ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণটাই তো আমি। বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। কোনি গল্প। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন : 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।'— বক্তা কে?
উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে আলোচ্য মন্তব্যটির বক্তা জুপিটার সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ ওরফে ক্ষিদ্দা।
> ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে গিয়েও চক্রান্তের শিকার হতে হয় কোনিকে। অকারণে বসিয়ে রাখা হয় তাকে। অন্য সাঁতারুদের থেকে চোর অপবাদও জোটে। অন্যদিকে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে লক-আপে বন্দি হতে হয় ক্ষিতীশ সিংহকে।
কার্যত কোনির একমাত্র বিশ্বাসের অবলম্বনও অনুপস্থিত। প্রতিযোগিতা শেষে ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির দেখা হলে স্বভাবতই কোনির অভিমানী কণ্ঠস্বরে অভিযোগের সুর বেজে ওঠে।
কোনিকে শেষ অবধি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করাতে বাধ্য হয় চক্রান্তকারীরা। জয়লাভ করে বাংলার হয়ে সোনাও জেতে কোনি। ক্ষিদ্দাকে তথা তার ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহকে তার প্রতিযোগিতার মুহূর্তের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ক্ষিদ্দা জলের গভীরে তার যে উপস্থিতি অর্থাৎ একজন
সাঁতার ট্রেনারের কাছে জলই যে সব তাই নির্দেশ করেন। প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে যে প্রবল যন্ত্রণা কোনি পেয়েছে তার স্বরূপ বিশ্লেষণে ক্ষিদ্দা জানিয়েছেন, ওই যন্ত্রণাই তিনি। অর্থাৎ ক্ষিতীশ সংসার ভুলেছেন, নিজের ব্যক্তিসুখ বিসর্জন দিয়েছেন কোনি নামক একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে। সহ্য করেছেন বহু লাঞ্ছনা-অপমান। অপমানের সেই তীব্র যন্ত্রণাটা না থাকলে ক্ষিতীশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারতেন না, তৈরি করতে
পারতেন না কোনিকে। দিনের পর দিন যন্ত্রণার আগুনে পুড়িয়ে ইস্পাতকঠিন করেছেন কোনিকে। এই যন্ত্রণা একজন ট্রেনার ও একজন ট্রেনির উভয়েরই।
আলোচ্য উক্তিটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষিতীশের সংগ্রামী চেতনারই উদ্ভাসিত রূপ।
√
