অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল। অশুভ ধ্বনি বলতে কি বোঝানো হয়েছে ? দিনের অন্তিমকাল ঘোষণা করার মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও। আফ্রিকা কবিতা। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: 'অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল - 'অশুভ ধ্বনি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে। 'দিনের অন্তিমকাল' ঘোষণা করার মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর > রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কবির এক সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়—যার পরিণাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ক্ষুধিত পশুর মতোই ক্ষমতার লোভে মত্ত শ্বেতাঙ্গ শাসকদের রণহুংকারকে এ কবিতায় ‘অশুভ ধ্বনি' বলা হয়েছে।
> `দিনের অন্তিমকাল' বলতে একদিকে যুগান্তের ইঙ্গিত ও ধ্বংসের পূর্বাভাস, আর অন্যদিকে ক্ষমতালোভী শাসকের নির্দয় শাসন অবসানের এক সুস্পষ্ট ঘোষণা।
প্রশ্ন ‘এসো যুগান্তের কবি,—‘যুগান্তের কবি’-কে কেন আহ্বান করা হয়েছে?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘যুগান্তের কবি'-র কাছে, মানহারা মানবী' তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। কবি দেখেছেন পশ্চিম দিগন্তে সন্ধ্যা নেমেছে; সভ্যতার সূর্য ঔপনিবেশিক অত্যাচারে, মানবতার অপমানে অস্তাচলগামী। সভ্য দুনিয়ার অসভ্য আগ্রাসন প্রকট হয়ে উঠেছে, পশুরা গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করেছে দিনের অন্তিমকাল'। তাই কবি মনে করেছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের উচিত এই বর্বরোচিত রাষ্ট্রশক্তির বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো; আর সেই কারণেই কবি যুগান্তের কবিকে তাঁদেরই প্রতিনিধি করে আহ্বান জানিয়েছেন। যুগান্তের কবি মানবতার পুণ্যবাণীতে সকলকে উদ্বুদ্ধ ও দীক্ষিত করবেন—এটাই কবির বিশ্বাস।
