কোনি গল্পের সকল বড়ো প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণীর
![]() |
কোনি গল্পের সকল বড় প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: 'তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।'— কোনির কোন্ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলা হয়েছে। তার 'আসল লজ্জা' ও ‘আসল গর্ব' জলে বলার কারণ কী?
উত্তর> সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ ও কোনিকে প্রশিক্ষক আর সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে নানান প্রতিবন্ধকতা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ধীরেন ঘোষ, বদু চাটুজ্জে, অমিয়া, হরিচরণরা কখনও কোনিকে ক্লাবে ভরতি না-করে, কখনও সাঁতারের পুলে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করে, কখনও-বা প্রথম হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তাকে দ্বিতীয় বলে ঘোষণা করে বিপর্যস্ত করে দিতে চেয়েছে। আসল কথা ক্ষিতীশ ও কোনিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে হারাতে না-পেরে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছে। এমনকি ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতীর দোকানে অমিয়া ব্লাউজ করতে এসে, কোনিকে দেখে বলে— 'তুই এখানে ঝিয়ের কাজ করিস?' অমিয়ার এই বক্তব্য কোনির মর্মে আঘাত করে। তাই কোনি সেই লজ্জা-অপমানের কথা প্রশিক্ষক ক্ষিতীশকে জানালে ক্ষিতীশ কোনিকে তার প্রকৃত ক্ষমতা বিষয়ে অবগত করাতে আলোচ্য কথাটি বলে।
'আসল লজ্জা ও 'আসল গর্ব' জলে
বলার কারণ: অমিয়ার ব্যঙ্গোক্তিতে কোনি আঘাত পাওয়ায় ক্ষিতীশ তাকে উদ্দেশ্য করে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন। ব্যক্তিকে তার কর্ম দিয়ে, সাধনা দিয়ে সকল লাঞ্ছনা জয়ের সামর্থ্য অর্জন করতে হয়। তখন সকল তুচ্ছ মান-অপমান বোধ মূল্যহীন হয়ে পড়ে। কোনির সবচেয়ে বড়ো পরিচয় সে একজন সাঁতারু। একজন সাঁতারুর আসল লজ্জা যখন সে প্রতিযোগিতায় পরাজিত হবে আর গর্ব হল যখন সে জয়লাভ করবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপমান একজন সাঁতারুকে কখনও পরাজিত করতে পারে না। ক্ষিতীশ এ কথাই বলতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন: 'ওর ছিপছিপে শরীরটার মধ্যে দিনে দিনে সঞ্চিত যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডারটিতে যেন বিস্ফোরণ ঘটল 'যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডার' বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? বিস্ফোরণের ফল কী হয়েছিল?
উত্তর/ যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির যন্ত্রণাকে ভাণ্ডার – অর্থ : সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে আমরা দেখি, দিনের-পর-দিন কঠিন থেকে কঠিনতম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কোনিকে তৈরি করেছিলেন ক্ষিতীশ। বহু প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে, নানা হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিকে দূরে সরিয়ে কোনির মধ্যে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন শক্তি আর সাধ। গণ্টার পর ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে উদ্ভূত অমানুষিক হার মানাতে গিয়ে কোনিকে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছিল। ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলে, তাকে কাজে লাগিয়ে দৈহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যে চ্যালেঞ্জ, তাকে বাস্তব রূপ দিতে গিয়ে কোনি ও ক্ষিতীশ দিনরাত এক করে ফেলেছিল। আর এই যন্ত্রণার বিনিময়ে কোনির রোগা শরীরে এক অফুরন্ত শক্তির ভাণ্ডার সজ্জিত হয়েছিল। একেই লেখক 'যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডার' বলে অভিহিত করেছেন।
। বহুদিনের সাধনার ফলে কোনির মধ্যে সজ্জিত শক্তির ভাণ্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় কোনিকে চক্রান্ত করে বিস্ফোরণের ফল বাদ দেওয়া সত্ত্বেও, প্রতিযোগিতার বাইরে থেকেও সে অমিয়াকে পরাজিত করেছিল। পাশাপাশি ক্লাব হওয়ার কারণে অ্যাপোলোর অংশে সাঁতার কেটে কোনি অমিয়াকে হারিয়েছিল।
প্রশ্ন 'এরপর ক্ষিতীশ লক্ষ করল কোনি জল থেকে উঠতে দেরি করছে। এখানে 'এরপর' শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী? কোনির জল থেকে উঠতে দেরির কারণ কী ছিল?
উত্তর/ সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে গঙ্গা থেকে কুড়ানো কোনিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ক্ষিতীশ যে-নিটো কোনিকে করাতেন, তা ছিল কোনির কাছে অসহ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনিং করে শরীর অবশ হয়ে আসত; চরম কষ্টে কোনিকে বলতে শোনা গেছে—'পায়ে পড়ি ক্ষিদ্দা, আর আমি পারছি না। তবুও ক্ষিতীশের মন গলানো যেত না। সাধনার প্রথম পদক্ষেপ যে-সমস্ত যন্ত্রণাকে অতিক্রম করতে শেখা, এ কথা কোনিকে কোনোভাবেই বোঝানো যেত না। তবে ক্ষিতীশের জানা ছিল কোনির দুর্বল জায়গা হল হিয়া মিত্র। হিয়া মিত্রের কাছে হারায় কোনি তার মৃত্যুপথযাত্রী দাদার কথা রাখতে পারেনি। সেই হিয়ার প্রতি তার যে চরম বিতৃষ্ণা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ক্ষিতীশ সেই বিতৃষ্ণা কে কাজে লাগিয়ে কোনিকে উদ্বুদ্ধ করতে চাইতেন। চিড়িয়াখানায় হিয়ার দেওয়া জল প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাকে অন্যভাবে।পরিবেশন করে, কোনির মধ্যে একটা প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি করেন ক্ষিতীশ।
‘এরপর’ বলতে লেখক এই পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ক্ষিতীশ সচেতনভাবেই হিয়ার প্রতি কোনির হিলে এই আক্রোশটাকে, তীক্ষ্ণ করতে চাইতেন। কারণ ওটা কোনির বুকে সঞ্চিত থাকলে আসল সময়ে জলের মধ্যে তা অগ্ন্যুৎপাত ঘটাবেই, এ কথা ক্ষিতীশ জানতেন।
|| কোনির জল থেকে না ওঠার কারণ: হিয়া মিত্র ছিল কোনির সবচেয়ে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বী। কোনির জীবনের প্রথম হারটা এসেছিল এই হিয়ার কাছ থেকেই। তাই তার কথা মনে পড়লেই কোনি বারুদের মতো জ্বলে উঠত। তার এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষিতীশ তাকে উদবুদ্ধ করলে, সে আর জল থেকে উঠত না। অনুশীলনেও নিজেকে গভীরভাবে মগ্ন রাখত।
প্রশ্ন 'এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক ? - কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে। কী কারণে এই পুষে রাখা ?
উত্তর/ মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে হিয়ার প্রতি কোনির হিংস্র আক্রোশ পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে।
||| পুষে রাখার কারণ : দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনি দাদার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল রবীন্দ্র সরোবরের প্রতিযোগিতায় প্রথম হবে। কিন্তু সঠিক প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় কোনি হিয়া মিত্রের কাছে পরাজিত হয় এবং সে তার মৃত্যুপথযাত্রী দাদাকে দেওয়া কথা রাখতে পারে না। ছোটো থেকে কোনির মনে এই ধারণা বদ্ধমূল ছিল 'বড়োলোকেরা গরিবদের ঘেন্না করে। তাই হিয়ার কাছে এই পরাজয় সে মন থেকে মেনে নিতে পারে না। হিয়ার প্রতি তার এই বিতৃষ্ণা ও প্রতিশোধস্পৃহাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষিতীশ তাকে উদ্বুদ্ধ করতে চাইতেন। চিড়িয়াখানায় হিয়ার জল প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাকে অন্যভাবে পরিবেশন করে কোনির মধ্যে একটা প্রতিশোধ স্পৃহা তৈরি করেন ক্ষিতীশ। ক্ষিতীশ সচেতনভাবেই তার এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হিয়ার।প্রতি কোনির হিংস্র এই আক্রোশকে তীক্ষ্ণ করতে চাইতেন। কারণ তিনি জানতেন ওটা কোনির বুকে সজ্জিত থাকলেই আসল সময়ে জলের মধ্যে তা অগ্ন্যুৎপাত ঘটাবে।
প্রশ্ন; 'আজও ছিল আমার সঙ্গে—কী থাকার কথা এখানে বলা হয়েছে? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর/ বক্তার যা থাকার কথা বলা হয়েছে: প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে সাঁতারু কোনির জীবনে তার দাদা কমলের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি রকমের। বাবার মৃত্যুর পর সাঁতারু হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কমলকে সাত ভাই-বোনের সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য, দেড়শো টাকা নাইনের বিনিময়ে গ্যারেজের কাজ নিতে হয়। কমল তার সাঁতারু হওয়ার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য কোনিকে উৎসাহ দিত এবং কোনিও দাদার স্বপ্নপূরণের স্বপ্ন দেখত। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই কমল যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত্যুর পরেও কোনি তার দাদা কমলকে এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারেনি। তাই কোনি যখনই সাঁতার কাটত তার মনে হত, একটা মুখ যেন তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
সে ক্ষিতীশকে জানিয়েছে—‘জানো ক্ষিদ্দা, রোজ যখন প্র্যাকটিস করি, তখন জলের মধ্যে নীচের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, আমার সঙ্গে একটা মুখণ্ড এগিয়ে।চলেছে। আর মুখটা ঠিক যেন তার দাদার মতো। আজ অর্থাৎ কমলদিঘির সাঁতার প্রতিযোগিতার দিনেও সেই মুখ তার সঙ্গে ছিল।
|| উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য: কোনির সাঁতারু জীবনে সবচেয়ে বড়ো উৎসাহদাতা ছিল তার দাদা কমল। কমলের মৃত্যু বাস্তব হলেও সে কোনির অবচেতন মনে একটা চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। কারণ কমলই ছিল তার সাঁতারু হওয়ার প্রথম অনুপ্রেরণা তাই কোনি স্বপ্নে দাদার কাছে মেডেল পাওয়ার অঙ্গীকার করে। তাকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার আবদার জানায়। আসলে কোনির মনোজগতে নিজেরএক পরম প্রিয়জনের শূন্যস্থান তাকে সবসময় আহত করত। তাই জলের নীচে বিভ্রমবশত কোনি তার দাদার মুখ দেখতে পেত। তা ছাড়া আত্মা সম্পর্কিত সংস্কার বা বিশ্বাস থেকেও সে ভয় পেয়েছিল।
প্রশ্ন: 'এভাবে মেডেল জেতায় কোনো আনন্দ নেই'—বক্তা কে? তার এমন কথা বলার কারণ কী ছিল ?
অথবা, 'তোমার লাস্ট ফরটি মিটারস আমি ভুলব না"-কার উক্তি? প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: / বক্তার পরিচয়: প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন কোনির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রের বাবা। নিজের মেয়ে মেডেল জিতলেও কোনির বিরুদ্ধে যেভাবে চক্রান্ত হয়েছিল তা মেনে নিতে পারেনি।।
॥ জুপিটারের একসময়ের চিফ ট্রেনার ক্ষিতীশ ও তারই হাতে গড়া অন্যতম সাঁতারু কোনি ছিল জুপিটারের একটি গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার। এই গোষ্ঠীর চক্রান্তেই স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে দু-বার
ডিসকোয়ালিফাই এবং একবার প্রথম হয়েও দ্বিতীয় স্থান গ্রহণ করতে হয় কোনিকে। এমন অমানবিক ঘটনা হিয়ার বাবাকে বেদনা দেয়, সেই প্রসঙ্গেই আলোচ্য উত্তির অবতারণা।
কারণ/তাৎপর্য: ব্রেস্ট স্ট্রোকের একশো মিটারে কোনির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল হিয়া মিত্র। সেখানে টাইমকিপার বদু চাটুজ্জে কোনিকে মিথ্যা অজুহাতে ফ্ল্যাগ নেড়ে ডিসকোয়ালিফাই করে। এরপর ফ্রি-স্টাইলে কোনি সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছুঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে দেখে অমিয়া এসে ফিনিশিং বোর্ড স্কুল অথচ নাম ঘোষণার সময় প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত হয়। এক্ষেত্রে ক্ষিতীশ প্রতিবাদ করলেও তা গ্রাহ্য হয়নি। দুশো মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে কোনিকে বাটারফ্লাইতে, যজ্ঞেশ্বর ভট্টচাজ আগে থেকেই ফ্ল্যাগ তুলে প্রায় ডিসকোয়ালিফাই করে রেখেছিল। সেদিন সাঁতারের পুলে এই নির্লজ্জতাগুলি সকলের মতো হিয়ার বাবাকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল। আর সেজন্যই মেয়ে মেডেল পেলেও সেই জয় তিনি মেনে নিতে না-পেরে প্রবঞ্চিত কোনির পিঠে চাপড় দিয়ে বলেছেন- 'দুঃখ কোরো না। জোরে সাঁতার কাটার দরকারটা আজ তুমি অনুভব করতে পেরেছ, তুমি লাকি। তোমার লাস্ট ফরটি মিটারস আমি ভুলব না।
প্রশ্ন: 'আমার মেয়েদের আমি উইথড্র করে নিচ্ছি' — বক্তা কে? তার এমন কথা বলার কারণ কী ছিল?
উত্তর> সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস।
|| ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা মহিলা সাঁতারু দল নির্বাচনের সভায়
প্রণবেন্দু আলোচ্য উক্তিটি করেছিলেন। এ কথা বলার কারণগুলি হল-
কোনির অপ্রতিহত প্রতিভা সম্পর্কে
জ্ঞান : ক্ষিতীশের বিরোধী গোষ্ঠীর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা কোনির সামনের সব পথ একে একে বন্ধ করে দিচ্ছিল। এমনকি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা দলে তার স্থান পাওয়াও প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রণবেন্দু বিশ্বাস এর প্রতিবাদ করেন। ইতিপূর্বে তিনি কোনির সাঁতার দেখেছেন। একজন প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশের মতো তিনিও কোনির অপ্রতিহত প্রতিভাকে চিনতে পেরেছিলেন।
বাংলার প্রতি ভালোবাসা: কোনিকে বাংলা দলে রাখলে যে আখেরে রাজ্যেরই লাভ হবে, এটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ‘স্প্রিন্ট ইভেন্টে ওর সমকক্ষ এখন বাংলায় কেউই নেই।
কোনির প্রতি বিশ্বাস: কোনি দলে থাকলে যে বাংলা * কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ ছিনিয়ে আনতে পারবে, সেই বিশ্বাসও তাঁর ছিল। তাই কোনিকে দলে জায়গা দেওয়া নিয়ে প্রণবেন্দু অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ধীরেন ঘোষ প্রমুখর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।
শেষপর্যন্ত কোনিকে না-নিলে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সুইমারদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়ে দেন। তাঁর এই কৌশলেই কোনিবাংলা দলে সুযোগ পায়।
প্রশ্ন : স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে যে-চক্রান্ত করা হয়েছিল, তার বিবরণ দাও।
উত্তর/ চক্রান্তের সূচনা: সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের দরিদ্র কোনির সাঁতারু জীবনের সূত্রপাত থেকেই তাকে একের পর এক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হয়েছে। একদিকে তার সামাজিক অবস্থান, অন্যদিকে ক্ষিতীশের শিষ্যা বলেই ক্ষিতীশের বিরোধী গোষ্ঠী বারবার তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে বাধা দেয়। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হয়।
ব্রেস্ট স্ট্রোক ইভেন্টে চক্রান্ত : ব্রেস্ট স্ট্রোকের ১০০ মিটারে কোনি ও হিয়া একইসঙ্গে ৫০ মিটার থেকে টার্ন নেয়। কিন্তু টাইমকিপার বসু চাটুজ্জে লাল ফ্লাগ নেড়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেয় এই অজুহাতে যে, সে টার্ন করেই আন্ডারওয়াটার ডাবল কিক নিয়েছে।
ফ্রি-স্টাইল ইভেন্টে চক্রান্ত:
ইভেন্টে কোনি সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছোঁয়ার পর অমিয়া এসে হাত ছোঁয়াল। কিন্তু প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত হল। ক্ষিতীশের প্রতিবাদ গ্রাহ্যই করা হল না।
দৃশ্যে মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে
চক্রান্ত: কোনি দুশো মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে বাটারফ্লাইতে হিয়া ও
অমিয়ার কাছে পিছিয়ে পড়লেও, ঝাক স্ট্রোকে অমিয়াকে ধরে ফেলে টার্ন নিতেই দেখা গেল যে, যজ্ঞেশ্বর ভটচাজ লাল ফ্ল্যাগ তুলে ধরেছে। এবার ফলটি টার্ন নিয়েছে বলে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করা হল। অথচ কোনি টার্ন নেওয়ার আগে থেকেই যজ্ঞেশ্বর লাল ফ্ল্যাগ তুলে ধরেছিল।
এইভাবে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন-তিনবার কোনিকে চক্রান্তের শিকার
হতে হয়েছিল।
প্রশ্ন: “রমা যোশির সোনা কুড়োনো বন্ধ করা ছাড়া আমার আর কোন স্বার্থ নেই'—উদ্ধৃতাংশটির আলোকে বক্তার চরিত্রবিশ্লেষণ করো।
উত্তর/ সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের চিহ্ন ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু
বিশ্বাস।
জাতীয়তাবোধ: প্রণবেন্দুর মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রের সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ছিল না, ছিল জাতীয়তাবোধ। তাই হিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াতেও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রমা যোশির সোনা কুড়োনোকে আটকাতে এবং বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে কোনি ওরফে কনকচাপা পালকে বাংলা দলে অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছিলেন। শুধু বলাই নয়, এই কথা বাস্তবায়িত না হলে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে নিজের ক্লাবের মেয়েদের নাম তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন।
সততা: প্রণবেন্দু তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সততা বিসর্জন দেননি। তাই স্টেট
চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে অন্যায়ভাবে ডিস- কোয়ালিফাই করলে কিংবা প্রথম হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় ঘোষণা করা হলে, তিনি তার প্রতিবাদ করেন।
পেশাদারিত্ব: কোচ হিসেবে প্রণবেন্দু ছিলেন যথেষ্ট পেশাদার। তাই ক্ষিতীশ, হিয়ার সাঁতারের সময় জানতে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবে উপস্থিত হলেও তিনি হিয়াকে এমনভাবে নির্দেশ দেন যাতে ক্ষিতীশ কোনো ভাবেই তার সময়টা বুঝতে না পারে।
কোনিকে সাঁতারু হিসেবে তুলে ধরতে যে-কজন সদর্থক ভূমিকা নিয়েছেন
তাদের মধ্যে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের নাম অবশ্যই করতে হয়।
প্রশ্ন: ‘তবে একবার কখনো যদি জলে পাই... -- কোন প্রসঙ্গে কার এই উক্তি ? এখানে 'জলে পাওয়া' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর/ সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে উল্লিখিত উদ্ধৃতিটির বক্তা কোনি ওরফে কনকচাঁপা পাল।
প্রসঙ্গসহ বক্তার পরিচয়: জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলা থেকে যেসব মহিলা সাঁতারুরা গিয়েছিল তার মধ্যে ছিল কোনি। দলের অন্য মেয়েদের সঙ্গে কোনির সদ্ভাব ছিল না। তারা কোনিকে ভয় পেয়েছিল, তাই সাঁতারের বাইরে কোনিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিল। বেলা, অমিয়া, হিয়ারা তাকে পরোক্ষে চোর অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করে। বড়োলোকের মেয়ে হিয়া বেলার ক্রিম নিয়ে মেখে অবশিষ্টটুকু কোনির গালে মাখিয়ে দেয়। বেলা ক্রিম কম দেখে কোনিকে সন্দেহ করে। তার গালে ক্রিমের গন্ধ আবিষ্কার করে অমিয়া। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো কিছু শোনার আগেই বেলা কোনিকে চড় কষিয়ে দেয়। এরপর হিয়া সত্যটা বলতে সকলে শান্ত হয়। সেইসময় কোনি হিয়ার জন্য অপমানিত হয়েছে বলে তার গালে চড় কষিয়ে দিয়ে জানায়, সে বস্তির মেয়ে, হিয়ার মতো অভিজাতের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। তবে যদি সে হিয়াকে কোনোদিন জলে পায় এই পার্থক্য ঘুচিয়ে দেবে।
॥ জলে পাওয়া -মূল অর্থ: কোনির একমাত্র সম্বল তার প্রতিভা আর আত্মবিশ্বাস। হিয়াকে সে অন্য কোনোদিকে পরাজিত করতে না-পারলেও সাঁতারে সে পারবেই—এই আত্মবিশ্বাস তার ছিল। ক্ষিতীশের
কথামতো তার লজ্জা ও শরম যে জলেই, সে-কথা মনে রেখেই কোনি, হিয়ার দিকে এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন : অমিয়ার চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর/ মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের একমাত্র ট্র্যাজিক চরিত্র হল অমিয়া ।
তার চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি হল-
◆ আত্মম্ভরিতা ও আত্মবিশ্বাস : অমিয়া ভালো সাঁতার জানত। অল্পবয়সেই সে হয়ে উঠেছিল বাংলার সেরা সাঁতারু। এই অধিক সাফল্য তার মধ্যে অহংকার এনে দেয়।
◆চাটুকারিতাপ্রিয় : অমিয়ার সাঁতারে সাফল্য তাকে উদ্ধৃত করে তুলেছিল। তাকে ইন্ধন জুগিয়ে গেছে বেলা, অঞ্জুদের মতো চাটুকাররা। অমিয়া এই সমস্ত তোষামোদকারীদের আশকারা পেয়ে মাথায় চড়ে বসেছিল।
◆ বয়সোচিত পরিণতির অভাব : অমিয়া বুঝতে পারেনি সাফল্য চিরকাল স্থায়ী হয় না। বয়স কম হওয়ার দরুন তার অভিজ্ঞতাও ছিল কম। তাই সে তারই প্রশিক্ষক ক্ষিতীশকে অপমান করে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য জুপিটার ছেড়ে অ্যাপোলোতে যোগ দিয়েছে।
◆ নিজেকে নবরূপে আবিষ্কার করা : বাংলার সাঁতারে হিয়া মিত্রের উত্থান
তাকে ধীরে ধীরে বেকায়দায় ফেলতে থাকে। তার পায়ের তলার মাটি সরে গেছে তা সে বুঝতে পারে মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্যাম্পে। তার আশেপাশের চেনা মানুষগুলিরও অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। তাই হারানো জমি পুনরুদ্ধারের আশায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য মনে মনে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়।
প্রশ্ন। ‘হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠল '৭০' সংখ্যাটা।-প্রসঙ্গ উল্লেখ করে '৭০' সংখ্যাটা চোখে ভেসে ওঠার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর/ সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের কাহিনি অনুষারে
মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের
একের পর এক সোনাজয়ী সাঁতারু রমা যোশির নাম শুনেছিল কোনি। মাদ্রাজে গিয়ে রমা যোশির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে। প্রথমটায় সাধারণ চেহারার মেয়েটিকে চিনতে না-পারলেও নাম শুনে সে বুঝে যায়, এই তার সেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী যাকে হারানোর জন্য কোনিকে অক্লান্ত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে পড়ে যায় '৭০' সংখ্যাটি।
রমা যোশি শুধু মহারাষ্ট্র স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে নয়, দিল্লিতে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে সে একাই ছ-টি সোনা জিতে চারটে ব্যক্তিগত রেকর্ড করেছিল। তাই ক্ষিতীশের লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রমা যোশিকে অতিক্রম করার মতো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি কোনিকে দাঁড় করানো। ক্ষিতীশ তাই অ্যাপোলো ক্লাবের বারান্দার দেয়ালে '৭০' লিখে টাঙিয়ে দিয়েছিল, আর কৌতূহলীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি হেসে বলতেন— 'অতবছর আমায় বাঁচতে হবে কিনা, সেটা যাতে মনে থাকে তাই চোখের সামনে রাখলাম রোজ দেখার জন্য। কিন্তু কোনি জানত ওটা হল আসলে ৭০ সেকেন্ড অর্থাৎ ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড, যা ছিল রমা যোশির সময়ের চেয়ে ২ মিনিট কম; আর এটাই ছিল কোনির লক্ষ্য। কোনি যাতে সে-বছরই রমা যোশির সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে, তাই কোনির চোখে সর্বদাই ওই সময়টিকে ভাসিয়ে রেখেছিল। ক্ষিতীশ। শয়নে-স্বপনে কখনও যাতে কোনি এ কথা না-ভোলে, সেইজন্য তার এই ব্যবস্থা। রমা যোশিকে দেখে কোনির সেই কথাই মনে পড়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন: 'আপনারা ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য ওকে ভিক্টিমাইজ করলেন–বক্তা কে? ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য কাকে, কীভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছে?
উত্তর: ক্রীড়াসাংবাদিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের
ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস।
| কোনির সাঁতারু জীবনের সূত্রপাত থেকেই তাকে একের-পর-এক
প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হয়েছে। ক্ষিতীশের শিষ্যা বলেই ক্ষিতীশের
বিরোধী গোষ্ঠী বারবার তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে বাধা দিয়েছে।
স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হয়েছে।
ব্রেস্ট স্ট্রোকের ১০০ মিটারে কোনি ও হিয়া একইসঙ্গে ৫০ মিটার থেকে টার্ন নেয়। কিন্তু টাইমকিপার বদু চাটুজ্জে লাল ফ্ল্যাগ নেড়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেয় এই অজুহাতে যে, সে টার্ন করেই আন্ডারওয়াটার ডাবল-কিক নিয়েছে।
ফ্রি-স্টাইল ইভেন্টে কোনি অমিয়ার আগে সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছুঁলেও প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত হয়।
কোনি দৃশো মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টের বাটারফ্লাইতে হিয়া ও
অমিয়ার কাছে পিছিয়ে পড়লেও ব্যাক স্ট্রোকে অমিয়াকে ধরে ফেলে টার্ন নিতেই যজ্ঞেশ্বর ভট্চাজ লাল ফ্ল্যাগ তুলে ফলটি টার্নের মিথ্যে অভিযোগে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করে।
এইভাবে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন-তিনবার কোনিকে চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছে।
শুধু তাই নয়, মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা দলে নির্বাচিত বাংলা দল হওয়া সত্ত্বেও কোনিকে কোনো প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শেষপর্যন্ত বিলেতে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে অমিয়ার পরিবর্তে কোনির নাম ঘোষণা করে প্রণবেন্দু।
প্রশ্ন: 'কোনি তুমি আনস্পোর্টিং-কোন্ প্রসঙ্গো, কার এই উক্তি?
কোনিকে 'আনস্পোর্টিং' বলার কারণ কী?
উত্তর: ক্রীড়াসাংবাদিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে হিয়ার কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাসের ক্ষুরধার যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে বাংলার সাঁতার দলের নির্বাচকরা বাধ্য হয়ে মাদ্রাজের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু প্রায় সমগ্র টুর্নামেন্টে কোনি স্রেফ দর্শক হিসেবে মনের তীব্র জ্বালা নিয়ে বসে থেকেছে। অবশেষে শেষ গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট রিলেতে অমিয়ার অসুস্থতার কারণে কোনির সামনে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ আসে।
প্রণবেন্দুবাবু কোনির নাম প্রস্তাব করেন। অপমানিতা কোনি অভিমানবশত তাঁর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে হিয়া এই মন্তব্যটি করে।
| রিলেতে না-নামতে চাওয়ার পিছনে ছিল কোনির পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, যা ছিল সংগত। অভিমান ভরা কন্ঠে সে হিয়াকে বলেছে— 'জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে..।
অন্যদিকে, হিয়ার কাছে ব্যক্তিগত মান-অভিমান,অসন্তোষ-আক্রোশের চেয়ে বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছিল বাংলার স্বার্থ, যা ছিল প্রকৃত খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব। কোনির কাছে চড় খাওয়ার অপমান ভুলে তাই হিয়া বাংলার স্বার্থে তার কাছে ছুটে গেছে। হিয়া জানত বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কোনিকে প্রয়োজন। জাতীয় ভাবাবেগের কি কোনির কাছে কোনো মূল্য নেই? এ কথা ভেবেই হিয়া কোনিকে 'তুমি আনস্পোর্টিং' মন্তব্যটি করেছিল।
প্রশ্ন: "শিশু যেমন হাত বাড়িয়ে, দীর্ঘ অদর্শনের পর থাকেদেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেইভাবে তার হাত সে বাড়াল এবং বোর্ড স্পর্শ করল’--উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনি যেভাবে সাফল্য পেয়েছিল তা লেখো।
উত্তর/ সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাস অনুসারে, হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে কোনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেলেও, চক্রান্তের বেড়াজাল ভেদ করতে পারেনি।
দলের সঙ্গে মাদ্রাজ গিয়েও অজানা কারণে কোনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না। দর্শকের মতোই বসে থাকতে হয় তাকে। বাংলা দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অতি গুরুত্বপূর্ণ শেষ ইভেন্ট রিলেতে অমিয়ার অসুস্থতার কারণে তার পরিবর্তে প্রণবেন্দু কোনির নাম সুপারিশ করেন। এরপর কোনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রমা বোশিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। জলের মধ্যে তিরবেগে এগিয়ে যাওয়া কোনিকে তখন মনে হয় যেন কোনো অশরীরী, যে তার পড়ে পাওয়া সুযোগটুকুকে নিংড়ে নিজের সাফল্যকে ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। এতদিন ধরে তিল তিল করে অতিকষ্টে সঞ্চিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে অমানুষিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করেছে কোনি, কখন যেন সেই যন্ত্রণাই তার অন্তরের অপ্রাপ্তি গুলিকে ঘুচিয়ে তাকে সকলের আগে তুলে এনেছে। সাফল্যই সেই যন্ত্রণার মুক্তির স্বরূপ। অবশেষে বহুদিন পর মায়ের দর্শনে শিশু যেমন দু-হাত বাড়িয়ে তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেভাবেই বুভুক্ষুর মতো কোনি দু-হাত বাড়িয়ে ফিনিশিং বোর্ড স্পর্শ করে। এভাবেই কোনির সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটে।
প্রশ্ন ; 'ওই জলের নীচে লুকিয়ে ছিলুম।–কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন মন্তব্য করেছেন? তার এই কথা বলার কারণ কী ছিল?
উত্তর : প্রসঙ্গ - আর্থিক অনটনের জন্য মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাওয়ার সময় ক্ষিতীশ কোনির সঙ্গে যেতে পারেননি। বিনা টিকিটে ট্রেনে করে
মাদ্রাজ যেতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে লক-আপে বন্দি থাকেন। অবশেষে কোনি যেদিন রিলেতে নামার সুযোগ পেল সেদিনই ক্ষিতীশ মুক্তি পেয়ে সেখানে হাজির হন। তাঁকে দেখে কোনি দ্বিগুণ শান্তি পায় এবং অসামান্য দক্ষতায় বিজয়ীর শিরোপা অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে ক্ষিতীশের দেখা পেয়ে কোনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে,
“কোথায় লুকিয়েছিলে তুমি?' উত্তরে ক্ষিতীশ এরূপ উক্তি করেছিলেন।
কারণ- গুরুর ভাবধারা শিষ্যের মধ্যে প্রবাহিত করাই হল শিক্ষাপ্রক্রিয়া যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ক্ষিতীশ তার জীবনদর্শন দিয়ে কোনিকে গড়ে
তুলেছিলেন। শারীরিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে কীভাবে সাফল্যকে ছুঁতে হয়।।ক্ষিতীশ তা দিনের-পর-দিন কোনিকে শিখিয়েছেন।
কোনির প্রতিদিনের জীবন চালিত হয়েছে ক্ষিতীশের নির্দেশিত পথে। ক্ষিতীশ তার কাছে শারীরিকভাবে উপস্থিত না-থাকলেও উপস্থিত ছিলেন তার শিক্ষায়, জ্ঞানে, সিদ্ধান্তে।
কোনির সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরক তার দাদা কমল আর "ক্ষিদ্দা' যেন কখন তার মনের মধ্যে মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল। ক্ষিতীশের সেই অমোঘ নির্দেশ 'ফাইট কোনি ফাইট' সর্বদাই কোনির সঙ্গে থাকত। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ক্ষিতীশের উদ্ধৃত উক্তিটি।
প্রশ্ন: : 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, ‘সব পারে, মানুষ সব পারে ... ফাইট কোনি, ফাইট।— উদ্ধৃতির
আলোকে বক্তার চরিত্র আলোচনা করো।
অথবা, 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।-উপরোক্ত উদ্ধৃতাংশের মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের যে-বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে লেখো।
উত্তর/ প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি'
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ। উপন্যাসে তাঁর চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি এইরূপ-
◆স্পষ্ট বক্তা : সাঁতারের প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ স্পষ্টবাদী স্বভাবের মানুষ। মোটা মানুষ বিষ্টু ধরকে ‘মোটা’ বলতে কিংবা জুপিটারের শৃঙ্খলাহীন ছেলেদের দিয়ে সাঁতার হবে না বলতে তাই তাঁর বাধেনি।
◆ক্লাবপ্রেমী : ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাবকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। সেখান থেকে তিনি চলে আসতে বাধ্য হলেও কোনো শত্রু ক্লাবে তিনি যোগ দেননি, অ্যাপোলোতেও না। সেখানে কোনিকে শেখানোর জন্যই তিনি যেতেন।
অভিজ্ঞ : ক্ষিতীশ এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ক্ষিতীশের মতে, চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না, তাকে শুধু চিনে নিতে হয়। গঙ্গার ঘাটে কোনির লড়াকু সত্তাকে চিনে নিতে ভুল করেনি তাঁর অভিজ্ঞ চোখ।
আপসহীন সংগ্ৰাম: ঔদ্ধত্য বা প্রতিকূলতার কাছে এই দৃঢ়চেতা মানুষটি কোনোদিন মাথা নত করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে যতই চক্রান্ত করা হোক-না-কেন তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী : কোনিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ক্ষিতীশ কঠোর থেকে তার অনুশীলন, শরীরচর্চা, খাওয়াদাওয়া, এমনকি জীবনযাত্রার ধরনকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি কোনিকে শেখান যন্ত্রণা আর সময় তার দুই শত্রু। যন্ত্রণাকে জয় করে চেষ্টা করলে মানুষ সব পারে'। তাই প্রতিনিয়ত তিনি
কোনিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ফাইট কোনি, ফাইট' বলে। এইজন্যই ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোনি যখন নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করছিল তখন ক্ষিদ্দা তাকে বলেছিলেন— 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি। দৈহিকভাবে উপস্থিত না-থেকেও ক্ষিতীশ কোনির জেতার প্রবল ইচ্ছে, জেতার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা, প্রচেষ্টার যন্ত্রণা সব কিছুর মধ্যেই ভীষণভাবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্ন : 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।'— বক্তা কে?
উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে আলোচ্য মন্তব্যটির বক্তা
জুপিটার সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ ওরফে ক্ষিদ্দা।
| ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে গিয়েও চক্রান্তের শিকার হতে হয়
কোনিকে। অকারণে বসিয়ে রাখা হয় তাকে। অন্য সাঁতারুদের থেকে চোর
অপবাদও জোটে। অন্যদিকে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে লক-আপে বন্দি হতে হয় ক্ষিতীশ সিংহকে।
কার্যত কোনির একমাত্র বিশ্বাসের অবলম্বনও অনুপস্থিত। প্রতিযোগিতা শেষে ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির দেখা হলে স্বভাবতই কোনির অভিমানী কণ্ঠস্বরে অভিযোগের সুর বেজে ওঠে। কোনিকে শেষ অবধি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করাতে বাধ্য হয় চক্রান্তকারীরা। জয়লাভ করে বাংলার হয়ে সোনাও জেতে কোনি। ক্ষিদ্দাকে তথা তার ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহকে তার প্রতিযোগিতার মুহূর্তের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ক্ষিদ্দা জলের গভীরে তার যে উপস্থিতি অর্থাৎ একজন সাঁতার ট্রেনারের কাছে জলই যে সব তাই নির্দেশ করেন। প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে যে প্রবল যন্ত্রণা কোনি পেয়েছে তার স্বরূপ বিশ্লেষণে ক্ষিদ্দা জানিয়েছেন, ওই যন্ত্রণাই তিনি। অর্থাৎ ক্ষিতীশ সংসার ভুলেছেন, নিজের ব্যক্তিসুখ বিসর্জন দিয়েছেন কোনি নামক একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে। সহ্য করেছেন বহু লাঞ্ছনা-অপমান। অপমানের সেই তীব্র যন্ত্রণাটা না থাকলে ক্ষিতীশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারতেন না, তৈরি করতে পারতেন না কোনিকে। দিনের পর দিন যন্ত্রণার আগুনে পুড়িয়ে ইস্পাতকঠিন করেছেন কোনিকে। এই যন্ত্রণা একজন ট্রেনার ও একজন ট্রেনির উভয়েরই।
আলোচ্য উক্তিটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষিতীশের সংগ্রামী চেতনারই উদ্ভাসিত রূপ।
প্রশ্ন: 'ফাইট কোনি, ফাইট'—সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ফাইট করতে হয়েছিল, নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা,দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: ইচ্ছাশক্তির জোর: সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসের নামচরিত্র কোনি অত্যন্ত সাধারণ বাড়ির মেয়ে। কিন্তু সাধারণ হয়েওকেবল ইচ্ছাশক্তির জোরে দারিদ্র্য ও নানাবিধ বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে সে শেষপর্যন্ত সাঁতারে ন্যাশন্যাল চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল।
দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই: কোনি জন্মসূত্রেই ছিল এক জাত ফাইটার। শ্যামপুকুর বস্তির এই মেয়েটি
জীবনের শুরু থেকেই টিকে থাকার লড়াই করতে অভ্যস্ত। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তার লড়াই শুরু হয়েছিল দারিদ্র্য আর দুর্ভাগ্যের সঙ্গে। বাবার মৃত্যুর পর দাদা হাল ধরলেও সংসারের নৌকায় গতি আসেনি। বর্তমানে দাদা অসুস্থ। ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আক্রান্ত হয়ে এতটা অসুস্থ যে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না। তাই বাড়ির সাত ভাই-বোন, মাসকলেই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটায়। ক্ষিতীশের দেওয়া টিফিনের টাকা দিয়ে কোনি তাই চাল কেনে। আবার দাদার মৃত্যুর পর কোনি ‘প্রজাপতি’-তে ক্ষিতীশের স্ত্রীর নানা গঞ্জনা সত্ত্বেও কাজ নেয়, শুধু নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। দারিদ্র্যের সঙ্গে এভাবেই কোনিকে লড়াই করতে হয়।
বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই : ক্ষিতীশ তাকে সাঁতার শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয় কোনির জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের লড়াই। প্রথমে জুপিটার ক্লাবে ভরতির পরীক্ষা দিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েও শুধু স্থানাভাবের কারণ দেখিয়ে তাকে ভরতি নেওয়া হয় না। ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির ভাগ্য জড়িয়ে পড়ায় একের-পর-এক প্রতিবন্ধকতা তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রতিযোগিতায় কোনির এনট্রি গৃহীত না-হলেও ক্ষিতীশের চেষ্টায় সে সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তার প্রতিভা ও অবস্থান। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে সে চক্রান্তের শিকার হয়ে দু-বার ডিসকোয়ালিফাই ও একবার প্রথম হয়েও দ্বিতীয় বলে ঘোষিত হয়। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে গিয়েও তাকে অকারণে বসিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, অন্য সাঁতারুদের কাছ থেকে চোর অপবাদও জোটে তার কপালে। কিন্তু অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে জলে নামার
সুযোগ পেয়ে সে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছিল। এভাবেই গঙ্গার এক সাধারণ সাঁতারু থেকে জাতীয় স্তরে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করা এক অপ্রতিহত জীবনযোদ্ধার নাম হয়ে ওঠে কোনি।
প্রশ্ন: 'ফাইট কোনি, ফাইট /- উক্তিটি কীভাবে উপন্যাসের মহামন্ত্র হয়ে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর/ নিম্ন-মধ্যবিত্ত মেয়ের কাহিনিকে কেন্দ্র করে লেখা 'কোনি' উপন্যাসের সূচনায় মতি নন্দী বলেছেন— 'এতে আছে একটি মেয়ের নিরলস অধ্যবসায় ও সমস্যার সাথে মোকাবিলা করে নিজের উত্তরণ। লড়াই করে জিতে যাওয়া। 'ফাইট, কোনি ফাইট'—'লড়াই করে জিতে যাওয়া'-র মহামতা, যা শুধু কোনি নয়, পাঠকবর্গের শরীর ও মন জুড়ে গভীর উত্তেজনা, উন্মাদনাএবং অনুপ্রেরণা সজ্জার করে। কথায় বলে- 'Life is nothing but struggle for existence"। জীবনে সাফল্যের উচ্চশিখরে পৌঁছোতে হলে লক্ষ-কোটি বাধা অতিক্রম করতে হয়। শ্যামপুকুর বস্তির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনিরছোটোবেলা থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই। কিন্তু শেষপর্যন্ত সে তার মনের অদম্য জেদের দ্বারা সফলতার শীর্ষে আসীন হতে পেরেছিল। এই সাফল্যের পিছনে ছিল সাঁতারের মুখ্য প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ ও তাঁরই প্রেরণা 'ফাইট কোনি, ফাইট'—উদ্ধৃতিটি উপন্যাসে বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের কণ্ঠে ধ্বনিত এই উজ্জীবন মন্ত্র আমরা প্রথম শুনতে পাই উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে কোনির এক বন্ধুর মুখ থেকে ‘ফাইট কোনি ফাইট। চালিয়ে যা বক্সিং/ উপন্যাসের প্রথমাংশে এমন ‘ফাইট'-এর পরিচয় পাঠককে বুঝিয়ে দেয়, সমগ্র উপন্যাসটিই কোনির ‘ফাইট’ বহন করবে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ শেষে আবার কথাটি রয়েছে ক্ষিতীশের অবচেতনে থাকা কোনির গঙ্গায় আম কুড়োনোর সময় মারামারিকে কেন্দ্র করে। এরপর নবম পরিচ্ছেদে কোনিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময়, একাদশ পরিচ্ছেদে জুপিটার সুইমিং ক্লাবের কম্পিটিশনে কোনির সাঁতারের সময় এবং চতুর্দশ পরিচ্ছেদে তথা শেষ পরিচ্ছেদে মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে। উপন্যাসে প্রথম আবির্ভাবে কোনি জেদি কিশোরী। এরপর কুড়ি ঘণ্টা হাঁটা প্রতিযোগিতাতেও সে দাঁতে দাঁত চেপে অন্যান্যদের সঙ্গে লড়াই করেছে। পরবর্তীকালে সাঁতারের আকাশে জীবনের ধ্রুবতারা ক্ষিতীশের সান্নিধ্যলাভ ও কঠোর ট্রেনিংয়ে নিজেকে তৈরি করা, মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে রাজনৈতিক কারণে কম্পিটিশনে না নামা আবার পরমুহূর্তে অমিয়ার অসুস্থতার কারণে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাঁতারে সাফল্য লাভ অবশ্যই জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়া। কোনিকে বারবার প্রেরণা দিয়েছে 'ফাইট, কোনি ফাইট'—ক্ষিতীশের এই মন্ত্র। তাই শুধুমাত্র সাঁতার নয়, জীবনের যুদ্ধেও বারবার জিতে যায় কোনির মতো হতদরিদ্র মেয়েরা।
প্রশ্ন: ক্ষিদ্দা কীভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল, সে সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর> প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের প্রধান দুই
চরিত্র হল সাঁতারের প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী
হওয়া কোনি। সব হারানোর দেশের মেয়ে কোনিকে সব পেয়েছির দেশের কোনিতে পরিণত করেছিল প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ।
কোনির স্বপ্নের জন্মাদাতা : শ্যামপুকুর বস্তির এক হতদরিদ্র পরিবারের পিতৃহীনা কন্যা কোনি। বারুণী তিথিতে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা আম কুড়োতে সাঁতার দেওয়ার সময়ই ক্ষিতীশ তাঁকে আবিষ্কার করে। কোনি জানত না যে তার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উপাদান রয়েছে, কিন্তু ক্ষিতীশ বুঝে গিয়েছিল পোহাতুল্য কোনিকে তিনি ইস্পাতে পরিণত করতে পারবেন।
অভিভাবকের আসনে ক্ষিতীশ : ক্ষিতীশ সিংহের সঙ্গে কোনির সম্পর্ক
গুরু-শিষ্যের হলেও ক্ষিতীশ একাধারে কোনির দাদা আবার পিতাও বটে। স্বপ্নে মৃত দাদার কাছে আবদার করা কোনিকে ক্ষিতীশ যেমন চিড়িয়াখানা দেখাতে গিয়ে দাদার ভূমিকা পালন করেছেন, তেমনই তার ভরণপোষণের দায়িত্ব।নিয়ে, সাঁতারে উন্নতির জন্য দৈহিক সুস্থতার দিকে নজর রেখে উপযুক্ত পিতার ভূমিকা পালন করেছেন ক্ষিতীশ।
◆ প্রতিজ্ঞা পূরণ : নাড়ির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জুপিটার সুইমিং ক্লাবের অপমান পেয়ে ক্ষিতীশ শত্রু ক্লাব অ্যাপোলোতে এসেছিলেন শুধু কোনির জন্য। নিজের সংসার, পরিবারের কথা ভুলে কোনিকে নিয়েই চলল তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণের কাজ, যা কোনির সাফল্যে সাহায্য করেছিল।
> চারিত্রিক গুণাবলির জাগরণ : ক্ষিতীশ কোনিকে কেবল স্নেহ-মমতা দেননি, প্রয়োজনে শাসনও করেছেন। ঘণ্টার পর ঘন্টা সাঁতারে ক্লান্ত কোনি জল ছেড়ে উঠতে চাইলে ক্ষিতীশ কখনও বাঁশ, কখনও ইঁট নিয়ে তাড়া করেছেন। আবার চারিত্রিক দৃঢ়তা, দুর্দমনীয় জেদ, জেতার আকাঙ্ক্ষা – এসব বাড়িয়ে তুলতেও ক্ষিতীশ কোনিকে প্রেরণা যুগিয়েছেন।
বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক : কথায় আছে, যিনি প্রশিক্ষক হবেন তিনি
হবেন ‘Friend, Philosopher and Guide'। সম্পূর্ণ উপন্যাস কাহিনিতে
আমরা দেখতে পাব, ক্ষিতীশ সিংহ কখনও কোনির সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে গেছেন, কখনও দার্শনিক হয়ে ‘জীবন’ বিষয়টিকে বোঝাতে চেয়েছেন, আবার কখনও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।
মোটকথা ক্ষিতীশের তিল তিল করে গড়ে তোলা ভালোবাসা, স্নেহ, শাসন
আর পরিশ্রমেই কোনি হয়ে উঠেছে তিলোত্তমা।
প্রশ্ন 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহের যে-জীবনদর্শন ব্যক্ত হয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর 'কোনি' উপন্যাসে কোনির ‘ক্ষিদ্দা' অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহ আগাগোড়া এক ব্যতিক্রমী মানুষ।
উপন্যাসের শুরুতে বিচরণের সঙ্গে কথোপকথনে ক্ষিতীশ নিজের শরীরকে চাকর বানানোর পরামর্শ দেন এবং পরক্ষণেই তার প্রমাণও দেন। তখনই পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্ষিতীশের ভিতরকার এক সুস্থসবল যুবক যেন আমাদের চোখে পড়ে। তিনি বিষ্ণুকে জানান যে, শুধু গায়ের জোর নয়, বরং মানসিক জোর বা ইচ্ছাশক্তিও জরুরি।চ্যাম্পিয়ন তৈরি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, প্রশিক্ষককে মনস্তাত্ত্বিক হতে হয়।
চ্যাম্পিয়ন তৈরির ক্ষেত্রে জীবনদর্শন
গুরুকে শিষ্যের কাছে শ্রদ্ধেয় হতে হয়। কথা, কাজ ও উদাহরণ দিয়ে তার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে হয়। তাঁর ঘরে পাখা ছিল না, বিছানাও ছিল না। কারণ তিনি মনে করতেন যে, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু শিষ্যকেই নয়, গুরুকেও কঠোর জীবনযাপন করতে হয়।
ক্ষিতীশের মতে, ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার জন্য সময় ও শক্তির অপচয় করা সময় ও শক্তির অপচয়বোধ
ছেড়ে দেশের জন্য গৌরব আনতে হবে। চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না। তাদের চিনে নিতে হয়। কোনিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শিক্ষা দিতে গিয়ে ক্ষিদ্দা তাকে চরম যন্ত্রণার মধ্যেই থেকে খাটিয়েছেন।
সাফল্য : ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর কোনিকে যন্ত্রণার কথা বলতে শুনে তার ক্ষিদ্দা তাকে বলেছিলেন, 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।
প্রশ্ন: কোনি চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর: যে-চরিত্রের নামানুসারে 'কোনি' উপন্যাসের নামকরণ, সেটিই যে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হবে, তা বলাই বাহুল্য। শ্যামপুকুর বস্তির এই ডানপিটে স্বভাবের মেয়েটির সাফল্যের শিখর ছোঁয়ার কাহিনির মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পাঠকের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়।
◆লড়াকু : গল্পের শুরুতে গঙ্গায় আম কুড়োনো থেকে শুরু করে, ক্লাইম্যাক্সে
ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের সুইমিং পুলে সর্বত্রই কোনির লড়াকু মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। শুধু সাঁতারের ক্ষেত্রে নয়, জীবনযুদ্ধের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে নির্ভীকভাবে লড়াই চালায় প্রতিপক্ষ আর প্রতিকূলতার সঙ্গে।
◆ কষ্টসহিষু : দারিদ্র্য্য, খিদে, কায়িক শ্রম—যে-কোনো কষ্টকেই কোনি দাঁতে
দাঁত চেপে সহ্য করে নেয়। শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহও তাকে সেই শিক্ষাই দেন।
তার এই কষ্টসহিষ্কৃতা আর অধ্যবসায়ই শেষপর্যন্ত তাকে সাফল্য এনে দেয় ।
◆ দায়িত্বশীলা : সংসারের অভাব সম্পর্কে সচেতন কোনি সবসময় সংসারের পাশেই থেকেছে। নিজের টিফিনের টাকা, ‘প্রজাপতি'-তে কাজ করে উপার্জিত সামান্য চল্লিশ টাকা সে সংসারেই দিয়ে দিত। নিজের কাজের প্রতিও দায়িত্বশীল ছিল সে।
◆ শিশুসুলভ মন : চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকলেও কোনির ভিতরে থাকা
শিশুসুলভ মনটি হারিয়ে যায়নি। তার চিড়িয়াখানা দেখা কিংবা রাত জেগে যাত্রা দেখার মধ্যে শিশুসুলভ মনের পরিচয় মেলে।
◆ দৃঢ়চেতা : জীবনে বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও কখনোই ভেঙে পড়ে না কোনি। সমস্ত দুর্ভাগ্য, প্রতিবন্ধকতা, অপমান আর চক্রান্তের দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করে সে। তার জেদ আর দৃঢ় মনোভাবের মধ্যে ক্ষিতীশ সিংহ খুঁজে পান লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নকে।
◆ খেলোয়াড়সুলভ : হিয়া কোনিকে 'আনস্পোর্টিং' বললেও সমগ্র উপন্যাস জুড়েই আমরা তার খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবেরই পরিচয় পাই। শেষপর্যন্ত হিয়ার ‘আনস্পোর্টিং’ অপবাদের জবাবও সে খেলোয়াড় সুলভ ভাবেই দেয়।
তাই সব মিলিয়ে কোনি হয়ে ওঠে জীবনযুদ্ধের এক নির্ভীক সৈনিক।
প্রশ্ন: 'অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।-কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল, তা লেখো।
উত্তর; উদ্ধৃতাংশটি মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত। বস্তির মেয়ে কোনির সাঁতার কাটার শুরু গঙ্গায়। সেখান থেকে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা করে নেওয়ার পথটা তারজন্য নেহাত সহজ ছিল না। দারিদ্র্য ও অশিক্ষার কারণে তাকে পদে পদে হেনস্থা হতে হয়েছে তথাকথিত শিক্ষিত, সভ্যসমাজের কাছে। বিশেষত, ক্ষিতীশ সিংহের ছাত্রী হওয়ার দরুন বারবার
ক্লাবের সংকীর্ণ রাজনীতি, দলাদলি ও চক্রান্তের শিকার হয়েছে কোনি। কিন্তু
কোনিকে তার প্রশিক্ষক প্রতিনিয়ত উৎসাহ যুগিয়েছেন তাকে। মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির সুযোগ পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত ছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত সে মনোনয়ন পায়। যে কারণে সে মনোনয়ন পেয়েছিল, তা নিম্নরূপ-
কোনির বাংলা দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে অবশ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস।
কোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক হওয় সত্ত্বেও কোনির বিরুদ্ধে ঘটে চলা হীন চক্রান্তের প্রতিবাদ করেন তিনি। সংকীর্ণ দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বলেন, 'বেঙ্গালের স্বার্থেই কনকচাপা পালকে টিমে রাখতে হবে।' তাঁর অভিজ্ঞ চোখ কোনির প্রতিভাকে চিনে নিতে ভুল করেনি।
প্রণবেন্দু কোনিকে সমর্থন করছে দেখে ক্ষুব্ধ ধীরেন ঘোষ স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রসঙ্গ তুললে প্রণবেন্দু জানিয়ে দেয়, তুচ্ছ দলাদলি তুলে রমা যোশির ফ্রি-স্টাইলে সোনা আটকাতে কোনিকে প্রয়োজন। এমনকি স্প্রিন্ট ইভেন্টেও জিততে গেলে বাংলা দলে কোনিকে রাখতেই হবে।
ধীরেন ঘোষদের অনেক বোঝানো সত্ত্বেও তারা কোনিকে দলে না-নেওয়ার ক্ষেত্রে অটল থাকে। ফলে প্রণবেন্দু হুমকি দেয় এই বলে – ‘তাহলে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সুইমারদের বাদ দিয়েই আপনাদের টিম করতে হবে। আমার মেয়েদের আমি উইথড্র করে নিচ্ছি। ধীরেন ঘোষরা এরপর বাধ্য হয় কোনিকে দলে নিতে।
এভাবেই নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি প্রণবেন্দু বিশ্বাসের ইতিবাচক ভূমিকায় বাংলা দলে জায়গা পায় কোনি। করো।
প্রশ্ন 'কোনি' উপন্যাসে বিষ্টুচরণ ধরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর > প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসে কোনির সাফল্য লাভ ও ক্ষিতীশের অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামের মধ্যে যে চরিত্রের উপস্থিতি কমিক রিলিফ এনেছে, তা হল বিষ্টুচরণ ধর ওরফে বেষ্টাদা। বনেদি বংশের বছর চল্লিশের এই সন্তান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে একটু অন্যরকম,যার
পরিচয় এইরূপ-
◆ অপমানবোধ : বিষ্ণু ধরের মধ্যে অপমানবোধ ছিল প্রবল। তার মোটা
শরীরের দিকে তাকিয়ে লোকে যে হাসে, সে সেটা জানত আর তা নিয়ে দুঃখের সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে অপমানবোধও জেগে উঠত।
◆ পেটুক স্বভাব : বিষ্ণু ধর ছিল পেটুক স্বভাবের মানুষ। ডায়েটিং-এর নামে বিষ্টু ধর ক্ষিতীশের কাছে খাওয়াদাওয়ার যে বিবরণ দিয়েছিল, তাতে তার পেটুক স্বভাবেরই পরিচয় মেলে।
◆ ক্ষিতীশের প্রতি সম্মানবোধ : ক্ষিতীশের জ্ঞান, বুদ্ধি ও জীবনদর্শনে বিষ্টু ধর প্রভাবিত হয়েছিল। ক্ষিতীশের প্রতি বিষ্ণুর শ্রদ্ধা ছিল অকৃত্রিম। তাই লীলাবতীর দেওয়া টাকা কিংবা অ্যাপোলো ক্লাবের ডোনেশন- এসব কোনো ক্ষেত্রেই সে ক্ষিতীশের কথার অমান্য করেনি।
◆ সম্মান কেনার প্রবণতা : জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এমএলএ
বিনোদ ভড়ের মতো বিষ্টু ধরও চেয়েছিল জনসংযোগ বাড়িয়ে মন্ত্রী কিংবা এমএলএ হতে। তাই টাকা দিয়েই সে অ্যাপোলো সুইমিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিল।
◆ বুদ্ধিহীন : বিষ্টু ধরের প্রখর বুদ্ধির অভাব ছিল। তাই বক্তৃতাটুকু সে গুছিয়ে বলতে পারত না। ভাষার ব্যবহারও ঠিকঠাক পারত না। কৃচ্ছসাধন’-কে তাই সে 'কেচ্ছাসাধন' উচ্চারণ করে।
◆ সহজসরল : বিন্টু ধরের ছিল শিশুসুলভ সরলতা। সাঁতারে কোনি অমিয়াকে হারিয়ে দিলে তার চিৎকার, দশ কেজি রসগোল্লার অর্ডার দেওয়া ইত্যাদি কাজে তার সরলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
এভাবে দোষে গুণে ভরা চরিত্রটি পাঠকের সামনে উজ্জ্বলভাবে ফুটে
উঠেছে।
প্রশ্ন: হিয়া মিত্রের চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর> সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের কিশোরী চরিত্র হিয়া মিত্র অভিজাত বিত্তবান পরিবারের সন্তান। কোনির মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চ্যালেঞ্জ তাকে নিতে হয়নি। বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণবেন্দু বিশ্বাসের মতো কোচ পেতে তাকে কোনো লড়াই জিততে হয়নি।
◆ বিজয়ীর মানসিকতা : হিয়া মিত্রের মধ্যে প্রতিযোগিতার জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। জয় পেলে সে খুশি হত, আনন্দে ফেটে পড়ত মেডেল দেখে। রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত সাঁতারে প্রথম হয়ে তেমন আচরণই করেছিল সে।
◆ নিরহংকার : বিত্তবান পরিবারের মেয়ে হিয়া মাটিতে পা রেখে চলতে
জানে। অমিয়ার মতো তাকে কখনও অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনা যায় না। আবার চিড়িয়াখানায় মিস নন্দীর কাছে জল চেয়ে অপমানিত হয়ে কোনি ফিরে এলে নিরহংকার হিয়া ক্ষিতীশ ও কোনির জন্য দু-গ্লাস জল নিয়ে আসে।
◆ সহজসরল : হিয়া মজা করে বেলার ক্রিমের কৌটো থেকে ক্রিম নিয়ে নিজে মেখে কোনির গালে লাগিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করে না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনির কাছে তাকে চড়ও খেতে হয়।
◆ খেলোয়াড়সুলভ : ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে কোনিকে ডাকতে ছুটে আসে হিয়া। গোটা উপন্যাসে তার মুখে কোনি বিরুদ্ধে কেবল দুটি কথা শোনা যায়। প্রথম, ‘অত হিংসে ভাল নয়' এবং দ্বিতীয় যখন কোনি রিলে নামতে রাজি হয় না তখন ‘কোনি তুমি আনস্পোর্টিং।
◆ যোগ্যকে সম্মান দেওয়া : হিয়া বুঝেছিল কোনি তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু তা নিয়ে কোনির প্রতি তার হিংসা ছিল না বরং তাকে যোগ্য সম্মান দিতে সে ভুল করেনি।
হিয়া ছিল কোনির দুর্বলতা। হিয়াকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যেই যেন
কোনির সাফল্যের সূত্রপাত। তাই কোনির উত্থানের পিছনে হিয়া মিত্রের পরোক্ষ অবদানও অস্বীকার করা যায় না।
প্রশ্ন: 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে প্রণবেন্দু চরিত্রটির পরিচয় দাও।
উত্তর > শেকসপিয়র বলেছিলেন- 'Character is the Soul of
Drama'। 'কোনি' উপন্যাস, নাটক নয়। কিন্তু চরিত্র যেমন নাটকের আত্মা, তেমনি পার্শ্বচরিত্র বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সাঁতারের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস 'কোনি' উপন্যাসের ‘Soul' হয়ে উঠেছে। তাঁর চরিত্রের কয়েকটি দিক-
◆ অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশিক্ষক : বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সাঁতারের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস ছিলেন যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন। তাঁরই প্রশিক্ষণে হিয়া মিত্র একজন যোগ্য সাঁতারু হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিল।
◆ বিচক্ষণ মানুষ : প্রণবেন্দু নিজের ছাত্রীর অনুশীলন সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তিনি বুঝে গিয়েছিলেন হিয়ার টাইম জানতেই ক্ষিতীশ বালিগঞ্জ ক্লাবে আসে, তাই তিনি হিয়াকে এমনভাবে সাঁতার কাটতে বলতেন, যাতে ক্ষিতীশের
উদ্দেশ্য সফল না হয়। আবার বিচক্ষণতা দিয়ে কোনির প্রতিভাকে চিনতে তিনি ভুল করেননি।
◆ যুক্তিবাদী : বিএএসএ নির্বাচনী সভায় অ্যাপোলো ক্লাবের সাঁতারুকে
(কোনিকে) না-নিয়ে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপের দলগঠন হলে প্রণবেন্দু প্রতিবাদ করেন। কোনির সম্পর্কে যুক্তি দিয়ে বলেন, 'স্প্লিন্ট ইভেন্টে এর সমকক্ষ এখন বাংলায় কেউ নেই।
◆ যোগ্যজনে মর্যাদাদান : প্রণবেন্দু সৎ ও নিরপেক্ষ বলেই যোগ্যজনে
মর্যাদাদানে তাঁর অসুবিধা হয়নি। হিয়া মিত্রের কোচ হওয়া সত্ত্বেও তিনি
বেঙ্গলের স্বার্থে কোনি তথা কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে চেয়েছিলেন।
◆ খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব : প্রণবেন্দুর ছিল খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব। হিয়ার কোচ হয়েও কোনির প্রতি তাঁর হিংসা ছিল না। তাই বেঙ্গলের স্বার্থেই নিজেই উদ্যোগী হয়ে কোনিকে অমিয়ার জায়গায় ৪ × ১০০ রিলে ইভেন্টে নামিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ বাংলা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল।
এইভাবে চরিত্রটি ঔপন্যাসিকের কলমে একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
প্রশ্ন: 'কোনি' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে স্বামীর যোগ্য সহধর্মিণী রূপে লীলাবতীর পরিচয় দাও।
উত্তর > সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যদি হয় কোনি ও ক্ষিতীশ, তা হলে এই দুই চরিত্রকে ধারণ করে রেখেছে ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী। সে কেবল ক্ষিতীশের মেরুদণ্ড বা support system হিসেবেই কাজ করেনি, এক প্রখর ব্যক্তিত্ব ও নিজস্বতারও ছাপ রেখেছে গোটা উপন্যাস জুড়ে।
◆ উদ্যমী : সংসার চালানোর অর্থের উৎস যে-দোকানটি, তার উন্নয়নের
জন্য দোকানটিকে ক্ষিতীশের হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে লীলাবতী। সেজন্য নিজের গহনা বন্ধক দিয়েছে এবং প্রচুর পরিশ্রম করে দোকানটি দাঁড় করিয়েছে।
◆ দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্না : কোনিকে প্রশিক্ষণ দিতে ক্ষিতীশের একপয়সা
রোজগার তো হয়ই না, বরং নিজের পয়সা খরচ করে কোনির খাওয়াদাওয়ার ভার নিতে হয়। কিন্তু লীলাবতী এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করে না, শুধু নতুন দোকানের সেলামি বাবদ টাকা দিতে হবে বলে ব্যয়সংকোচের কথা স্বামীকে মনে করিয়ে দেয়।
◆স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল : ক্ষিতীশ স্ত্রীর প্রখর ব্যক্তিত্বকে ভয় করলেও
লীলাবতী কিন্তু স্বামীকে শ্রদ্ধা করে। তাই স্বামীর এঁটো থালায় খেতেও সে
কুণ্ঠাবোধ করে না। ক্ষিতীশ দৈহিক সুস্থতার হেতু দেখিয়ে সেদ্ধ খাওয়া চালু
করলে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তা মেনে চলে। ক্ষিতীশ বিচরণের কাছ থেকে
সেলামির টাকা উদ্ধার করে দেবে জানালে সে স্বামীর সে-কথা কায়মনোবাক্যে বিশ্বাস করে।
◆ সহানুভূতিশীল : খাওয়াদাওয়ার শর্তে কোনিকে লীলাবতীর দোকানে কাজ করতে হয়, যদিও কোনিকে লীলাবতী বেতনও দেয়। দোকানে যেতে দেরি হলে লীলাবতী যেমন কোনিকে বলে ‘বেরিয়ে যাও, তেমনই জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতা জিতলে কোনিকে সিল্কের শাড়ি পুরস্কার দেওয়ারও কথা দেয়।
মোটের উপরে, লীলাবতী চরিত্রটিকে ক্ষিতীশের প্রধান সহযোগী চরিত্র
বললে চরিত্রটির যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়।
প্রশ্ন: ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করানোর জন্য যে-কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন, তার পরিচয় দাও।
উত্তর > সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে নিষ্ঠাবান সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ কোনির ভিতরে লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষণগুলিকে চিনতে পেরেছিলেন। তাই তাকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর লক্ষ্যে তিনি তারজন্য কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
◆সাঁতার শেখানোর কৌশল; সাঁতার শেখানোর কৌশল প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার দু-সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষিতীশ কোনিকে সাঁতারের বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ছ-টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সাঁতার প্রশিক্ষণ চলত শীতকালেও কোনো ছাড় ছিল না।
কোনির সাঁতারের উন্নতির জন্য ক্ষিতীশেরঅমানবিক আচরণ: প্রতিদিন দুটো ডিম, দুটো কলা আর দুটো টোস্টের আয়োজন করে; যা এক অর্থে ছিল অমানবিকতা, কারণ কাউকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বেশি খাটিয়ে নেওয়াট অমানবিকতার নিদর্শন। আবার সাঁতার ছেড়ে কোনি জল ছেড়ে উঠতে চাইলে ক্ষিতীশ লগা দিয়ে তার মাথা ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখাতেন।
◆ '৭০' সংখ্যা লিখে অনুশীলন: ক্ষিতীশের হাতে থাকত স্টপওয়াচ। প্রতিদিন কঠোর অনুশীলনে ক্ষিতীশ কোনিকে সাঁতার শেখাত। এমনকি মহারাষ্ট্রের রমা যোশির একশো মিটার ফ্রি-স্টাইলে বাহাত্তর সেকেন্ড রেকর্ড দেখে কোনির চোখে পড়ার জন্য '৭০' সংখ্য লিখে ক্লাবের বারান্দায় সেঁটে দেয় ক্ষিতীশ।
◆কোনির খাওয়াদাওয়া: সাঁতার শিখতে গেলে ভালো খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু কোনি অত্যন্ত দরিদ্র বাড়ির হওয়ায় অনুশীলন বাড়াবার জন্য ক্ষিতীশ নিজের বাড়িতে কোনির খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
◆ ক্লান্ত কোনির অনুশীলন: কমল দিঘির জলে কোনি একা। অবিরাম সাঁতার কেটে চলেছে কোনি। ক্লান্ত হাত। হাঁ করে বাতাস গিলছে। চোখও আচ্ছন্ন। যন্ত্রণা ঠেলে বেরিয়ে আসছে। কোনির দু-চোখে ক্ষিতীশের ওপর একরাশ রাগ, ঘৃণা আর আক্রোশ। তবু বিশ্রাম নেই কোনির।
এভাবেই ক্ষিতীশের কঠোর প্রশিক্ষণে দক্ষ সাঁতারু হয়ে ওঠে কোনি।
প্রশ্ন: 'এবার বরং প্রজাপতিকে দেখাশুনা করো।-বক্তা কে? ‘প্রজাপতি' কী? বক্তা কেন এমন উপদেশ দিয়েছেন?
উত্তর: সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা ভেলো।
| ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী, টেলারিং-এ ডিপ্লোমা পাওয়া দুটি মেয়েকে
নিয়ে বাচ্চা ও মহিলাদের পোশাক তৈরি করার জন্য সিনহা টেলারিংকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলে গড়ে তোলে 'প্রজাপতি'।
|| সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে পঁয়ত্রিশ বছরের সম্পর্ক। অথচ ক্লাবের ঘৃণ্য ক্রীড়া-রাজনীতির শিকার হতে হয় তাঁকে। ক্লাবে সভা ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাঁকে একপ্রকার ক্লাব ছাড়তে বাধ্য করে
হরিচরণ, ধীরেন ঘোষ, বদু চাটুজ্জের মতো বদ ও শয়তান ক্লাব সদস্যরা। কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কমলদিঘির জলের শ্যাওলা আর ঝাঁঝির আঁশটে গন্ধই তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, এমন সুঘ্রাণ হয়তো আর কোথাও নেই। আজ হঠাৎ সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়ে দিশাহীন ক্ষিতীশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নিজের শিষ্যসম ভেলোর কাছে তাই জানতে চেয়েছেন-'কী করি এখন বলতো রে। একেবারেই বেকার হয়ে গেলুম। তখনই ভেলো পরামর্শ দেয়, ক্ষিতীশ যেন 'প্রজাপতি'-কে একটু দেখাশোনা করেন। কারণ একলা মেয়েমানুষ লীলাবতীর চালু দোকান সামলাতে হিমশিম অবস্থা, তাই ক্ষিতীশের
উপস্থিতিতে সুবিধাই হবে ভেবে সে এমন পরামর্শ দিয়েছিল।
প্রশ্ন: '"ভারিক্কিমালে বিষ্ণুধর ঘোষণা করল এবং গলার স্বরে বোঝা গেল এর জন্য সে গর্বিত-বিষ্টুম্বর ভারিক্কিচালে কী ঘোষণা করেছিল? সে যে-বিষয়ের জন্য গর্ববোধ করত তার পরিচয় দাও ।
উত্তৰ > প্ৰখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক মতি নন্দীর ‘কোনি’
উপন্যাসের একটি বর্ণময় চরিত্র বিষ্টুচরণ ধর। মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া আর কুঁড়েমির ফলে ধনী বিষ্টুচরণ প্রায় একটি সাড়ে তিন মণ দেহের চর্বির পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। অথচ তার ধারণা, সে যথেষ্ট সংযমী জীবনযাপন করে। তাই বিষ্ণুধর ভারিক্কিচালে ঘোষণা করে যে, খাওয়ার প্রতি তার কোনো লোভ নেই এবং সে নিয়মিত ডায়েটিং করে।
| বিষ্ণু ধরের গর্ববোধ মূলত তার ‘ডায়েটিং’-এর জন্য। এই ‘ডায়েটিং'-এর বর্ণনা এইরূপ—
বিষ্ণু ধর আগে রোজ আধ কিলো ক্ষীর খেত। কিন্তু এখন খায় মাত্র তিনশো গ্রাম। বিন্টু আগে যে পরিমাণ ঘি খেত, এখন তা একেবারেই কমিয়ে দিয়েছে। গরম ভাতে চার চামচের একবিন্দুও ঘি সে এখন খায় না।
বিষ্ণু ধর আগে জলখাবারে কুড়িটা লুচি খেত, এখন কমে দাঁড়িয়েছে তা
পনেরোতে। দুপুরে মাত্র আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত খায়। বিকেলে একেবারে হালকা খাবার সে খায়। মাত্র দু-গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটে কড়াপাক সন্দেশ তার জন্য বরাদ্দ থাকে। আর রাতে রুটি বারো খানা।
বিষ্ণু ধরের বাড়িতে রাধাগোবিন্দের বিগ্রহ রয়েছে বলে সে মাছ-মাংস ছুঁয়েও দেখে না। সুতরাং সংযম-কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যেই সে বেঁচে আছে।
প্রশ্ন: সফল সাঁতারু হওয়ার ক্ষেত্রে কোনির প্রতিবন্ধকতাগুলি কী ছিল? সেগুলি কাটিয়ে উঠতে ক্ষিতীশ সিংহ তাকে কীভাবে সাহায্য
উত্তর: সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের নামচরিত্র কোনিকে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে শেষপর্যন্ত সফল হতে দেখি। মূলত দুটি প্রতিবন্ধকতা তাকে বহুদিন সফল হতে দেয়নি। প্রতিবন্ধকতা দুটি হল-
◆ আর্থিক দুরবস্থা : কোনি এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বস্তিবাসী কোনির মধ্যে সাহস-জেদ অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। কিন্তু তার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিকূলে। পেটের খাবারের কিংবা শিক্ষার অভাব এবং মা ও সাত ভাই-বোনের সংসারে সীমাহীন দারিদ্র্যের সঙ্গে দিনযাপন – এসব কোনো কিছুই উপেক্ষা করা কোনির পক্ষে সহজ ছিল না।
◆ প্রশিক্ষকের অভাব: সত্যিকারের সাঁতারু হয়ে উঠতে গেলে শুধু সাঁতার জানলেই চলে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আর সাধনার প্রয়োজন হয়। এই এতকিছু 'নেই'–এর মধ্যেও ক্ষিদ্দা তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নের সহজাত লক্ষণটিকে ঠিক চিনতে পেরেছিলেন।
| সাঁতারু কোনির সফল হওয়ার ক্ষেত্রে যেসকল প্রতিবন্ধকতা ছিল,
সেগুলি অতিক্রম করতে প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ যেভাবে সাহায্য করেছিলেন তা হল নিম্নরূপ-
ক্ষিতীশ বুঝেছিলেন পেটের খিদে নিয়ে কোনো মহৎ কাজ করা যায় না।
তাই তিনি কোনির পেটের খাবারের সঙ্গে তার মাকেও কাজ জুটিয়ে দিয়ে; তাদের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পূরণের চেষ্টা করেছিলেন।
ক্ষিতীশ কোনিকে দিনের-পর-দিন শিখিয়ে গেছেন শারীরিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করার কৌশল। কোনির দিনরাত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ক্ষিতীশের নির্দেশিত পথে। কোনির নিষ্ঠায়, সংকল্পে ও জ্ঞানে তিনিই হয়ে
উঠেছেন অদৃশ্য অনুপ্রেরণা। ‘ফাইট কোনি ফাইট'— এই মন্ত্রের উজ্জীবনী স্পর্শেই কোনি কমলদিঘির জল থেকে মাদ্রাজে পৌঁছে, যন্ত্রণাকে সাফল্যের স্তরে বদলে দিতে পেরেছিল। অনুপ্রেরণা জাগানো
প্ৰশ্ন: ‘রমা যোশির ক্লান্ত হাত কোনির পিঠে চাপড় দিয়ে গেল।
রমা যোশি কে? কী কারণে সে কোনির পিঠ চাপড়ে দিয়েছিল?
উত্তর > ◆রমা যোশির পরিচয়: প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও কথাসাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস অনুসারে মহারাষ্ট্রের মহিলা সাঁতারু রমা যোশি ছিল সবচেয়ে দক্ষ এবং মহিলাদের মধ্যে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।
|| ◆◆★ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার কোনি: হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে কোনি অবশেষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতারু দলে জায়গা পায়। কিন্তু সেখানে তার স্থান হয় দর্শকাসনে। ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার কোনিকে কোনো প্রতিযোগিতাতেই অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না।
◆ কোনির লড়াই এবং জয়লাভ: শেষ ইভেন্ট ৪ × ১০০ মিটার রিলে শুরু হওয়ার আগেই অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন প্রণবেন্দুর তৎপরতায় সকলে কোনিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। রমা যোশির প্রায় তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে পড়ে। প্রথম তিরিশ মিটার খুব একটা কিছু বোঝা না-গেলেও,
তারপরেই দর্শকেরা টের পায় আজ একটা কিছু ঘটতে চলেছে। নিজের সমস্ত দুঃখ-যন্ত্রণা-বেদনা ও অপ্রাপ্তিকে কোনি জলের মধ্যে উজাড় করে দেয়। জলের মধ্যে কালো প্যান্থারের মতো এগিয়ে চলা কোনিকে অশরীরী বলে মনে হয়। ভয়ংকর একটা যন্ত্রণা তার শরীরকে কামড়ে ফেলে। সেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে বারবার নিজেকে ঝাঁকুনি দেয়। অন্ধকার থেকে বেরোনোর জন্য দাপাদাপি করে তার শরীর। শেষপর্যন্ত একটা প্রচেষ্টা তাকে মরিয়া করে তোলে। দীর্ঘ অদর্শনের পর মাকে দেখে যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে তেমনইভাবেই কোনি তার হাত বাড়িয়ে বোর্ড স্পর্শ করে রমা যোশির আগেই। এরপর জল থেকে উঠে সকলের অভিনন্দন আর আদরে কোনি ডুবে যেতে থাকে। তখন পরাজিত রমা যোশির ক্লান্ত হাত তার
পিঠ চাপড়ে দিয়ে যায়।
প্রশ্ন: ‘টেবিলের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠল, কেউ মাথা নাড়ল, কেউ নড়েচড়ে বসল।-টেবিলের কোন্ কোন্ মুখের কথা বলা হয়েছে? তাদের মুখ উজ্জ্বল হওয়ার কারণ কী?
উত্তর> ◆টেবিলের মুখগুলির পরিচয়: প্রশ্নোকৃত অংশটি সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের অন্তর্গত। এখানে 'টেবিলের মুখগুলি' বলতে জুপিটার
ক্লাবের বিভিন্ন কর্মকর্তার কথা বলা হয়েছে। এঁরা হলেন ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট ও বিধায়ক বিনোদ ভড়,
সম্পাদক ধীরেন ঘোষ, যজ্ঞেশ্বর ভাজ, প্রফুল্ল বসাক, বদু চাটুজ্জে, কার্তিক সাহা ও হরিচরণ মিত্র।
| জুপিটারের সাঁতারুদের ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য হলেও
পিছনে ক্রীড়া-রাজনীতির হাত ছিল যথেষ্টই। অভিযোগগুলি হল—
>দক্ষ সাঁতারু শ্যামলের সময়কে আমেরিকার বারো বছরের মেয়েদের
সময়ের সঙ্গে তুলনা করে জুনিয়রদের কাছে তাকে অপমান করা।
> গোবিন্দের মতো ব্রেস্ট স্ট্রোক বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ডার ও ন্যাশনালে
> প্রতিনিধিত্বকারীকে কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা ৷
> আর-এক দক্ষ সাঁতারু অসুস্থ সুহাসের বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে যা-তা বলা ।
> দুই মহিলা সাঁতারু অমিয়া ও বেলার পোশাক, চুলকাটা ইত্যাদি নিয়ে খিটখিট করা, তাদের জোর করে ব্যায়াম করানো।
সাঁতারুদের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জনে এবং তাদের মেজাজমর্জি বুঝতে
অক্ষমতা।
> কোনো মেডেল জেতার ইতিহাস না-থাকা।
ক্ষিতীশ এইসমস্ত অভিযোগ সত্য বলে মেনে নেওয়ায় টেবিলের মুখগুলি
উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন: 'প্রথমদিকে লীলাবতী বিদ্রোহী হয়েছিল।-লীলাবতীর চরিত্রের পরিচয় দাও। তার বিদ্রোহী হওয়ার কারণ কী?
উত্তর : প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’
উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল লীলাবতী। স্বল্পভাষী, কর্মপটু, বাস্তববাদী ও প্রখর ব্যক্তিত্বময়ী এই মহিলাই যেন; কোনি এবং ক্ষিতীশকে ধারণ করে রেখেছে। তার চরিত্রের কয়েকটি দিক হল-
◆ চরিত্রের নিজস্বতা : লীলাবতী ক্ষিতীশের স্ত্রী হলেও কখনোই ক্ষিতীশের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়নি। তাই দোকানের বেহাল অবস্থায় সেটিকে ক্ষিতীশের হাত থেকে উদ্ধার করে সে চার বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
◆সহধর্মিণী : কোনির প্রতি ক্ষিতীশের দায়দায়িত্বের বহর দেখে অসন্তোষ
প্রকাশ করেনি। বরং স্বামীকে সেলামির প্রসঙ্গে ব্যয়সংকোচের কথা সে মনে করিয়ে দিয়েছে। খাবারের ব্যাপারে স্বামীর নির্দেশ মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছে।
◆কঠোর কোমল স্বভাব : কোনিকে খাবার দেওয়ার শর্তে লীলাবতী তাকে
দোকানে কাজ করতে দিয়েছে, যদিও এজন্য সে বেতনও দিয়েছে। কিন্তু কাজে দেরি হলে কোনিকে যেমন 'বেরিয়ে যাও' শুনতে হয়েছে, তেমন জিতলেই মিলেছে ফ্রক কিংবা সিল্কের শাড়ির প্রতিশ্রুতি।
◆ কোনির প্রতি সহানুভূতি : লীলাবতী লুকিয়ে কোনির সাঁতার দেখতে গেছেআর পিছনে থেকে কোনির সাফল্যের জন্য সাধ্যমতো সাহায্য ও সমর্থন যুগিয়ে গেছে।
উপন্যাসের মূল উদ্দেশ্য যেহেতু কোনির জীবনসংগ্রাম ও তার মধ্য দিয়ে তার সাফল্য প্রদর্শন করা, তাই লীলাবতী চরিত্রটির কথা আর উপন্যাসের শেষাংশে পাই না। কিন্তু স্বল্প পরিসরে এই চরিত্রের নিজস্বতা পাঠককে মুগ্ধ করে।
| ◆বিদ্রোহের কারণ: ক্ষিতীশ বিশ্বাস করেন বাঙালিয়ানা রান্নায় স্বাস্থ্য চলে না। ওতে পেটের চরম সর্বনাশ হয়। তিনি প্রায় সবই সেদ্ধ খাওয়ায় বিশ্বাসী। কারণ সেদ্ধ খাবারের খাদ্যপ্রাণ অটুট থাকে এবং সর্বাধিক প্রোটিন ও ভিটামিন পাওয়া যায়। তাই লীলাবতী প্রথমদিকে সরষে বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, জিরে-ধনে-পাঁচফোড়ন প্রভৃতি বস্তুগুলি রান্নায় ব্যবহারের সুযোগ না-পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন : 'জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছে আমার কাছে—কোনির এই অভিমানের কারণ কী? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর> কোনির অভিমানের কারণ : সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস জুড়ে দেখা যায়, এক প্রতিভাবান সাঁতারুকে বারবার কেমন নির্লজ্জ চক্রান্তের শিকার হতে হয়। একদল লোভী, স্বার্থপর ও মূর্খ কর্মকর্তার অস্ত্র-বিদ্বেষের
ফলে কোনি কখনও বাইরের জলে সাঁতরায়, কখনও ডিসকোয়ালিফায়েড হয়, আবার কখনও প্রথম হয়েও স্বীকৃতি পায় না। এভাবেই কোনোক্রমে হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের তৎপরতায়, সে অবশেষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পায়।
কিন্তু একই ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে কোনির স্থান হয় দর্শকাসনে। তবে শেষ রিলে ইভেন্টের আগে অমিয়া অসুস্থ হওয়ায় তার ডাক পড়ে, তখন সে দুঃখ ও অভিমানে হিয়া মিত্রের উদ্দেশে প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করে।
|| পরবর্তী ঘটনা: মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে ৪ x ১০০ রিলেতে রমা যোশির প্রায় তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে পড়ে। প্রথম তিরিশ মিটার খুব একটা কিছু
বোঝা না-গেলেও, তারপরেই দর্শকেরা টের পায় আজ একটা কিছু ঘটতে চলেছে। নিজের সমস্ত দুঃখ-যন্ত্রণা-বেদনা ও অপ্রাপ্তিকে কোনি জলের মধ্যে উজাড় করে দেয়। জলের মধ্যে কালো প্যান্সারের মতো এগিয়ে চলা কোনিকে অশরীরী বলে মনে হয়। সে যেন অন্ধকারের যন্ত্রণা ছিঁড়ে মাকে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়া শিশুর মতো রমা যোশির আগেই হাত দিয়ে বোর্ড স্পর্শ করে। তারপর জল থেকে উঠে সকলের অভিনন্দন আর আদরে কোনি ডুবে যেতে থাকে। তখন পরাজিত রমা যোশির ক্লান্ত হাত তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে যায়। এভাবেই কোনির সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটে।
প্রশ্ন: 'জাতির নৈতিক চরিত্র সুগঠিত না হলে সেই জাতির পক্ষে খেলাধুলায় উন্নতিসাধন অসম্ভব।'—'কোনি' উপন্যাসে কীভাবে এই মন্তব্যকে সমর্থন করে, তা আলোচনা করো।
অথবা, লড়াকু ও অনুপ্রেরণামূলক উপন্যাস হিসেবে 'কোনি' তোমার মনকে কতটা স্পর্শ করেছে আলোচনা করো।
উত্তর> নৈতিক চরিত্রগঠনের ইঙ্গিত: সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের শুরুতেই গঙ্গার ঘাটে
বিষ্টুচরণ ধর ও ক্ষিতীশ সিংহের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক সুকৌশলে শরীরের ওপর মনের নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনে শারীরিক সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনের প্রয়োজনীয়তার কথাটি বুঝিয়ে দেন। অর্থাৎ সাঁতার-অন্ত প্রাণ যে ত্যাগ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনাদর্শকে তুলে ধরে; পাঠক শুরুতেই সেই ইঙ্গিত পেয়ে যায়।
◆ক্ষিতীশের নৈতিক চরিত্র : ক্ষিদ্দা লড়াকু, অনমনীয় ও একগুঁয়ে কোনির মধ্যে এক লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নের চরিত্রলক্ষণ খুঁজে পান; যে হারতে জানে না। ক্ষিতীশ সিংহ নিজেও কোনো পরিস্থিতিতেই ‘হাল ছাড়া'-য় বিশ্বাস করেন না। আর এজন্য তিনি ছাত্রের কাছে সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং আত্মনিবেদন প্রত্যাশা করেন। কারণ আলস্য-শৈথিল্য খেলোয়াড়ের জীবনে ডেকে আনে
সর্বনাশ। পৃথিবীর সমস্ত শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ তাদের চরিত্রের সংযম-ত্যাগ-নিষ্ঠা ও সাহসে ভর করেই সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছে। তাই কোনির উত্থান, ক্ষিতীশের শক্ত হাতে প্রশিক্ষণ, কঠোর অনুশীলন ও কোনির অপ্রতিহত লড়াকু মানসিকতা এ উপন্যাসে বারবার ঘুরে-ফিরে আসে।
◆কোনির নৈতিক চরিত্রগঠন:
ক্ষিতীশ আর কোনি তাদের জীবনের সমস্ত অপ্রাপ্তি, অপমান, অশ্রু ও
ক্ষোভকে জীবনের দিশা পরিবর্তনকারী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগায়।
মহৎ শিক্ষণীয় তারা ব্যক্তিগত অসম্মান আর আক্রমণের যন্ত্রণাকেই
দৃষ্টান্ত জীবনে এগিয়ে চলার রসদে রূপান্তরিত করে। আর তা সম্ভব হয়েছে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং লড়াকু মনোভঙ্গির কারণেই।
এভাবেই এক সত্যিকারের গুরুর সুযোগ্য শিষ্যা, আমাদের কাছে উন্নত নৈতিক চরিত্র ও অন্তহীন প্রচেষ্টার মহৎ-শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তকে তুলে ধরে।
