বহুরূপী গল্পে জগদীশবাবু চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো । দশম শ্রেণি বাংলা - Online story

Wednesday, 22 April 2026

বহুরূপী গল্পে জগদীশবাবু চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো । দশম শ্রেণি বাংলা

 


প্রশ্ন:  ‘‘বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো।

অথবা, 'বহুরূপী' গল্প অবলম্বনে জগদীশবাবুর চরিত্রের পরিচয় দাও ।

উত্তর>  সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের একটি পার্শ্বচরিত্র হল জগদীশবাবুর চরিত্রটি। চরিত্রটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য রচনার মধ্যে পাওয়া গেলেও হরিদা চরিত্রের পরিস্ফুটনে জগদীশবাবুর চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা গ্রহণ করে।

জগদীশবাবুর কাহিনি থেকে জানা যায় যথেষ্ট অবস্থাপন্ন ধনী ব্যক্তি তিনি। বয়সে বেশ প্রবীণ। সাদা চুল, সাদা দাড়ি, সৌম্য, শান্ত চেহারা। তিনি ধনী মানুষ বটে, তবে বেশ কৃপণও। সাধুসন্ন্যাসীতে তাঁর ভক্তিভাব প্রবল। যদিও এই ভক্তিভাবের অন্তরালে কোথাও-না-কোথাও তাঁর ঐশ্বর্যের অহংকার কখনো-কখনো দেখা মেলে। তাই কাহিনির মধ্যে আমরা দেখতে পাই, হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসী যিনি কাউকে পায়ের ধুলো দিতে চান না, তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করতে জগদীশবাবু কৌশল অবলম্বন করেন, সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম নিজ হাতে এগিয়ে দিতে যান। জগদীশবাবু ঈশ্বরে বিশ্বাসী, সেইজন্যই সাধুসন্ন্যাসীর সেবা তাঁর কাছে ঈশ্বর সেবার সমতুল্য। অবশ্য নিষ্কাম ঈশ্বরসেবার মনোবৃত্তি তাঁর নেই। নিজ সুখশান্তির সন্ধানেই বস্তুত তিনি সন্ন্যাসী ধরনের লোক দেখলেই খুশি করার চেষ্টা করেন, প্রয়োজনে কৌশলও অবলম্বন করেন। তাঁর এই মানসিকতার জন্যই ভণ্ড সন্ন্যাসীর পাল্লায় পড়ে তাঁকে বোকাও বনতে হয়। তাই বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার কাছেও তিনি নতজানু হয়েছেন আশীর্বাদের অভিলাষে।

ঈশ্বরবিশ্বাসী ভক্তিপ্রবণ: ‘বহুরূপী’ গল্পের কাহিনির নিয়ন্ত্রণে জগদীশবাবু চরিত্রের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সংসারের সব কিছুই যে ‘সং’; তা হরিদার বিরাগী সাজেই প্রকাশ পায়; আর সেই বিরাগীকে প্রকৃত সত্যে পরিণত করিয়েছেন জগদীশবাবু। মিথ্যে বহুরূপী বেশধারণকারী হরিদার বিরাগী রূপকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে কাহিনির ভাবসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জগদীশবাবু। তাই জগদীশবাবু চরিত্রটি কাহিনির পার্শ্বচরিত্র হয়েও কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছে।