অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না। অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিনাম কি ফরিদা কি? দশম শ্রেণী বাংলা
প্রশ্ন: 'অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।'- হরিদা কী ভুল করেছিলেন? অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম কী?
উত্তর > বহুরূপী হরিদা পাড়ার ছেলেদের কাছ থেকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসী সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা শুনে তিনি অনুভব করেন যে, তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী নন। সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর প্রকৃত স্বরূপ কেমন হওয়া উচিত তা বোঝাতেই, হরিদা জগদীশবাবুর বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা সকলকে বিস্মিত করেছিলেন। জ্যোৎস্নালোকিত রাতের স্নিগ্ধ পরিবেশে তাঁর আদুড় গায়ের ওপর সাদা উত্তরীয় এবং পরনে ছোটো বহরের থান আর হাওয়ায় উড়তে থাকা চল ও ঝোলার মধ্যে থাকা গীতা—সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যেন তিনি জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে এসেছেন। হরিদার চোখের উদাত্ত-উজ্জ্বল দৃষ্টি, কণ্ঠস্বর ও মুখের ভাষায়; জগদীশবাবুর হৃদয় করুণাময় সজল হয়ে উঠেছিল। তিনি এই সর্বত্যাগী বিরাগীকে তুষ্ট করতে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামি হিসেবে একশো এক টাকা নিবেদন করেন। কিন্তু বহুরূপী হরিদার অন্তরের বৈরাগ্যে এবং নিজ শিল্পের প্রতি আন্তরিক সততার কারণে, সেই টাকার থলি হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন। বিরাগীর ছদ্মবেশধারী হরিদাকে কেউ চিনতে পারেনি। বর ভাবাবেগে আপ্লুত অভিভূত হয়ে জগদীশবাবু একশো এক টাকা প্রণামি দিলেও গ্রহণ করেননি—বিরাগী রূপধারী দরিদ্র হরিদার এটাই ভুল।
!! খাঁটি সন্ন্যাসীর মতোই জগদীশবাবু কর্তৃক প্রদত্ত টাকা হেলায় ফেলে চলে আসেন হরিদা। কারণ টাকা নিলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যেত। অথচ তিনি নিতান্ত দরিদ্র মানুষ। বহু রূপ দেখিয়ে তাঁর যৎসামান্য রোজগারে দিন চলে। বেশিরভাগ দিন চাল না-থাকায় হাঁড়িতে শুধু জলই ফুটে যায়। এমন মানুষের পক্ষে অতগুলো টাকা পেয়ে না-নেওয়ার বিলাসিতা ভবিষ্যতে তাঁর দুর্ভোগ বাড়াবে।
