুবেশে বহুরূপী হরিদা।

|| ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবু সাধুসঙ্গ করে পুণ্য অর্জন করতে চান। ছদ্মবেশী বিরাগীকে দেখে ও তাঁর মুখে দার্শনিক উক্তি শুনে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

বিরাগীকে নিজের বাড়িতে কয়েকদিন থাকতে অনুরোধ জানিয়েও যখন লাভ হয় না, তখন জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চান। এই প্রণামি যাতে বিরাগী তীর্থ ভ্রমণে খরচ হিসেবে গ্রহণ করেন, তাই তিনি ব্যাকুল মনে প্রার্থনা করতে থাকেন।

প্রশ্ন: ‘অনাদি বলে—এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা? – কোন্ কাণ্ডের কথা বলা হয়েছে? কাণ্ডটি বিস্ময়কর কেন?

উত্তর>  কাণ্ডটি হল জগদীশবাবু হরিদাকে সত্যি সত্যিই বিরাগী ভেবে একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চাইলেও বিরাগীবেশী হরিদা তা নিতে অস্বীকার করেন।

|| হরিদা ছিলেন মূলত একজন গরিব মানুষ, উপোস যাঁর প্রায় নিত্যসঙ্গী।

বহুরূপীর পেশার অতিসামান্য রোজগারে তাঁর দিন চলত। তবুও হাতের কাছে একশো এক টাকা পেয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কেবলমাত্র তাঁর সাজা চরিত্রের সঙ্গে অর্থলোলুপতা মানায় না বলে। শুধুমাত্র পেশার মানরক্ষার জন্য এই

ত্যাগ সত্যিই বিস্ময়কর।

প্রশ্ন:  ‘তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।-ঢং' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে?

উত্ত>  উদ্ধৃতাংশে বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে হরিদাকে তাঁর যে- আচরণ

আত্মস্থ করতে হয়েছিল, তাকেই ঢং বলা হয়েছে।

|| হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এমন একজন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে

গিয়েছিলেন, যিনি সমস্ত পার্থিব বস্তুর প্রতি উদাসীন। এহেন সন্ন্যাসী যদি

সামান্য একশো এক টাকার লোভ সংবরণ করতে না পারেন, তবে বিরাগীর আচরণের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের কোনো সাদৃশ্য থাকবে না; সম্পূর্ণ অভিনয়টিই মাঠে মারা যাবে। একেই ঢং নষ্ট হয়ে যাওয়া বলা হয়েছে। আসলে এক্ষেত্রে বহুরূপী হরিদার আচরণে তাঁর স্বরূপটি প্রকাশ পেয়েছিল।