অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মত সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন। কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কিভাবে খাঁটি সন্ন্যাসীর মত ব্যবহার করেছিলেন তা সংক্ষেপে আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী - Online story

Saturday, 2 May 2026

অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মত সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন। কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কিভাবে খাঁটি সন্ন্যাসীর মত ব্যবহার করেছিলেন তা সংক্ষেপে আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী

 


প্রশ্ন:  ‘অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন ?'—কার কথা বলা হয়েছে ? তিনি কীভাবে 'খাঁটি সন্ন্যাসীরমতো' ব্যবহার করেছিলেন সংক্ষেপে আলোচনা করো।


উত্তর/ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ভূত অংশে হরিদার কথা বলা হয়েছে।

|| এক স্নিগ্ধ ও শান্ত জ্যোৎস্নালোকিত উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দার চেয়ারে বসেছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ সিঁড়ির কাছে এমন একজন দাঁড়িয়েছিলেন যিনি জটাজুটধারী, হাতে কমণ্ডলু, চিমটে, মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোনো সন্ন্যাসী নয়, তিনি একজন বিরাগী, যাঁর আদুড় গা, তার উপরে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। পরনে ছোটো বহরের থান। তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল যেন অশরীরী এবং তাঁর চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল উদাত্ত- শান্ত এক উজ্জ্বল দৃষ্টি। ভক্তের সেবার ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মাত্র এক গ্লাস জল। থাকার ও দান গ্রহণের অনুরোধ সবই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেছেন তিনি। জগদীশবাবু উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেছেন পরমেশ্বরের দেখা পেলেই সমস্ত ঐশ্বর্য পাওয়া যায়। তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামি দিতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বলেন হৃদয়ের মধ্যেই তো সব তীর্থ। বিরাগী চরিত্রটি পূর্ণতা পায় তাঁরই উক্তিতে, “আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।' সত্যিই তা করতে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামির টাকার থলিটা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে না তাকিয়ে তিনি চলে যান।