চমকে উঠলেন জগদীশবাবু। জগদীশ বাবুর পরিচয় দাও। তার চমকে ওঠার কারণ আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী বাংলা। - Online story

Monday, 27 April 2026

চমকে উঠলেন জগদীশবাবু। জগদীশ বাবুর পরিচয় দাও। তার চমকে ওঠার কারণ আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী বাংলা।



 প্রশ্ন : "'চমকে উঠলেন জগদীশবাবু - জগদীশবাবুর পরিচয় দাও। তাঁর চমকে ওঠার কারণ আলোচনা করো

উত্তর>  সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবু একটি পার্শ্বচরিত্র। তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও ভদ্র, সৌম্য-শান্ত চেহারার অধিকারী, ধনী হলেও কৃপণ। তাঁর জীবনের দুর্বলতা হল তাঁর অন্ধভক্তি। সুখশান্তির আশায় সাধুসন্ন্যাসী দেখলেই তাদের তিনি তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন। এর জন্য অবশ্য তিনি মাঝেমধ্যেই ঠকেছেন।

||| বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা সকলকে বিস্মিত করেছিলেন। জ্যোৎস্না আলোকিত রাতের স্নিগ্ধ পরিবেশে তাঁর আদুড় গায়ের ওপর সাদা উত্তরীয় এবং পরনে ছোটো বহরের থান আর হাওয়ায় উড়তে থাকা চুল ও কাঁধে ঝোলার মধ্যে থাকা গীতা— সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল তিনি যেন জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে এসেছেন। হরিদার চোখের উদাত্ত উজ্জ্বল দৃষ্টি, কণ্ঠস্বর ও মুখের ভাষায় জগদীশবাবুর হৃদয় করুণাময় সজল হয়ে উঠেছিল। তিনি এই সর্বত্যাগী বিরাগীকে তুষ্ট করতে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামি হিসেবে একশো এক টাকা নিবেদন করেন। কিন্তু বহুরূপী হরিদার অন্তরের বৈরাগ্য এবং নিজ শিল্পের প্রতি আন্তরিক সততার কারণে তিনি, সেই টাকাকে হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন। তাতে যে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যেত। তবে সত্যিকারের বিরাগী সন্ন্যাসী দর্শন করানোর জন্য জগদীশবাবুর কাছ থেকে সামান্য বকশিশ আদায়ের দাবিটুকুকেই হরিদা, পাথেয় বলে স্থির করেছিলেন।