খুব উঁচু ধরে সন্ন্যাসী‌। এখানে সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও। উঁচু দরের বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বহুরূপী গল্প । দশম শ্রেণী - Online story

Wednesday, 20 May 2026

খুব উঁচু ধরে সন্ন্যাসী‌। এখানে সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও। উঁচু দরের বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বহুরূপী গল্প । দশম শ্রেণী

 


বহুরূপী গল্প

 দশম শ্রেণী 


প্রশ্ন: ‘হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম, - হরিদা কে? তাঁর কাছে বক্তা কী গল্প করেছিল?

উত্তর>>  সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপ' গল্পের মুখ্য চরিত্র হল হরিদা। তিনি

পেশায় একজন বহুরূপী। তাঁর জীবনে অনেক অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজের পেশার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

|| বক্তা ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর

 কথা জানিয়েছিলেন। হিমালয় থেকে আসা সেই সন্ন্যাসী সারাবছরে শুধু একটা হরীতকী খান। সন্ন্যাসী হলেও তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম ও একশো টাকা প্রণামি গ্রহণ করেছিলেন।



প্রশ্ন : ‘নারে ভাই, বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর আমি কেমন করে শুনব? - উক্তিটির বক্তা কে? বড়ো মানুষের কোন্ কাণ্ডের খবর সে শোনেনি?

উত্তর>  সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্প থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন

হরিদা।

|| সকাল-সন্ধে চারজন বন্ধু আড্ডা দিতে আসত হরিদার বাড়িতে। তারা

জগদীশবাবুর বাড়িতে কাণ্ডকারখানার খবর জানেন কিনা তা হরিদাকে জিজ্ঞাসা

করেন। তখন তিনি প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করেছেন। এরপর তারা হরিদাকে

জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর গল্প বলেছিলেন।

 সেই সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহায় বাস করতেন। তাঁর সারাবছরের খাদ্য বলতে একটিমাত্র হরীতকী। বয়স হাজারেরও বেশি। তাঁর পদধূলি পাওয়া দুর্লভ। একমাত্র জগদীশবাবুরই কৌশলে সেই পদধূলি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। জগদীশবাবু যখন তাঁকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরাতে গিয়েছিলেন সেই ফাঁকে তা সংগ্রহ করতে হয়েছিল। বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবুর জোর করে দেওয়া একশো টাকার নোট সন্ন্যাসী সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন।

প্রশ্ন: “খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী- সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও। উঁচু দরের বলতে কী বোঝ ?

উত্তর>  সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী

সন্ন্যাসীর পরিচয় হিমালয়ের গুহায় থাকতেন। শোনা যায় তাঁর বয়স নাকি

হাজার বছরেরও বেশি। তিনি সারাবছরে কেবল একটি  হরীতকী খান। জগদীশবাবুর বাড়িতে এসে তিনি সাতদিন ছিলেন।

|| এখানে 'উঁচু দরের' বলতে উচ্চ স্তরের কথা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তিনি আর পাঁচজন সাধারণ সন্ন্যাসীর মতো গড়পড়তা নন। তিনি আলাদা ও ব্যতিক্রমী। তাঁর পায়ের ধুলো ভয়ানক দুর্লভ জিনিস। সোনার বোল লাগানো

খড়ম পরানোর ফাঁকে, জগদীশবাবু তা বহুকষ্টে জোগাড় করেন। তিনি বিদায় নেওয়ার সময় যখন জগদীশবাবু তার ঝোলায় একশো টাকা ফেলে দেন, তখন সন্ন্যাসীর মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির স্মিত হাসি। এর থেকেই ‘উঁচু দরের' এই সর্বত্যাগীর সত্যিকারের স্বরূপটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।