ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণ ও প্রযুক্তিগত কারণ উল্লেখ করো। নবম শ্রেণী ইতিহাস। - Online story

Wednesday, 8 April 2026

ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণ ও প্রযুক্তিগত কারণ উল্লেখ করো। নবম শ্রেণী ইতিহাস।

 




 প্রশ্ন :  ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণ ও প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর সংকেত : প্রথম অংশ : (১) কৃষিবিপ্লব, (২) সামুদ্রিক বাণিজ্যে উন্নতি ও মূলধনের প্রাচুর্য, (৩) খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য, (৪) অনুকূল সামাজিক অবস্থা, (৫) শ্রমিকের সহজলভ্যতা, (৬) জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার প্রসার। 

দ্বিতীয় অংশ :

প্রযুক্তিগত আবিষ্কার : (১) বস্ত্রশিল্প, (২) লৌহ শিল্প, (৩) খনি শিল্প, (৪) পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি।

উত্তর» প্রথম অংশ : আঠারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের মূলে অনেক কারণ থাকলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধান কারণ নিহিত ছিল, এগুলি হল—

[১] কৃষিবিপ্লব : আঠারো শতক পর্যন্ত ইংল্যান্ড ছিল প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু তৃতীয় জর্জের রাজত্বের শেষভাগে নানারকম বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হওয়ায় কৃষিকার্যের অভাবনীয় উন্নতি ঘটে (যা কৃষিবিপ্লব নামে পরিচিত) এবং কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করেই শিল্পবিল্পব রচিত হয়।

[২] সামুদ্রিক বাণিজ্যে উন্নতি ও মূলধনের প্রাচুর্য : আঠারো শতকে সামুদ্রিক বাণিজ্যে ইংল্যান্ডের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে এবং তা দু-ভাবে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে- প্রথমত, বাণিজ্য থেকে আসা মুনাফা যন্ত্র আবিষ্কার ও কলকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাড় করেছিল; দ্বিতীয়ত, সমুদ্রপারের বাজারগুলিতে ব্রিটিশ পণ্যসামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এই চাহিদা পূরণের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল নতুন নতুন শিল্প।

[৩] খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য : ইংল্যান্ডের খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য তার শিল্পায়নের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল, যেমন ইংল্যান্ডে কয়লা ও আকরিক লোহা যন্ত্রশিল্পের প্রসার সম্ভব করেছিল।

[৪] অনুকূল সামাজিক অবস্থা : ইংল্যান্ডের জমিদার, অভিজাতরা উদ্‌বৃত্ত অর্থ শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল। ইউরোপের অন্যান্য দেশে তা কৃষি অর্থনীতির মধ্যেই আটকে ছিল।

[৫] শ্রমিকের সহজলভ্যতা : আঠারো শতকে বেকার কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে গ্রামাঞ্চলের বেকার কৃষক ও গরিব মানুষ কাজের খোঁজে শহরে এসেছিল। ফলে ইংল্যান্ডে সহজেই শ্রমিক পাওয়া গেছিল যা শিল্পবিপ্লবে গতি এনেছিল।

[৬] জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার প্রসার : শিল্পবিপ্লবের ঠিক আগে ইংল্যান্ডে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উন্নতি ঘটে। বৈজ্ঞানিক চেতনা আবিষ্কার করার চেতনা সৃষ্টি করে এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তিকে প্রয়োগ করার উৎসাহ জোগায়।

উপরের আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ইংল্যান্ড শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রে যে-সমস্ত সুযোগসুবিধা পেয়েছিল সেগুলি থেকে ইউরোপের দেশগুলি কমবেশি বঞ্চিত ছিল। তা ছাড়া ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের আগেই ঘটেছিল প্রারম্ভিক শিল্পায়ন (Industrialisation before The Industrial Revolution) যা অন্যান্য দেশে সংঘটিত হয়নি।

দ্বিতীয় অংশ : প্রযুক্তিগত আবিষ্কার : শিল্পবিপ্লবের একটি বিশেষ দিক ছিল প্রযুক্তিগত আবিষ্কার। বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে যন্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রেই শিল্পবিপ্লবের প্রভাব প্রথম দেখা দেয়,

যেমন-

[১] বস্ত্রশিল্প : ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইংল্যান্ডে জন কে, জেমস হারগ্রিভস, স্যামুয়েল ক্রম্পটন, এডমন্ট কার্টরাইটের বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে সুতো কাটা এবং কাপড় বোনার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।

[২] লৌহ, শিল্প : দ্রুতগতিতে লোহা গলাবার জন্য এক বিশেষ ধরনের চুল্লি ব্লাস্ট ফার্নেস (Blust Furnace) আবিষ্কৃত হয় এবং এর ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইংল্যান্ডে লৌহ যুগের সূচনা হয়।

[৩] খনি শিল্প : বৃহৎ শিল্প স্থাপনের জন্য কয়লার উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে খনির মধ্যেও বাষ্পচালিত যন্ত্রপাতির প্রবর্তন শুরু হয়। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে হামফ্রি ডেভির আবিষ্কৃত ‘নিরাপত্তা বাতি’ (Safety Lamp) ব্যবহারের ফলে খনিতে কাজ করা অপেক্ষাকৃত সহজ ও কম বিপজ্জনক হয়। এর ফলে কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

[৪] পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি : খনি থেকে শিল্পাঞ্চলে কয়লা পরিবহণের জন্য রেলগাড়ির প্রচলন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ব্রিটেনের শিল্পকেন্দ্র গুলির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নতুন নতুন রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ ও খাল খনন করা হয়। ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে জন ম্যাকাডাম পাথরকুচি ও পিচের দ্বারা মজবুত রাজপথ নির্মাণের কৌশল আবিষ্কার করেন। এ ছাড়া, ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্রিটিশ স্টিমার কমেট ক্লাইড নদীতে যাত্রা করেছিল।