সিরাজদৌলা নাট্যাংশে সকল বড় প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা - Online story

Monday, 25 May 2026

সিরাজদৌলা নাট্যাংশে সকল বড় প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা

 



সিরাজদৌলা  নাট্যাংশ 

সকল প্রশ্নের উত্তর


কমবেশি ১২৫ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো



প্রশ্ন :-‘আপনার অভিযোগ বুঝিতে পারিলাম না।- বক্তা কে? তার বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কী ছিল?

উত্তর:-  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা নবাব সিরাজের রাজসভায় উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ও প্রতিনিধি ওয়াটস।

II শত্রু পরিবেষ্টিত হয়েই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের সিংহাসন লাভ। সিংহাসন লাভের সময় থেকেই নবাবের চারপাশে একদিকে নিজ আত্মীয় ও রাজকর্মচারীরা আর অন্যদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিনিয়ত স্বার্থসিদ্ধির জন্য চক্রান্তের জাল বুনে চলেছিল। আলিনগরের সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে তাঁর দরবারে নিয়োজিত ওয়াটস ও কোম্পানির নৌসেনাপতি ওয়াটসনের মধ্যে

চক্রান্তপূর্ণ যে-দুটি চিঠির আদানপ্রদান হয়েছিল তা নবাবের হস্তগত হয়। উদ্ধৃত অংশে ওয়াটসনের চিঠিটির কথা বলা হয়েছে। সেখানে চিঠির শেষের দিকে আয়েকটি স্থানে চক্রান্তের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। নবাবের আদেশে মুনশি অনুবাদ করে বা শোনায় তার সারমর্ম হল, ক্লাইভের পাঠানো সৈন্য শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছোবে। সেনাপতি ওয়াটসন খুব শীঘ্রই মাদ্রাজে জাহাজ পাঠাবেন এবং কলকাতায় আরও সৈন্য ও জাহাজ পাঠানোর কথা জানাবেন। তাঁর উদ্যাগে বাংলায় আগুন জ্বলে উঠবে। অতএব এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলা দখল।


প্রশ্ন':-আমি জানিলাম না আমাদের

অপরাধ!— 'আমি' ও আমাদের' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? এখানে কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে? 


উত্তর:- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস। সিরাজের অভিযোগ সন্ধির শর্ত উপেক্ষা করে ওয়াটস তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এর একমাত্র শাস্তি ওয়াটসের প্রাণদণ্ড। এ প্রেক্ষিতে ওয়াটসের

এই মন্তব্য। এখানে বন্ধ। 'আমি' বলতে নিজেকে এবং 'আমাদের' বলতে কোম্পানিকে বোঝাতে চেয়েেছেন।

৷৷ আলিনগরের সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে তাঁর দরবারে নিয়োজিত ওয়াটস ও কোম্পানির নৌসেনাপতি ওয়াটসনের মধ্যে চক্রান্তপূর্ণ যে-দুটি চিঠির আদানপ্রদান হয়েছিল তা নবাবের হস্তগত হয়। উদ্ধৃত অংশে ওয়াটসনের চিঠিটির কথা বলা হয়েছে। সেখানে চিঠির শেষের দিকে আয়েকটি স্থানে চক্রান্তের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। নবাবের আদেশে মুনশি অনুবাদ করে বা শোনায় তার সারমর্ম হল, ক্লাইভের পাঠানো সৈন্য শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছোবে। সেনাপতি ওয়াটসন খুব শীঘ্রই মাদ্রাজে জাহাজ পাঠাবেন এবং কলকাতায় আরও সৈন্য ও জাহাজ পাঠানোর কথা জানাবেন। তাঁর উদ্যাগে বাংলায় আগুন জ্বলে উঠবে। অতএব এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলা দখল।


প্রশ্ন:- "মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদের বুঝিয়ে দিন।"- কে কাকে পত্র লিখেছিলেন। এই পত্রে কী লেখা ছিল। 


উত্তর-শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে অ্যাডমিরাল ওয়ার্টসন সিরাজের উদ্দেশ্যে যে পত্র লিখেছিলেন, সেই পত্র দেখার পর স্বয়ং সিরাজ তাঁর রাজদরবারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রেরিত প্রতিনিধি ওয়ার্টসের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেছেন।

৷৷ আলিনগরের সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে তাঁর দরবারে নিয়োজিত ওয়াটস ও কোম্পানির নৌসেনাপতি ওয়াটসনের মধ্যে চক্রান্তপূর্ণ যে-দুটি চিঠির আদানপ্রদান হয়েছিল তা নবাবের হস্তগত হয়। উদ্ধৃত অংশে ওয়াটসনের চিঠিটির কথা বলা হয়েছে। সেখানে চিঠির শেষের দিকে আয়েকটি স্থানে চক্রান্তের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। নবাবের আদেশে মুনশি অনুবাদ করে বা শোনায় তার সারমর্ম হল, ক্লাইভের পাঠানো সৈন্য শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছোবে। সেনাপতি ওয়াটসন খুব শীঘ্রই মাদ্রাজে জাহাজ পাঠাবেন এবং কলকাতায় আরও সৈন্য ও জাহাজ পাঠানোর কথা জানাবেন। তাঁর উদ্যাগে বাংলায় আগুন জ্বলে উঠবে। অতএব এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলা দখল।

প্রশ্ন : 'তোমাকে আমরা তোপের মুখে উড়িয়ে দিতে পারি,জান?' –‘তোমাকে' ও 'আমরা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি এমন আচরণের কারণ কী? 


উত্তর- উদ্ধৃত অংশে 'তোমাকে' বলতে মুরশিদাবাদের রাজদরবারে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রেরিত প্রতিনিধি ওয়ার্টসের কথা

বলা হয়েছে। অপরদিকে 'আমরা' বলতে বক্তা সিরাজদ্দৌলা স্বয়ং এবং তাঁর সৈন্যবাহিনীসহ অন্যান্য রাজকর্মচারীকে বুঝিয়েছেন।

॥ মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা বাংলার মসনদে বসেন। সিংহাসনে বসার পর থেকেই ইংরেজ কোম্পানি তাঁকে উপেক্ষা ও অসহযোগিতা করতে থাকেন। ফলস্বরূপ সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করেন এবং কলকাতার নতুন নামকরণ করেন আলিনগর। অল্প সময়ের ব্যবধানে ওয়াটসন ও ক্লাইভ কলকাতাকে পুনরুদ্ধার করে আলিনগরের সন্ধি স্বাক্ষর করেন। সদির শর্ত সঠিকভাবে

 রূপায়ণের জন্য মুরশিদাবাদে রাজদরবারে ওয়াটস ইংরেজ প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস যে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা প্রমাণিত হয় নৌসেনাপতি ওয়াটসনের ওয়াটসকে লেখা চিঠি থেকে। অন্যদিকে

 ওয়াটসের চিঠি থেকে ষড়যন্ত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণিত হয়। যড়যন্ত্রকারীর একমাত্র শাস্তি যে মৃত্যু—এ কথা বোঝাতেই নবাব এমন

আচরণ করেছেন।


প্রশ্ন: 'কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা'- কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে ? এ কথা বলার কারণ কী? 

উত্তর- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা রাজদরবারে উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি

ওয়ার্টসকে উদ্দেশ্য করে এ কথাটি বলেছেন।

|| সিরাজ বাংলার মসনদে বসার মাস দুয়েকের মধ্যেই; ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতা থেকে তাদের বিতাড়িত করেন।

কিন্তু রবাট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় ফিরে পুনরায় তা দখলে করে নেন। সে সময় পরিস্থিতির চাপে সিরাজ; ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের সন্ধির মাধ্যমে মীমাংসা করেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা সিরাজকে সরানোর জন্য ইংরেজরা তলে তলে নানারকম চক্রান্ত শুরু করে। মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ জগৎশেঠদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবকে উৎখাত করার নীল-নকশা রচনা করা হয়। এ সম্পর্কিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে মীরজাফরের বড়যন্ত্রমূলক গোপন চিঠি নবাবের হস্তগত হয়। ইংরেজদের এই দুঃসাহস-স্পর্ধা অন্যায় আচরণে ক্রুদ্ধ হয়ে তাই সিরাজদ্দৌলা প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।


প্রশ্ন :-'এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যগ করো। -বক্তা কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন। তাকে দরবার ত্যগ করতে বলার কারণ কী?

অথবা, 'এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত‍্যাগ করো।'- কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন। তাঁর এরুপ কথা বলার কারণ বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর - শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের নাট্যাংশ 'সিরাজদ্দৌলা'-র কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজ তাঁর রাজদরবারে কোম্পানির নিয়োজিত ইংরেজ রাজকর্মচারী ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছিলেন।

| বাংলার মসনদে তরুণ নবাব সিরাজ আসীন হওয়া থেকেই ইংরেজরা নবাবের অন্য শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিল। সহ্যের সীমা ছাড়ালে সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করে জয়ী হন এবং কলকাতার নতুন নামকরণ করেন আলিনগর। কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজরা কলকাতা পুনরুদ্ধার করে আলিনগরের সন্ধি করে। সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে কোম্পানি নবাবের দরবারে ওয়াটসকে নিযুক্ত করে। ওয়াটস নবাবের দরবারে থেকে নবাবের সভাসদদের তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেন এবং কলকাতায় ইংরেজদের নবাবের আদেশ লঙ্ঘনে উৎসাহ দেন। এ কথা নবাবের অজানা নয়। প্রমাণ হিসেবে নবাব ওয়াটসনের ও ওয়ার্টসের চিঠি দরবারে পেশ করান যেখানে ষড়যন্ত্রের ছবি স্পষ্ট। ওয়ার্টস

নবাবের কাছে বলেন 'Punish me' এবং 'I can only say that I have done my duty'-এতেই নবাব উত্তেজিত হয়ে কথাগুলি বলেন।


প্রশ্ন:-  'আমি তোমাদের কাছে লজ্জিত।"- বক্তা কে? তাঁর এই লজ্জার কারণ কী? 

উত্তর:   শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে রাজদরবারে ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা সহ সমস্ত ফরাসিদের কাছে নিজের অক্ষমতার জন্য নবাব স্বয়ং লজ্জিত বলে জানিয়েছেন।

৷৷ ইংরেজ, ডাচ, পোর্তুগিজদের মতো ফরাসিরাও দীর্ঘকাল বাংলা দেশে বাণিজ্য করেছে। ঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতা থাকায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব সর্বদা লেগে আছে। বাংলাতেও সেই শত্রুতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু নবাবের সুনজরে থাকার জন্য ফরাসিরা নিরুপদ্রবেই ছিল। ঘরে-বাইরে নবাব নানান সমস্যায় জর্জরিত থাকার সুযোগে ইংরেজরা চন্দননগর আক্রমণ করে ফরাসিদের বাণিজ্যকুঠি নিজেদের। অধিকারে আনে এবং গোটা চন্দননগরের অধিকার নবাবের কাছে দাবি করেন। ফরাসিরাও নবাবের সাহায্য প্রার্থনা করে আবেদন জানান। নবাবের কলকাতা জয় ও শওকতজঙ্গের সঙ্গে সংগ্রামে অর্থবল ও লোকবল কমে আসে। মন্ত্রীমণ্ডলও যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিল না। সমস্যা জর্জরিত সম্রাট নতুন করে আর ইংরেজদের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চাননি। নবাবের এই অক্ষমতার জন্য ফরাসিদের কাছে তিনি লজ্জিত।


প্রশ্ন:  'আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।—বক্তা কাদের কাছে কোন্ অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন?


উত্তর:  নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লিখিত। বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার জীবনকাহিনি এবং নবাব তথা বাংলার ট্র্যাজিক পরিণতি এই নাটকের বিষয়বস্তু। উদ্ধৃত

উক্তিটির বক্তা সিরাজদ্দৌলা, ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। দীর্ঘকাল ধরেই ইংরেজদের সঙ্গে ফরাসিদের বিবাদ। সেই বিবাদের সূত্রপাত সাগরপারে হলেও, তার সূত্র ধরেই এদেশেও উভয়পক্ষের মধ্যে রেষারেষি ছিল অব্যাহত। ইংরেজরা সিরাজদ্দৌলার অনুমতি ব্যতীতই চন্দননগর আক্রমণ ও অধিকার করে। সেখানকার সবকটি ফরাসি বাণিজ্যকুঠি অধিগ্রহণের দাবি জানায়। এর সুবিচারের আশায় ফরাসিরা নবাবের শরণাপন্ন হলেও সিরাজদ্দৌলা তাদের সাহায্য করতে পারেননি। কারণ নবাব সিরাজদৌলা ইংরেজদের সঙ্গে নতুন করে আর বিবাদে জড়াতে চাননি। এখানে তিনি নিজের সেই অক্ষমতার কথাই বলেছেন।

|| বক্তা নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কারণ, ফরাসিরা তাঁর সঙ্গে কখনোই দুর্ব্যবহার করেনি। তাই তাদের প্রতি সম্পূর্ণ সহানুভূতি থাকলেও এবং তাদের অভিযোগ ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তাদের সাহায্য করতে অপারগ। নিজের অক্ষমতায় এবং নিষ্ক্রিয়তায় আন্তরিকভাবে লজ্জিত সিরাজ ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।



প্রশ্ন: “তুমি আমার প্রতি তোমার অন্তরের প্রীতিরই পরিচয় দিয়েচ।—কে, কার প্রতি প্রীতির পরিচয় দিয়েছেন? কীভাবে তিনি প্রীতির পরিচয় দিয়েছেন?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটক থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত। ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা নবাবের প্রতি যে-আন্তরিক প্রীতির পরিচয় দিয়েছেন সে-কথাই নবাব বলেছেন।


|| ফরাসি ও ইংরেজদের মধ্যেকার পুরোনো শত্রুতার জন্য সিরাজকে অন্ধকারে রেখে ইংরেজরা চন্দননগর আক্রমণ করে ও অধিকার নেয় এবং ফরাসিদের বাণিজ্যকুঠিগুলি অধিগ্রহণের দাবি তোলে। ইংরেজদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফরাসিরা নবাবের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কলকাতা জয় এবং শওকতজঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধে লোকবল, অর্থবল কমে যাওয়ায় নবাব আর নতুন করে ইংরেজদের সঙ্গে শত্রুতা না বাড়িয়ে নিরপেক্ষ থাকতে চান। তখন ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা নবাবকে জানান বাধ্যত ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই তাদের কাছে। যাওয়ার আগে মংঁসিয়ে লা সিরাজকে সাবধান করে বলেন যে, তারা ভারত ছাড়লেই ইংরেজরা সর্বশক্তি নিয়ে তাঁর সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে ঝাপিয়ে পড়বে। মসিয়ে লা-র কথা আন্তরিক ও সত্যতাপূর্ণ ছিল,

তাতে নবাবের মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। তাই তিনি বন্ধুভাবাপন্ন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মসিয়ে লা-র স্মৃতি মনের মণিকোঠায় চিরদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকার কথা বলেন। উদ্ধৃত বক্তব্যে সিরাজের সেই মনোভাবই ব্যক্ত হয়েছে।


প্ৰশ্ন 'আর কত হেয় আমাকে করতে চান আপনারা ? -কাদের উদ্দেশ্য করে বক্তার এই উক্তি? তাঁর এমন বক্তব্যের কারণ কী? 


উত্তর: নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে  উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত। ‘আপনারা' বলতে এখানে রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর প্রমুখ সভাসদের কথা বলা হয়েছে। এঁরাই বিভিন্ন সময়ে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবকে বিব্রত করেছিলেন। ইতিহাসে এরা বিশ্বাসঘাতক বলে পরিচিত ।

৷৷ বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের সিংহাসন লাভটাই ছিল কাঁটা বিছানো। ঘরে-বাইরে শত্রু, সভাসদদের অন্তর্ঘাত— সবমিলিয়ে এক অসহায় অবস্থার সৃষ্টি হয়। রাজদরবারে আলিনগরে সন্ধির শর্তাবলি রক্ষার্থে কোম্পানির নিযুক্ত রাজকর্মচারী ওয়াটসকে যখন

বক্তব্যের কারণ তথ্যপ্রমাণ সহ দোষী সাব্যস্ত করে নবাব দরবার থেকে একপ্রকার তাড়িয়েই দেন, তখন সে ব্যাপারটা নবাবের সভাসদ রাজবল্লভ, জগৎশেঠদের ভালো লাগেনি। রাজবল্লভ এর প্রতিবাদও করেন। ক্রুদ্ধ নবাব তখন নিজেদের কথা ভাবার পরামর্শ দেন। উত্তরে জগৎশেঠ উপযুক্ত সময়ে কিছু ভাবা হয়নি বলায় নবাব ক্রুদ্ধ হন এবং অকপটে তাদের কটূক্তি, স্পর্ধা,

দুর্নাম, কর্মচারী ও আত্মীয়দের মনকে বিষিয়ে তোলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার প্রতি তীব্র ধিক্কার জানিয়ে উক্তিটি করেছেন।



প্রশ্ন:-  I know we shall never meet - কে, কাকে এ কথা বলেছেন? এ কথা বলার কারণ বুঝিয়ে দাও।

অথবা, I know we shall never meet - কে, কাকে বলেছেন? কোন্ পরিস্থিতিতে এই কথা বলা হয়েছে?

উত্তর:  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে রাজসভায়

উপস্থিত ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা এ কথা নবাব। সিরাজদ্দৌলাকে বলেছেন।

ইংরেজদের মতো ফরাসিরাও এদেশে বাণিজ্য করতে এসেছিল। তাদের বাণিজ্যকুঠি ছিল চন্দননগর। কিন্তু বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে নবাবের সম্মতি ছাড়াই ইংরেজরা চন্দননগর অধিকার করে। তখন প্রতিকারের আশায় ফরাসিরা সিরাজের সাহায্য প্রার্থনা করে। তবে কলকাতা ও পূর্ণিয়ার যুদ্ধের পর পরিস্থিতির চাপে দুর্বল সিরাজ, নতুন করে যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিলেন না। তাই তিনি মঁসিয়ে লা কে নিজের অক্ষমতার কথা জানান। মসিয়ে লা-কে কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়ে নবাবের সমস্যা ও বিপদ সম্পর্কে তাকে সচেতন করে এ দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলেন। প্রত্যুত্তরে সিরাজ ফরাসিদের বন্ধুত্ব এবং প্রীতির কথা বলে ধন্যবাদ জানিয়ে আবার প্রয়োজনে তাদের স্বারণ করার কথা বলায়, মসিয়ে লা এরুপ উক্তি করেছেন।


প্রশ্ন:; 'আজ পর্যন্ত কদিন তা ধারণ করেছেন, সিপাহসালার।" -কে, কার উদ্দেশ্যে এই উক্তিটি করেছে। প্রসটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর::- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্য উক্তিটির বন্ধা হল সিরাজদ্দৌলার সভাসদ মোহনলাল। মোহনলাল এ কথা বলেছে মীরজাফরকে উদ্দেশ্য করে।

॥ নবাব সিরাজদ্দৌলার সভাসদদের মধ্যে যে তিনজন সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রে নিযুক্ত ছিল, তারা হল রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর। এদের লক্ষ্য ছিল কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যে-কোনো ভাবে নবাবের পতন। তাই নবাবের অপদার্থতা, অযোগ্যতা প্রমাণের জন্য নবাবের পক্ষে সম্মানহানিকর এমন বহু কাজে লিপ্ত হয়। কখনও তাঁরা নবাবকে কটূক্তি করেছে আবার কখনও-বা সভাসদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রাজকর্মচারী, আত্মীয়স্বজনদের তার বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলেছে। ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়ে নবাব অনুসন্ধান করতে দিয়ে যখন দেখেন যে, সভাসদদের স্বার্থসিদ্ধিই এর মূল কারণ তখন তারা এর যে প্রতিবাদ করে। 'পাপ কখনও চাপা থাকে না'–রাজবল্লভের এই কথার প্রেক্ষিতে নবাব হোসেনকুলীর প্রসঙ্গ আনতে সে চুপ হয়ে গেলেও পরম ষড়ন্ত্রকারী বন্ধু মীরজাফর তরবারি ধরে প্রতিজ্ঞা করেন, মানী লোকের অপমান করলে নবাবের হয়ে অস্ত্র ধরবে না। এ প্রসঙ্গে নবাব-অনুগত মোহনলাল উক্তিটি করেছিল, যাতে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতক রূপটি রে ফুটে ওঠে।


প্রশ্ন:-  'জাহাপনা! নীচের এই স্পর্ধা!—কথাটি কে, কাকে বলেছেন? প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটকে প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, অধস্তন সেনাপতি মীরমদনের কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগের সুরে নবাব সিরাজকে এ কথা বলেন।

II নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ প্রমুখ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। নীরজাফরের লক্ষ্য ছিল বাংলার মসনদ। আর এ কাজে তাঁর অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন ঘসেটির দেওয়ান রাজবল্লভ। রাজসভায়

সিরাজের দৃঢ় ও সুস্পষ্ট প্রত্যুত্তরে রাজবল্লভের ভালোমানুষির মুখোশ খসে পড়লে, মীরজাফর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি সিরাজকে জানান সম্মানিত লোকের সর্বসমক্ষে এমন অসম্মান হলে, তাঁরা নবাবের সপক্ষে অস্ত্রধারণ করবেন না। এ কথার প্রত্যুত্তরে মোহনলাল জানতে চান, এ পর্যন্ত কতদিন তিনি নবাবের হয়ে অস্ত্রধারণ করেছেন। পরে মীরমদনও যখন মোহনলালকে সমর্থন করে একই প্রশ্ন করেন, তখন ক্ষুদ্ধ ও বিড়ম্বিত মীরজাফর প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন। 


প্রশ্ন:- "আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না। একথা তাদের মনে রাখা উচিত।"- নিমক খাওয়ার তাৎপর্য কি? উক্তিটি থেকে বক্তা চরিত্রে কোন পরিচয় পাওয়া যায়? 


উত্তর:; শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা সিরাজের একান্ত বক্তা সিরাজের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত সহচর  মীরমদন। নিমক খাওয়ার অর্থ হলো- কারো অন্নে প্রতিপালিত হওয়া। তিনি সিরাজের বেতন ভোগ কর্মচারী।। তাই তার প্রতি অনুগত্য প্রদর্শনই যথার্থ সে- কথা বোঝাতেই উক্তিটি অবতারণা করা হয়েছে।

॥ মীরমদন তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হননি। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

> সৎ: তিনি সৎ ও চরিত্রবান সৈনিক। তাই রাজদরবারের সংখ্যাগরিষ্ঠের দুর্নীতি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।

>> দৃঢ়চেতা : তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরিশীলিত হওয়া সত্ত্বেও স্থানবিশেষে কাঠিন‍্য প্রদর্শন করতেও পিছপা হন না। তাই সর্বসমক্ষে মীরজাফরকে অপ্রিয় সত্য কথাটি বলতে তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। এ তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত।

> অনুগত: নবাবের প্রতি মীরমদনের আনুগত্য প্রশ্নাতীত। বীর মীরমদন নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন। তাই নবাবের অন্য সভাসদদের নবাবের

প্রতি দুর্ব্যাবহার ও স্পর্ধা লক্ষ করে, তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ান।

কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও আনুগত্য মীরমদনের চরিত্রে একইসঙ্গে এনে দিয়েছে নম্রতা, দৃঢ়তা এবং বিশ্বস্ততাবোধ।


প্রশ্ন;  "দরবার ত্যাগ করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি জাঁহাপনা।'— বক্তা কে? তাঁরা কেন দরবার ত্যাগ করতে চান

উত্তর:- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত। আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন নবাবের সিপাহসালার মীরজাফর।

| নবাব সিরাজের রাজত্বের গৃহবিবাদের এক স্পষ্ট মুহূর্তের ছবি ধরা পাড়েছে মীরজাফরের বক্তব্যে। নবাবের সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মিলিত হয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে সিরাজকে বাংলার মসনদ থেকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। সেই কারণেই সিরাজকে সমর্থন ও সহযোগিতা যাঁরা সর্বদা করছিলেন; সেই মোহনলাল, মীরমদন, গোলাম হোসেনদের ক্ষমতা ও পদের মানমর্যাদাকে কটাক্ষ করতে পিছপা হন না মীরজাফর। নবাবের বিচক্ষণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নবাবকে প্রকাশ্য অপমানে নবাবের বিশ্বস্ত অনুচর মীরমদন ও মোহনলাল নিম্নপদের কর্মচারী হারেও প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। অনিবার্যভাবেই দুই বিরোধী পক্ষের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মীরজাফর নিজের অভিলাষ পূর্ণ করতে নবাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এই বলে যে, তাদের মতো ক্ষমতাশালীদের পরিবর্তে নবাব যদি মীরমদন কিংবা মোহনলালের মতো সাধারণ অনুচরদের ওপর অধিক আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন, তবে তাঁরা রাজসভা ত্যাগ করবেন। বস্তুতপক্ষে মীরজাফরের এমন কটাক্ষ ও নবাব আনুগত্য কেবল এক ছলনা মাত্র, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার অজুহাতের রাস্তা।

নবাবের সঙ্গ ত্যাগ করার গোপন ষড়যন্ত্র হেতুই মীরজাফর তার অনুগামীদের নিয়ে দরবার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।


প্রশ্ন:-" বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।"- কার উক্তি। উক্তিটির বক্তৃব্য পরিস্ফুট করো।


অথবা, 'আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন - কার উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য পরিস্ফুট করো।

অথবা, 'আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন ।"- কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলে। প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। 


উত্তর শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজ উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন মীরজাফরকে উদ্দেশ্য করে।

॥ সিরাজ বাংলার মসনদে বসার মাস দুয়েকের মধ্যেই ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতা থেকে তাদের বিতাড়িত করেন। কিছুদিন পরে রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় ফিরে পুনরায় তা দখলে আনেন। সে সময় পরিস্থিতির চাপে সিরাজ; ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের  সন্ধির মাধ্যমে মীমাংসা করেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা সিরাজকে সরানোর জন্য ইংরেজরা গোপনে গোপনে নানারকম চক্রান্ত শুরু করে। মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ ও জগৎশেঠদের সঙ্গে হাত

মিলিয়ে নবাবকে উৎখাত করার নীল নকশা রচিত করে। এ সম্পর্কিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রমূলক গোপন চিঠি নবাবের হস্তগত হয়। কিন্তু পারস্পরিক দোষ-ত্রুটি ভুলে তিনি সকলকে একত্রিত করে বহিঃশত্রু ইংরেজকে পর্যুদস্ত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল অন্যায় উভয় পক্ষেরই হয়েছে, তবে এখন বিচারের পরিবর্তে অন্তরের সৌহার্দ্য স্থাপন বেশি জরুরি। এই বিশ্বাস ও আবেগের বশবর্তী হয়েই নবাব সিরাজ সকলের কাছে এরূপ অনুরোধ করেছিলেন।


 প্ৰশ্ন:; ‘পাপ কখনও চাপা থাকে না। কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? এই উক্তির তাৎপর্য কী?   

উত্তর নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে ষড়যন্ত্রে ও মিথ্যা কলঙ্ক-অপবাদে ক্ষতবিক্ষত এক নবাবের যন্ত্রণাদায়ক ছবি আমরা ফুটে উঠতে দেখি।

সিরাজ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে, যখন নবাব হিসেবে তাঁর অনাচারের খতিয়ান জানতে চান, তখন রাজবল্লভ প্রশ্নোত

উক্তিটি করেছিলেন।


[] রাজবল্লভ ছিলেন সিরাজদ্দৌলার বড়োমাসি ঘসেটি বেগমের দেওয়ান। ঘসেটির প্রিয়পাত্র ছিলেন না সিরাজ। তাই ঘসেটি সিরাজকে সরিয়ে পূর্ণিয়ার শাসনকর্তার পুত্র শওকতজঙ্গকে বাংলার মসনদে বসাতে চেয়েছিলেন। এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সিরাজ মতিঝিলের প্রাসাদে ঘসেটিকে অবরুদ্ধ করে নজরবন্দি করে রাখেন। সেইসঙ্গে ঘসেটির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন এবং পূর্ণিয়ার যুদ্ধে শওকতজাকে পরাজিত ও নিহত করেন। এখানে ‘পাপ' বলতে রাজবল্লভ এসব ঘটনার প্রতিই অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত করেছেন।


প্রশ্:- "আপনাদের কাছে এই ভিক্ষা যে, আমাকে শুধু এই আশ্বাস দিন।।"- কাদের কাছে বরা 'ভিক্ষা' চান। তিনি কী আশ্বাস প্রত্যাশা করেন?

অথবা, 'আপনাদের কাছে এই ভিক্ষা যে, আমাকে শুধু এই আশ্বাস দিন।"- কে, কার উদ্দেশে এই উক্তি করেছেন? বক্তার এমন উক্তির কারণ কী? 


উত্তর:- নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক থেকে গৃহীত উক্তিটির বক্তা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের। তিনি তাঁর সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ,রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখর কাছে ক্ষমা চান।

৷৷নবাবের সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখ ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে বাংলার মসনদ থেকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় মীরজাফরকে লেখা ওয়ার্টসের একটি চিঠি যখন নবাবের হাতে আসে। তবুও নবাব তাঁদের শাস্তিবিধান না-করে সৌহার্দ্যের ডাক দেন। নবাবের অকপট স্বীকারোক্তি। মীরজাফরদের চক্রান্ত যেমন অন্যায়, তেমন তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। নবাব বুঝেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশীয় শক্তিকে একত্রীভূত করতে গেলে মীরজাফরদের সহায়তা প্রয়োজন। আর এজন্যই বাংলাকে ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচাতে সিরাজ তাঁর সভাসদদের কাছে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার আশ্বাস চেয়েছেন। তাঁর অনুরোধ তাঁরা যেন এই দুর্দিনে তাঁকে ছেড়ে না যান। বহিঃশত্রুকে পর্যুদস্ত করতে সিরাজ মতপার্থক্য, ন্যায়-অন্যায় ভুলে সকলের মধ্যে আন্তরিক বন্ধুত্ব ও সহৃদয়তার বীজ বপন করতে চেয়েছেন।

প্রশ্ন:  'বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না। -কাদের উদ্দেশে এ কথা বলা হয়েছে? কোন্ দুর্দিনের জন্য তাঁর এই আবেদন?

উত্তর:- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধাচারী প্রধান সিপাহসালার মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ-এর উদ্দেশে এ কথা বলেছেন।

৷৷নবাবের সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখ ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে বাংলার মসনদ থেকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় মীরজাফরকে লেখা ওয়ার্টসের একটি চিঠি যখন নবাবের হাতে আসে। তবুও নবাব তাঁদের শাস্তিবিধান না-করে সৌহার্দ্যের ডাক দেন। নবাবের অকপট স্বীকারোক্তি। মীরজাফরদের চক্রান্ত যেমন অন্যায়, তেমন তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। নবাব বুঝেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশীয় শক্তিকে একত্রীভূত করতে গেলে মীরজাফরদের সহায়তা প্রয়োজন। আর এজন্যই বাংলাকে ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচাতে সিরাজ তাঁর সভাসদদের কাছে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার আশ্বাস চেয়েছেন।

তাঁর অনুরোধ তাঁরা যেন এই দুর্দিনে তাঁকে ছেড়ে না যান। বহিঃশত্রুকে পর্যুদস্ত করতে সিরাজ মতপার্থক্য, ন্যায়-অন্যায় ভুলে সকলের মধ্যে আন্তরিক বন্ধুত্ব ও সহৃদয়তার বীজ বপন করতে চেয়েছেন।


প্রশ্ন:- 'বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।—কার কাছে কার এই অনুরোধ? এই অনুরোধের কারণ কী?

অথবা, ‘বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।-বক্তা কে? তাঁর এমন আবেদনের কারণ কী?


উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর প্রধান সিপাহসালার মীরজাফরকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

॥ সিরাজ বাংলার মসনদে বসার মাস দুয়েকের মধ্যেই ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতা থেকে তাদের বিতাড়িত করেন। কিছুদিন পরে রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় ফিরে পুনরায় তা দখলে আনেন। সে সময় পরিস্থিতির চাপে সিরাজ; ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের  সন্ধির মাধ্যমে মীমাংসা করেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা সিরাজকে সরানোর জন্য ইংরেজরা গোপনে গোপনে নানারকম চক্রান্ত শুরু করে। মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ ও জগৎশেঠদের সঙ্গে হাত

মিলিয়ে নবাবকে উৎখাত করার নীল নকশা রচিত করে। এ সম্পর্কিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রমূলক গোপন চিঠি নবাবের হস্তগত হয়। কিন্তু পারস্পরিক দোষ-ত্রুটি ভুলে তিনি সকলকে একত্রিত করে বহিঃশত্রু ইংরেজকে পর্যুদস্ত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল অন্যায় উভয় পক্ষেরই হয়েছে, তবে এখন বিচারের পরিবর্তে অন্তরের সৌহার্দ্য স্থাপন বেশি জরুরি। এই বিশ্বাস ও আবেগের বশবর্তী হয়েই নবাব সিরাজ সকলের কাছে এরূপ অনুরোধ করেছিলেন।


প্রশ্ন:- 'নবাব যদি কলকাতা আক্রমণ না করতেন ,তাহলে কিছুই আজ হতো না’– 'নবাব' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে। কোন্ ঘটনার প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে?


উত্তর:  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে 'নবাব' বলতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার কথা বলা হয়েছে।

|| আলিবর্দি ছিলেন নিঃসন্তান। তাই তিনি ছোটোমেয়ের পুত্র সিরাজকে

উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। ফলে আলিবর্দির মৃত্যুর

পরে সিরাজদ্দৌলা বাংলার মসনদে বসেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা।

ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেই তিনি ইংরেজদের চন্দননগর আক্রমণ, কলকাতা ও কাশিমবাজারে সৈন্যসমাবেশের সংবাদ পান। এক্ষেত্রে কোনোরকম আপসে না-গিয়ে সিরাজ কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। এখানে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিই নির্দেশ করা হয়েছে।


প্রশ্ন >  'বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, সর্বরকমে আমাকে সাহায্য করুন। -সিরাজ কাদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। কেন তিনি এই সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েছেন? 

উত্তর >>  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা আমাদের পাঠ্য ‘সিরাজদ্দৌলা'

নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভাসদ ষড়যন্ত্রকারী রাজবল্লভ, রায়দুল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফরদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন।

॥ আলিবর্দির মৃত্যুর পরে সিরাজের বাংলার মসনদে আরোহণ সিরাজের

শত শত্রু ও ষড়যন্ত্রকারীর জন্ম দেয়। তাই তার পনেরো মাসের নবাবি জীবনে একটি দিনও সুখের ছিল না। পারিবারিক শত্রু তো ছিলই, তার সঙ্গে যুক্ত হন সভাসদরা। নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে নবাব ক্ষতবিক্ষত ও অসহায় হয়ে পড়েন।

একদিকে ইংরেজ কোম্পানি কলকাতায় সৈন্যসমাবেশ, দুর্গ নির্মাণ, চন্দননগর আক্রমণ, কাশিমবাজার অভিযান করে নবাবের রক্তচাপ বাড়াতে থাকে; অন্যদিকে, নবাবের কাছে অপমানিত ওয়াটসেরষড়যন্ত্রে সভাসদরা কোম্পানির সঙ্গে আপসে সমস্যার সমাধান করতে চাপ দিতে থাকেন এবং রাজসভা ত্যাগ করতে উদ্যত হন। এই অবস্থায় অসহায় নবাব বুঝেছিলেন, বাংলার এই দুর্দিনে সব জাতি, সব শক্তির মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। তাই অকপটে নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে তিনি সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েছিলেন।


প্রশ্ন  "সেদিন যে দণ্ড আপনারা দেবেন, আমি মাথা পেতে নেব:- উক্তিটির বক্তা কে? কোন দিনের প্রতি এমন ইঙ্গিত করা হয়েছে?

উত্তর>  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত

উক্তিটির বক্তা নবাব সিরাজদ্দৌলা।

| বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা ছিলেন আপসহীন ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব। তাই বাংলার মসনদে বসেই তিনি কাশিমবাজার দুর্গ দখলের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে ইংরেজদের বিতাড়িত করেছিলেন। যদিও পরে পরিস্থিতির চাপে ক্লাইভের শক্তি উপেক্ষণীয় নয় বুঝে তিনি ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের সন্ধি করতে বাধ্য হন। কিন্তু ইংরেজরা জানতেন সিরাজ

মসনদে থাকলে বাংলায় ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। তাই ক্লাইভের নেতৃত্বে

ইংরেজরা পুনরায় কাশিমবাজার ঘাঁটি দখলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে সিরাজ বহিঃশত্রুকে প্রতিহত করতে রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফরের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে বাংলার সম্মান এবং স্বাধীনতা রক্ষাই হয়ে ওঠে তাঁর

প্রধান বিবেচ্য। তাই তিনি বলেন মাতৃভূমির ওপর থেকে বৈদেশিক শত্রুর বিপদকে প্রতিরোধ করার পরে, সকলে তাঁকে যে শাস্তি দেবেন, তাই তিনি মাথা পেতে গ্রহণ করবেন।


প্রশ্ন:  'বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় মিলিত হিন্দু মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা। —উদ্ধৃতাংশটির আলোকে

বক্তার দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবোধের পরিচয় দাও।

উত্তর>  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত

উদ্ধৃতিটির বক্তা নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ

প্রমুখকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন।

॥ নাট্যাংশে যুদ্ধ-চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে ক্ষতবিক্ষত এক রক্তমাংসের মানুষের

দেখা মেলে। সিরাজ ঘরে-বাইরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু এ সমস্যাকে

তিনি কখনোই ব্যক্তিগত সমস্যা বলে মনে করেন না। কারণ এ বিপদ স্বদেশ ও স্বজাতির বিপদ। তাই বহিঃশত্রু ইংরেজের ক্ষমতা দখলের স্বপ্নকে ব্যর্থ করতে; তিনি সমস্ত ন্যায়-অন্যায় বিচার ও ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলার সংকল্প করেন। তাঁর কাছে এ লড়াই বাংলার মানমর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। তিনি জানেন লোভ কিংবা মোহের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক সময় অন্যায় কাজে প্রবৃত্ত হয়। কিন্তু দেশের বিপদে সব ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়াই হল প্রকৃত পৌরুষ ও দেশপ্রেমের লক্ষণ। তাই মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ বা রায়দুর্লভদের এ বাংলাকে হিন্দু কিংবা মুসলমানের বাংলা হিসেবে না-দেখে; উভয়েরই প্রিয় মাতৃভূমি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ এক্ষেত্রে উভয়েই অন্যায় কিংবা আঘাতের সমান অংশীদার। এমনকি তিনি নিজেকেও মুসলমান হিসেবে প্রতিপন্ন না-করে; উপস্থিত সভাসদদের আর একজন স্বজাতি হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন। এভাবেই তিনি জন্মভূমিকে রক্ষা করতে ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চিরকালীন বার্তাকেই ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।


প্রশ্ন: বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা, তার শ্যামল প্রান্তরে আজ রক্তের আলপনা'—বক্তা কে? কোন্ দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর>  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে বক্তা সিরাজ।

| ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে এসে ভারতীয়

দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। নবাব সিরাজ বুঝতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, মাসি ঘসেটি বেগম প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। সিরাজ বাংলার মসনদে বসার মাস দুয়েকের মধ্যেই ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতা থেকে তাদের বিতাড়িত করেন। কিন্তু রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় ফিরে

পুনরায় তা দখলে আনেন। সেসময় পরিস্থিতির চাপে সিরাজ ইংরেজদের

সঙ্গে আলিনগরের সন্ধির মাধ্যমে মীমাংসা করেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা সিরাজকে সরানোর জন্য ইংরেজরা তলে তলে নানারকম চক্রান্ত শুরু করে। রায়দুর্লভ, রাজনমত ও জগৎশেঠদের সঙ্গে হাত মিলিয়ো নবাবকে উৎখাত করার জন্য নীল নকশা রচিত হয়। এ সম্পর্কিত ইস ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে

মীরজাফরের বড়যন্ত্রমূলক গোপন চিঠি নবাবের হস্তগত হয় এবং সভাসদদের সম্মিলিত অশুভ শক্তির জন্য তিনি অনুধাবন করেন বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। সব জেনেশুনেও তাদের শাস্তি দিতে পারেননি। তাই বিরুদ্ধ আচরণকারী মীরজাফর জগত সেট রাজবল্লভ প্রমুখ ও ব্যক্তিকে দেশাত্মবোধে অনুপ্রাণিত করে তাদের মত করে দেশের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করতে

চেয়েছেন।



প্রশ্ন > 'জাতির সৌভাগ্য সূর্য আজ অস্তাচলগামী / - কোন জাতির কথা বলা হয়েছে। তার 'সৌভাগ্য সূর্য অস্তাচলগামী বলার কারণ কী?


অথবা, 'বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা বন্ধা কে? বক্তার এমন উত্তির কারণ কী?

উত্তর > শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে যে-জাতির

প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে, তা বাঙালি জাতিকেই বুঝিয়েছে।

 উদ্ধৃত উক্তিটি আমরা 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের কণ্ঠে পাই।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে এসে ভারতীয়দের

দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে এবং পলাশির যুদ্ধে সিরাজকে পরাস্ত করে তারা বণিকের মানদণ্ডকে রাজদণ্ডে পরিণত করে। এই পরাজয়ের পিছনে কোম্পানির শক্তির চেয়ে নবাবের সভাসদদের সম্মিলিত অশুভ শক্তির অবদান বেশি ছিল, নবাব তা ভালোভাবেই অনুধাবন করেছিলেন।

তাই মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ প্রমুখের চক্রান্তের কাছে নবাবকে অসহায় লেগেছে। সব জেনেশুনেও নবাব তাদের শাস্তি দিতে পারেননি। নবাব জানতেন যে, এককভাবে নয় সম্মিলিতভাবেই কোম্পানির শক্তিকে পরাস্ত করতে হবে। বাংলার মানমর্যাদা-স্বাধীনতা রক্ষার্থে নবাব হিন্দু-মুসলমান সহ বাংলার সমস্ত

মানুষের কাছে আহ্বান।জানিয়েছিলেন। নবাব জানতেন পলাশির যুদ্ধে পরাজয় মানে বাংলার স্বাধীনতার অবসান। তাই স্বাধীন বঙ্গভূমির এমন ঘোরতর দুর্দিনে, তার সভাসদ ও সমগ্র বঙ্গবাসীর কাছে বাঙালির সৌভাগ্য-সূর্যের অস্তাচল রোধ করতে তিনি কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন।


প্রশ্ন > 'ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো। -বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি বক্তার কী মনোভাব লক্ষ করা যায়।


উত্তর > আলোচ্য উদ্ধৃতিটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগমের উক্তি। ঘসেটি আলোচ্য উক্তিটি সিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।

|| আলিবর্দির নিজের কোনো পুত্র না থাকায় তৃতীয় মেয়ের পুত্র সিরাজদ্দৌলাকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। সেইমতো আলিবর্দির মৃত্যুর পরে, সিরাজ বাংলার মসনদে বসেন। কিন্তু এই ঘটনায় সর্বাপেক্ষা বিরূপ হয়েছিলেন আলিবর্দির বড়ো মেয়ে ঘসেটি বেগম। কারণ সিরাজের ছোটোভাই ইকরামউদদ্দৌলাকে ঘসেটি বেগন দত্তক নিলে তার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যু ঘসেটির সম্পত্তিভোগের আশা শেষ হয়ে যায়। তা ছাড়া তিনি আর বোনের পুত্র পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গাকে বাংলার মসনদে বসাতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি ঈর ঈর্বন্বিত হয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ বশত এ কথা বলেছিলেন।


প্রশ্ন: দুর্দিন' না 'সুদিন - বক্তা কে? 'দুর্দিন' ও 'সুদিন বলতে'এখানে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত, আলোচ্য উদ্ধৃতিটির বক্তা

হলেন নবাব আলিবর্দি খাঁ-র জ্যেষ্ঠা কন্যা ও নবাব সিরাজদ্দৌলার মাসি ঘসেটি বেগন।

॥ আলিবর্দি খাঁ-র মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর প্রিয় দৌহিত্র সিরাজদ্দৌলা। কিন্তু তাঁর নিঃসন্তান জ্যেষ্ঠা কন্যা ঘসেটি বেগম চেয়েছিলেন যে, তার এক বোনের পালিত পুত্র শওকতজনকে শওকতজঙ্গকে বসাতে। তা না-হওয়ায় তিনি সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হারে পড়েন এবং

মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখের সঙ্গে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সিরাজদ্দৌলা বুঝতে পারেন যে,

ঐশ্বর্যের দম্ভ ঘসেটি বেগমকে এতখানি উদ্ধৃত করেছে। তিনি ঘসেটির মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে নেন ও তাঁকে সসম্মানে নিজের প্রাসাদে স্থান দেন। কিন্তু ঘসেটি সেই সম্মানের মর্যাদা রাখেননি। তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছেন, ইস্ট ইন্ডিয়া

কোম্পানির ফৌজ দ্বারা কাশিমবাজার আক্রমণ। তাই ব্রিটিশবাহিনীর মুরশিদাবাদ আক্রমণ সিরাজের চোখে 'দুর্দিন' হলেও, ঘসেটির কাছে তা ছিল সুদিন।

কেন-না ইংরেজ বাহিনীর দ্বারা সিরাজের পতন সেই তাঁর একমাত্র কাম্য ছিল।


প্রশ্ন :  'অন্তরে যে কথা দিন-রাত গুমরে গুমরে মরচে, তাই আজ ভাষায় প্রকাশ করছি।- বক্তার ভাষার প্রকাশ করা কথাগুলি কী ছিল ?

উত্তর  > শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে উদ্ধৃত

উক্তিটির বক্তা নবাব সিরাজের মাতৃস্বসা ঘসেটি বেগম। ঘসেটি কখনোই বাংলার নবাব হিসেবে সিরাজকে মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি সিরাজকে অপসারিত করে পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গকে বাংলার মসনদে বসানোর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলেন। তখন সিরাজ তাঁকে নিষ্ক্রিয় ও জব্দ করার জন্য নিজ প্রাসাদে বন্দি করেন। বন্দিনি ঘসেটির অসহায় অন্তরের জ্বালা-যন্ত্রণা ও ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে প্রশ্নোকৃত অংশে। তিনি জানান, মাসির মতিঝিলের প্রাসাদ ও ধনদৌলত লুট করে সিরাজ তাকে সামান্য দাসীতে রূপান্তরিত করেছেন। এমনকি সিরাজই তাঁর পালিত পুত্রকে সিংহাসন থেকেও দূরে সরিয়ে রেখেছেন এত অপমান, পাওনা ও কষ্ট ঘসেটির পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সিরাজ নানাভাবে বুঝিয়ে তার ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।


প্রশ্ন:  'আমার রাজ্য নাই, তাই আমার রাজনীতিও নাই, আছে প্রতিহিংসা-কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছে? বক্তার প্রতিহিংসের বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।

- উত্তর আলোচ্য উদ্ধৃতিটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত "সিরাজদ্দৌলা নাটকে ঘসেটিটি বেগন সিরাজাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেন।

 | ঘসেটি বেগম ছিলেন নবাব আলিবর্দির বড়ো মেয়ে। নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পরে তিনি চেয়েছিলেন তাঁর আর এক বোনের পুত্র শওকতজা বাংলার সিংহাসনে বসুক। কিন্তু সিরাজদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। ফলে ঘসেটি  মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখদের সঙ্গে সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হন। এ অবস্থায় ক্ষিপ্ত সিরাজ ক্রমে ঘসেটির মতিঝিলের প্রাসাদ ও ধনসম্পদ অবরুদ্ধ করে শওকতজাকে যুদ্ধে হত্যা করেন এবং ঘসেটিকে নিজ প্রাসাদে নজরবন্দি করেন। ঈর্ষা ও হিংসায় অন্ধ, বন্দিনি ঘসেটির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয় সিরাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও অভিশাপ।


প্রশ্ন -'মা, মা, তোমার মুখের ও কথা শেষ কোরো না মা।- বক্তা কে? 'মা' বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে? তাঁর মুখের কথা শেষ না-করার অনুরোধ করা হয়েছে কেন?


উত্তর >  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন নবাব সিরাজের স্ত্রী লুৎফা-উন-নেসা তথা লুৎফা।

উত্তর-| উদ্ধৃতাংশে ‘মা’ বলে তিনি সিরাজের বড়োমাসি ঘসেটি বেগমকে সম্বোধন করেছেন।

| ঘসেটি বেগম সিরাজকে গদিচ্যুত করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সিরাজ তাঁকে বিদ্রোহিণী আখ্যা দিয়ে মতিঝিলে নিজ প্রাসাদে নজরবন্দি করেন। বন্দিনি এবং প্রতিহিংসা পরায়ণ ঘসেটি রাগে সম্রাজ্য লোভে অন্ধ হয়ে সিরাজের পতন ও সর্বনাশ কামনা করতে থাকেন। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন যেদিন অন্য কেউ সিরাজের প্রাসাদ অধিকার করে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করে... - ঠিক এসময় নিজের স্বামীর সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতির কথা সহ্য করতে না-পেরে লুৎফা ছুটে এসে, ঘসেটিকে মুখের কথা শেষ না-করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।


প্রশ্ন >  'বলতে পার, ওই ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী ?'— বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ?

অথবা, 'বলতে পার, ওই ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী?' –কে, কাকে উদ্দেশ্য করে নাট্যোক্তিটি করেছেন? ঘসেটি বেগমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলেধরে তোমার মতামত দাও।

উত্তর > শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটকে সিরাজ তাঁর স্ত্রী লুৎফাকে মাসি ঘসেটি বেগম সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন।

। ঘসেটি বেগম ছিলেন নবাব আলিবর্দির বড়োমেয়ে। নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পরে তিনি চেয়েছিলেন তাঁর আর এক বোনের পুত্র শওকতজঙ্গ বাংলার সিংহাসনে বসুক। কিন্তু সিরাজদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। ফলে ঘসেটি; মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখদের সঙ্গে সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হন। এ অবস্থায় ক্ষিপ্ত সিরাজ ক্রমে ঘসেটির মতিঝিলের প্রাসাদ ও ধনসম্পদ অবরুদ্ধ করে শওকতজঙ্গকে যুদ্ধে হত্যা করেন এবং ঘসেটিকে মতিঝিলে নিজ প্রাসাদে নজরবন্দি করেন। ঈর্ষা ও হিংসায় অন্ধ, বন্দিনি ঘসেটির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয় সিরাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও অভিশাপ। তিনি সিরাজকে অভিশাপ

দিতে দিতে বলেন- “চোখের জলে নবাব পথ দেখতে পাবেন না। বেগমকে আজীবন আমারই মতো কেঁদে কাটাতে হবে। ... পলাশি প্রান্তরে কোলাহল ছাপিয়ে উঠবে ক্রন্দন-রোল!” এক অসহায় নারীর দীর্ঘশ্বাসে এবং অকল্যাণের কামনায় প্রতিনিয়ত দহন সিরাজ ও লুৎফা। তাই সিরাজের দুর্দিনে তিনি যেমন মনের খুশি গোপন করেন না, তেমনই পলাশির প্রান্তরে নিজের মুক্তি এবং নবাবের নবাবি অবসান আসন্ন জেনে যখন উৎফুল তখন সিরাজ তার বেগম লুৎফাকে প্রশ্নোপত উক্তিটি বলেছেন।


প্রশ্ন :  'মনে হয় ওর নিশ্বাসে বিষ, এর দৃষ্টিতে আগুন — কে? কার সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে, নাট্যাংশ অবলম্বনে তার চরিত্র আলোচনা করো।


উত্তর >  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত

আলোচা উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন সিরাজপত্নী লুৎফা ।

॥ এখানে যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি হলেন সিরাজের বিরুদ্ধে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারিণী ঘসেটি বেগম, যিনি সম্পর্কে সিরাজের মাসি। তাঁর

চরিত্রবৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-

নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকের যে-অংশটুকু

আমাদের পাঠ্য, তার শেষ অংশে নাটকের দুই নারীচরিত্র ঘসেটি বেগম ও লুৎফা-উন-নেসা প্রায় একইসঙ্গে নাট্যভূমিতে অবতীর্ণ হয়। ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজদ্দৌলার মায়ের বোন অর্থাৎ মাসি। অথচ তাঁর মধ্যে মাতৃসত্তা বিন্দুমাত্র লক্ষ করা যায় না। বরং প্রতিহিংসায় মত্ত হয়ে তিনি প্রতিমুহূর্তে সিরাজের প্রতি বিষোদ্গার করেন।

বাংলার ইতিহাস সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর শত্রুতা পোষণের সাক্ষ্য দেয়। বাধ্য হয়ে সিরাজ তাঁর মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে নিলেও তাঁকে সসম্মানে তাঁর নিজের প্রাসাদে স্থান দিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বস্ব হারানোর, বিশেষত ক্ষমতা হারানোর ক্ষোভ ঘসেটিকে প্রতিনিয়ত দগ্ধ করেছে। সিরাজের মৃত্যুই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।


প্রশ্ন > ‘মনে হয়, ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প! - 'ওর' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? বক্তার উদ্দিষ্টের প্রতি এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো।


উত্তর >  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের নাট্যাংশ ‘সিরাজদ্দৌলা থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত। এখানে বক্তা হলেন সিরাজপত্নী লুৎফা আর ‘ওর’ বলতে বোঝানো হয়েছে সিরাজের বিরুদ্ধে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারিণী ঘসেটি বেগমকে, যিনি সম্পর্কে সিরাজের মাসি।

| নবাব আলিবর্দির তাঁর প্রিয় দৌহিত্র সিরাজকে সিংহাসনে বসানোর

ব্যাপারটি ঘরে-বাইরে অনেকেই মেনে নেয়নি। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন

আলিবর্দির কন্যা ঘসেটি বেগম। তিনি তাঁর অন্য এক বোনের পালিত পুত্র

শওকতজঙ্গকে বাংলার মসনদে দেখতে চেয়েছিলেন। ঘসেটি বেগম নবাবের মাতৃসমা হালেও মাতৃত্বের লেশমাত্র তাঁর মধ্যে লক্ষ করা যায়নি। প্রতিহিংসাপ্রবণা।ঘসেটি সিরাজের প্রতি বিষোদ্‌গার করেন এবং নবাবের সভাসদ ও কোম্পানির সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নবাবকে উৎখাতের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। সিরাজ তাঁর মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে তাঁর নিজের প্রাসাদে স্থান দেন। না-পাওয়ার যন্ত্রণায় ঘসেটির প্রতিনিয়ত অভিশাপবর্ষণ সিরাজকে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। স্ত্রী লুৎফার কাছে নবাব একান্ত আলাপচারিতায় জানতে চান ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী? সিরাজের চোখের জল আর ঘসেটির ভয়ে বিচলিত লুৎফা নবাবের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেছেন।


প্রশ্ন >  এইবার হয়তো শেষ যুগ। কোন যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। বক্তা। এই যুদ্ধকে 'শেষ যুদ্ধ' বলেছেন কেন?

উত্তর>  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজ এখানে আসন্ন পলাশির যুদ্ধের কথা বলেছেন।

| সিরাজ বাংলার মসনদে আসীন হয়েই কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন এবং কলকাতায় গিয়ে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। কিন্তু মাদ্রাজ থেকে ক্লাইভ ফিরে কলকাতা ফের দখলে আনেন। এইসময় পরিস্থিতির চাপে উভয় পক্ষেরমধ্যে আলিনগরের সন্ধির মাধ্যমে মীমাংসা হয়। কিন্তু এসবই ছিল সাময়িক

যুদ্ধবিরতি মাত্র। ইংরেজরা বুঝতে পেরেছিল স্বাধীনচেতা সিরাজকে মসনদ থেকে না সরালে বাংলায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। তাই তারা মীরজাফরকে নবাব করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠদের সঙ্গে সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই লক্ষ্যেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনা পুনরায় কাশিমবাজার অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। আপসহীন সিরাজ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সভাসদদের একত্র করে বহিঃশত্রুকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করেন। কারণ তিনি অনুধাবন করেছিলেন পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের অর্থই হল স্বাধীন বাংলার পতন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্রে, চক্রান্তে জর্জরিত সিরাজের কণ্ঠে সে-কথাই ধ্বনিত হয়েছে।


প্রশ্ন > তাই আজও তার বুকে রক্তের তৃষা। জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি, রাক্ষসী পলাশি। — 'পলাশি' নামকরণের কারণ নির্দেশ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

অথবা, 'জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি, রাক্ষসী পলাশি। বক্তা কে? নাট্যোক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

অথবা, 'জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়। -বক্তার এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর/ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন স্বয়ং সিরাজ।

|| নদিয়া জেলার ভাগীরথীর পূর্বতীরে বাংলার ঐতিহাসিক স্থান পলাশি। লাল পলাশের রঙে রঙিন হয়ে থাকত বলেই জায়গাটির এমন নাম। বাংলার পলাশি নামকরণ ইতিহাসে পলাশি সেই রাম, যেখানে এক লজ্জাজনক নাট্যোক্সিটির ও কলঙ্কময় অধ্যায় অভিনীত হয়েছিল। পলাশের লাল তাৎপর্য বিশ্লেষণ রঙের সঙ্গে। রক্তের রং একাত্ম হয়ে গিয়েছিল।

শচীন্দ্রনাথের নাটকে পলাশির শেষ পরিণতি কী হবে তা না-জেনেই আগে

সিরাজ উক্তিটি করেছেন। সিরাজ জানতেন কোম্পানির সঙ্গে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া কঠিন। নবাব ঘরে-বাইরে শত্ৰুবেষ্টিত হয়ে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ষড়যন্ত্রে সংশয়াচ্ছন্ন সিরাজ মানসিক দিক থেকে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন। ঘসেটি বেগমের অভিসম্পাত তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই নাট্যাংশের শেষ সংলাপে নবাবের দ্বন্দ্বদীর্ণ ক্ষতবিক্ষত

পরিচয় মেলে। মানসিক টানাপোড়েনে আহত নবাব আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পলাশে রাঙা পলাশির পালের নেশা পোচেনি, তাই সে রত্নের পিয়াসি। কিছু

কার রত্ত্ব তা অজানা, কারণ যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে তিনি ছিলেন অনিশ্চিত।


প্রশ্ন: 'জানি না, আর বস্তু সে চায়। এখানে কার কথা বলা হয়েছে। উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর > শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে থেকে গৃহীত

# উদ্ধৃতিতে ঐতিহাসিক স্থান পলাশির প্রান্তরের কথা বলা হয়েছে।


 প্ৰশ্ন >  'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদৌলার চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।


উত্তর>  বিংশ শতাব্দীতে নাট্যকারেরা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তি-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকরূপে ভেবে নাটক রচনায় ব্রতী হন। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ সেরকমই এক ব্যক্তিত্ব। নাট্যকারের বর্ণনায় সিরাজের চরিত্রবৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ—

দেশাত্মবোধ : সিরাজ তাঁর নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে কখনোই

ব্যক্তিগত আলোকে দেখেননি। বরং বাংলার বিপর্যয়ের দুশ্চিন্তাই তাঁর কাছে প্রধান হয়ে ওঠে। বাংলাকে বিদেশি শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে তিনি অধস্তনের কাছে ক্ষমা চাইতে বা শত্রুর সঙ্গে সন্ধিতেও পিছপা হন না।

অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা : সিরাজ বুঝেছিলেন বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়— হিন্দু-মুসলমানের মিলিত প্রতিরোধই পারে বাংলাকে ব্রিটিশদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এই জাতীয়তাবোধ সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।

আত্মসমালোচনা : নবাব বুঝেছিলেন ষড়যন্ত্রীরা যেমন ভুল করেছে, তেমনি অনেক ত্রুটি আছে তাঁর নিজেরও। বাংলার বিপদের দিনে তাই তিনি নিজের ভুল স্বীকারে দ্বিধাগ্রস্ত হন না।

দুর্বল মানসিকতা : সিরাজ তাঁর শত্রুদের চক্রান্ত বুঝতে পারলেও তাদের।বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তেমনই ঘসেটি বেগমের অভিযোগেরও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেন না বরং নিজের দুর্বলতা নিজের

মুখেই স্বীকার করে নেন, 'পারি না শুধু আমি কঠোর নই বলে।

সবমিলিয়ে লেখক সিরাজকে সফল ট্র্যাজিক নায়কের রূপ দিতে সক্ষম

হয়েছেন।

প্রশ্ন >  'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে লুৎফা চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর> আমাদের পাঠ্য শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে

যে দুটি নারীচরিত্র আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সিরাজপত্নী লুত্যা

নাট্যাংশে লুৎফাকে আমরা প্রথম দেখতে পাই ঘসেটি বেগমের সঙ্গে নবাবের মতিঝিলের অধিকার নিয়ে যখন বাদানুবাদ চলছিল তখন। ঘসেটির কথায় শওকতের মতো কেউ নবাবকে যেদিন হত্যা করবেন সেদিনই তিনি শাস্তি পাবেন। স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিসম্পাত অনুরাগের সুরে সেটিকে এমন কথা বলতে বারণ করেন। ঘসেটির  ভৎসনা সত্ত্বেও লুৎফা তার উদ্দেশে একটা কটুকথাও উচ্চারণ করেননি, এটি তার বিনয়। স্বামীর প্রতি লুৎফা একনিষ্ঠ, তাই স্বামীর বিপদের বিষয়ে সে উদ্‌বিন্না। বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বামীর পাশে থেকে, কাজে সাহায্য করেছেন। ঘসেটির প্রতিহিংসা থেকে বাঁচাতে নবাবকে মতিঝিল ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। স্বল্প রাজত্বকালে

নানান সমস্যায় দীর্ণ সিরাজকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে যোগ্য সঙ্গিনীর পরিচয় দিয়েছেন। লুৎফা হলেন সেই নারী যিনি ট্র্যাজিক নায়কের পাশে থেকে তাকে

ভালোবাসা-সেবা-সাহস ও আস্থা জুগিয়েছেন, যাতে হতাশ, সমস্যাদীর্ণ

নবাবের যন্ত্রণার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়েছে।

প্রশ্ন :  ‘সিরাজদ্দৌলা” নাট্যাংশের শেষ অংশে ঘসেটি ও লুৎফা চরিত্র দুটি কীভাবে বিপরীতধর্মী ভূমিকা পালন করেছে, তা আলোচনা করো। 

উত্তর >  নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটকের যে-অংশটুকু আমাদের পাঠ্য, তার শেষ অংশে নাটকের দুই নারীচরিত্র ঘসেটি বেগম ও লুৎফা-উন-নেসা প্রায় একইসঙ্গে নাট্যভূমিতে অবতীর্ণ হয়। ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজদ্দৌলার মায়ের বোন অর্থাৎ মাসি। অথচ তাঁর মধ্যে মাতৃসত্তা বিন্দুমাত্র লক্ষ করা যায় না। বরং প্রতিহিংসায় মত্ত হয়ে তিনি প্রতিমুহূর্তে সিরাজের প্রতি বিষোদ্‌গার করেন। বাংলার ইতিহাস সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর শত্রুতা পোষণের সাক্ষ্য দেয়। বাধ্য হয়ে সিরাজ তাঁর মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে নিলেও তাঁক।সম্মানে তাঁর নিজের প্রাসাদে স্থান দিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বস্ব হারানোর, বিশেষত ক্ষমতা হারানোর ক্ষোভ ঘসেটিকে প্রতিনিয়ত দগ্ধ করেছে। সিরাজের মৃত্যুই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, লুৎফা সিরাজের পত্নী। তিনি স্বামীর মঙ্গল-অমঙ্গল বিষয়ে উদ্‌বিগ্না। তাই ঘসেটির মুখে সিরাজের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও অভিশাপবর্ষণ শুনে তিনি স্থির থাকতে পারেননি, নবাবকে তাঁর প্রাসাদ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। রাজের চোখের জল বিচলিত করেছে লুতফাকে। ঘসেটির উপস্থিতি তাঁর কাছেও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলাশির যুদ্ধের অনিবার্যতার সংবাদে লুৎফা ভয় পান। নবাব-পত্নী হিসেবে তাঁর এই উদবেগ অত্যন্ত স্বাভাবিক।

ঘসেটি ও লুৎফার চরিত্র নাট্যাংশে প্রায় একইসঙ্গে আবির্ভূত হয়েও নাট্যাংশে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দায়িত্ব পালন করেছে। এঁরা দুজন যেন সিরাজের ভাগ্য ও ভবিতব্যের দুটি বিপরীত প্রতিচ্ছবিকে তুলে ধরেছে।



প্রশ্ন: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম স্বার্থাঙ্গেরী, প্রতিহিংসাপরায়ণ, যুগোপযোগী এক বাস্তব নারীচরিত্র- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর>  ঘসেটি বেগম ছিলেন নবাব আলিবর্দির বড়ো মেয়ে। তাঁর প্রকৃত

নাম মেহেরুন্নিসা। তিনি ঢাকার শাসনকর্তা শাহাংজশ-এর স্ত্রী হওয়ার প্রবল ধনসম্পদের অধিকারিণী ছিলেন। সিরাজ কখনোই তাঁর প্রিয়পাত্র ছিল না। তাই আলিবর্দি যখন সিরাজকে বাংলার মসনদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন তখন তা তিনি ভালোভাবে নেননি। সিরাজও এ কথা জেনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বৈরিতায় লিপ্ত হয়েছিলেন। ফলে আলিবর্দির মৃত্যুর পরে সিরাজ বাংলার নবাব হলে ঘসেটি তাঁকে গদিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

ঘসেটির লক্ষ্য ছিল পূর্ণিয়ার শাসনকর্তার পুত্র শওকতজঙ্গকে বাংলার মসনদে বসানো। এ বিষয়ে দেওয়ান রাজবল্লভকে তিনি কাজে লাগান। এভাবেই সিরাজ ও ঘসেটির মধ্যে স্বার্থ আর প্রতিহিংসাপরায়ণতা চরম রূপ ধারণ করে।

ক্রমে আলিবর্দির ভগ্নীপতি মীরজাফর এবং রায়দুর্লভ-জগৎশেঠ-উমিচাঁদ ও

ইয়ারলতিকের মতো প্রভাবশালী সভাসদেরা সিরাজকে অপসারণের চক্রান্তে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ক্ষিপ্ত সিরাজ ক্রমে ঘসেটির মতিঝিলের প্রাসাদ ও ধনসম্পদ অবরুদ্ধ করে শওকতজঙ্গকে যুদ্ধে হত্যা করেন এবং ঘসেটিকে নিজ প্রাসাদে নজরবন্দি করেন। ঈর্ষা ও হিংসায় অন্ধ, বন্দিনি ঘসেটির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয় সিরাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও অভিশাপ। এক অসহায় নারীর দীর্ঘশ্বাসে এবং অকল্যাণের কামনায় প্রতিনিয়ত দগ্ধ হন সিরাজ ও লুৎফা। তাই সিরাজের দুর্দিনে তিনি যেমন মনের খুশি গোপন করেন না, তেমনই পলাশির প্রান্তরে নিজের মুক্তি এবং নবাবের নবাবির অবসান আসন্ন জেনে উৎফুল্ল হন।

এভাবেই এক রাজপরিবারের অনাথা বিধবা ঈর্ষা-হিংসা ও স্বার্থপরতার জীবন্ত তার মিশেলে বাস্তব আর যুগোপযোগী চরিত্র হয়ে ওঠে।