এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন । বহুরূপী হরিদা? হরিদার সৃষ্ট চমৎকার ঘটনা গুলি বিবরণ দাও ৷ বহুরূপী গল্প ৷৷ দশম শ্রেণী
প্রশ্ন: 'এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা।—হরিদার সৃষ্ট চমৎকার ঘটনাগুলির বিবরণ দাও।
উত্তর > বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক সুবোধ ঘোষের জীবন ছিল বর্ণময়। তাঁর লেখা ‘বহুরূপী' গল্পটি যেন তাঁর বর্ণময় চরিত্রের ফসল। হরিদার চরিত্রের মধ্যে লেখকের কর্মজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ছায়া পড়েছে।
বাঁধাধরা জীবন পছন্দ নয় বলেই হরিদা বহুরূপীর জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর চরিত্রে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল। এই বৈচিত্র্যই তাঁর পেশা। এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়েই হরিদা এই শহুরে জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করতেন। তিনি একদিন দুপুরে চকের বাস স্ট্যান্ডে পাগলের ছদ্মবেশে আতঙ্কের হল্লা তুলেছিলেন। তাঁর মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছিল, দু-চোখ কটকটে লাল। কোমরে জড়ানো ছেঁড়া কম্বল, গলায় টিনের কৌটোর। মালা, হাতে একটা থান ইট তুলে তিনি যাত্রীদের দিকে মাঝে মাঝে তেড়ে যাচ্ছিলেন। পরে বাস ড্রাইভার কাশীনাথের ধমকে অবশ্য পাগলের স্বরূপ সকলের কাছে পরিষ্কার হয়েছিল। আর-এক কর্মব্যস্ত সন্ধ্যার উজ্জ্বল আলোকে রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা তো সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
সেদিনই হরিদা সবচেয়ে বেশি উপার্জন করেছিলেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, দয়ালবাবুর লিচু বাগানে নকল পুলিশের বেশে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও পরে তাঁর প্রশংসা ছিল হরিদার জীবনে এক বড়ো প্রাপ্তি।
