গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা। গল্প শুনে হরিদার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর। বহুরূপী গল্প । দশম শ্রেণী
![]() |
প্ৰশ্ন: ‘গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।– গল্প শুনে হরিদার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
|| কথক ও তাঁর বন্ধুদের মুখে গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে যান। হরিদার এই গাম্ভীর্যের কারণ কথকরা বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁদের সন্দেহ হয়েছিলহরিদার মাথায় নিশ্চয় নতুন কিছু মতলব এসেছে। তাঁদের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হয়, যখন হরিদা তাঁদের সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানান। তাঁর গভীর হওয়ার পিছনে সম্ভাব্য দুটি কারণ অনুমান করা যায়-
প্রথমত, জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে কিছু হাতাবার চিন্তায় নির্লোভী হরিদার মানবিক বিচ্যুতি।
দ্বিতীয়ত, বিষয়সম্পদে নিরাসক্ত সন্ন্যাসীর গ্রহণের ব্যাপারটাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রশ্ন: 'হরিদার উমানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।'-এর প্রেক্ষাপটে হরিদার দারিদ্র্যপীড়িত জীবনযাত্রার পরিচয় দাও।
উত্তর > সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে ছোট্ট ঘরেই হরিদার জীবন অতিবাহিত হয়। তিনি খুবই গরিব মানুষ। ইচ্ছা করলে কোনো অফিসের কাজ, কিংবা কোনো দোকানের বিক্রিওয়ালার কাজ অনায়াসে তিনি জুটিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু কেবল পেটের দায়ে গতে বাঁধা কাজ তিনি করতে চান না। নির্লোভী, চিন্তাশীল, স্বাধীনচেতা ও শিল্পীমনের অধিকারী হরিদা দৈনন্দিন অভাবের সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও ছকে বাঁধা কাজ থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসেন। হরিদা মাঝেমধ্যে বহুরূপী সেজে যা রোজগার করেন, তাতেই তাঁর ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। আবার মাঝে মাঝে তাঁকে উপোস করতেও হয়। কারণ বহুরূপী সেজে সপ্তাহে একদিন বেরিয়ে যা রোজগার পারেন তাতে তাঁর হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না। তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য হল, তিনি বহুরূপের কারবারি। কখনও পাগল সেজে হরিদা চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে আতঙ্কের হল্লাতোলেন আবার কখনও সন্ধ্যার মায়াময় আলোয় রূপসি বাইজি সেজে উপস্থিত সকলকে স্তম্ভিত করে দেন। আবার কখনও তিনি সাজেন বাউল, কখনও-বা কাপালিক। কোনোদিন বের হন বোঁচকা কাঁধে বুড়ো কাবলিওয়ালা সেজে কিংবা হ্যাট-কোট-পেন্টলুন পরা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব সেজে। নিজের পেশায় হরিদা এতটাই পারদর্শী যে, স্থানীয় স্কুলের মাস্টারমশাইও তাঁকে নকল-পুলিশ বলে চিনতেই পারেন না।
বিরাগী বেশধারী হরিদাকে দেখে কৃতার্থ হয়ে জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামি দেন। কিন্তু হরিদা খাঁটি সন্ন্যাসীর মতোই তা হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন। দরিদ্র হরিদাকে এমন কাণ্ড করতে দেখে ভবতোষ-অনাদিরা অবাক হয়ে যায়। তিনি তখন বলেন, সন্ন্যাসী সেজে টাকা নিলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যেত; তাই ইচ্ছেই হয়নি।
হরিদার গতানুগতিক বাঁধাধরা পেশার যোগ না-দেওয়া, সপ্তাহে মাত্র একদিন বহুরূপী সাজে বের হওয়া ও নির্লোভী মানসিকতার জন্য হরিদারউনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।
