শুনেছেন হরিদা কি কান্ড হয়েছে ? হরিদা কে. কান্ড কি ছিল? বহুরূপী গল্প । দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: ‘শুনেছেন হরিদা,কী কাণ্ড হয়েছে?'— হরিদা কে? কাণ্ডটা কী ছিল ?
উত্তর> সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের মুখ্য চরিত্র হল হরিদা। তিনি
পেশায় একজন বহুরূপী। তাঁর জীবনে অনেক অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজের পেশার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
॥ শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে হরিদার ছোট্ট ঘরে গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা গল্প করতে করতে হরিদাকে বলেন জগদীশবাবুর কাণ্ড শুনেছেন কিনা। উনানের মুখে ফুঁ দিয়ে অনেক ধোঁয়া উড়িয়ে হরিদা জানান যে তিনি
শোনেননি। তখন গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদাকে
জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর গল্প বলেছিলেন। সেই সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহায় বাস করতেন। তাঁর সারাবছরের খাদ্য বলতে একটিমাত্র হরীতকী। বয়স হাজারেরও বেশি। তাঁর পদধুলি পাওয়া দুর্লভ। একমাত্র জগদীশবাবুরই সেই পদধূলি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তাও আবার জগদীশবাবু যখন তাঁকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরাতে গিয়েছিলেন সেই ফাঁকে তা সংগ্রহ করতে হয়েছিল। সেই সন্ন্যাসী বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবুর জোর করে দেওয়া একশো টাকার নোট সানন্দ চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রশ্ন; 'বহুরূপী' গল্পে যে-হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর প্রসঙ্গ আছে,তাঁর পরিচয় দাও।
উত্তর> ছোটোগল্পকার সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর
বাড়িতে আশ্রিত এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর কথা জানা যায় পাড়ার কিছু
যুবকের মুখ থেকে। বড়োলোক জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী সাতদিন অবস্থান করেন। এই সন্ন্যাসী নাকি হিমালয়ের গৃহাতে থাকেন। সারাবছার একটি হরীতকী ছাড়া তিনি আর কিছু খান না। সন্ন্যাসীর বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি। নিজের সম্পর্কে তাঁর উচ্চ ধারণা তাঁর ভিতরে এক ধরনের গৃহীসুলভ অহংবোধের জন্ম দিয়েছিল। তাই সাধারণ মানুষকে তাঁর পদধূলি নেওয়ারও অনুমতি তিনি দিতেন না। অথচ যে-সন্ন্যাসী সর্বস্বত্যাগী, তিনি।কাঠের খড়মে লাগানো সোনার বোল দেখে আপ্লুত হয়ে পা বাড়িয়ে দেন জগদীশবাবুর দিকে। আবার হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর দেওয়া একশ টাকা প্রণামিও প্রত্যাখ্যান করেন না, বরং মুচকি হাসির মধ্য দিয়ে তা গ্রহণ
করে জগদীশবাবুকে বাধিত করেছেন। মোটের ওপর, সন্ন্যাসীর আচরণ ও তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যাবলির মধ্যে যে-বৈপরীত্য ও অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায়, তার নিরিখে এ কথা স্পষ্ট যে, তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী ছিলেন না।
