আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই। বক্তা কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? বক্তার চরিত্র আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী - Online story

Saturday, 25 April 2026

আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই। বক্তা কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? বক্তার চরিত্র আলোচনা কর। বহুরূপী গল্প। দশম শ্রেণী

 


প্রশ্ন: 'আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।'-বক্তা কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? এই উক্তির প্রেক্ষিতে বক্তার চরিত্র গল্পে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা আলোচনা করো।



উত্তর>  প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ছদ্মবেশী বিরাগী। হরিদা যখন বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, জগদীশবাবু তখন এগিয়ে এসে তাঁকে অভ্যর্থনা না-জানালে বিরাগী রুষ্ট হন। ভয় পেয়ে জগদীশবার অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং বিরাগীকে অনুরোধ করেন তাঁর ওপর রাগ না করার জন্য। ছদ্মবেশী বিরাগী এই প্রসঙ্গেই উক্তিটি করেছেন।

|| সন্ন্যাসীর চরিত্র প্রকৃতপক্ষে কেমন হওয়া উচিত এ কথা পাঠকদের বোঝাতেই লেখক যেন চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন। জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর পাশাপাশি বিরাগীর চরিত্রটি রাখলে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বিরাগী প্রথমে জগদীশবাবুর অহংকারে আঘাত করেছেন, তাঁরে অপরাধ স্বীকার করিয়েছেন। আবার সত্যিকার বিরাগীর মতো তাঁকে ক্ষমাও করেছেন। ভক্তের সেবার ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মাত্র এক বা জল। থাকার ও দান গ্রহণের অনুরোধ সবই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেছেন তিনি। জগদীশবাবু উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেছেন পরমেশ্বরের দেখা পেলেই সমস্ত ঐশ্বর্য পাওয়া যায়। তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামি দিতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বলেন হৃদয়ের মধ্যেই তো সব তীর্থ। বিরাগী চরিত্রটি পূর্ণতা পায় তাঁরই উক্তিতে, ‘আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনি সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।' সত্যিই তা করতে জগদীশবাব দেওয়া প্রণামির টাকার থলিটা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে না তাকিয়ে তিনি চলে যান।