কোনি উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা কর। কোনি গল্প। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, ‘সব পারে, মানুষ সব পারে ... ফাইট কোনি, ফাইট।— উদ্ধৃতির আলোকে বক্তার চরিত্র আলোচনা করো।
অথবা, 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।-উপরোক্ত উদ্ধৃতাংশের মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের যে-বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে লেখো।
উত্তর/ প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ। উপন্যাসে তাঁর চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি এইরূপ-◆স্পষ্ট বক্তা : সাঁতারের প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ স্পষ্টবাদী স্বভাবের মানুষ। মোটা মানুষ বিষ্টু ধরকে ‘মোটা’ বলতে কিংবা জুপিটারের শৃঙ্খলাহীন ছেলেদের দিয়ে সাঁতার হবে না বলতে তাই তাঁর বাধেনি।
◆ক্লাবপ্রেমী : ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাবকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। সেখান থেকে তিনি চলে আসতে বাধ্য হলেও কোনো শত্রু ক্লাবে তিনি যোগ দেননি, অ্যাপোলোতেও না। সেখানে কোনিকে শেখানোর জন্যই তিনি যেতেন।
অভিজ্ঞ : ক্ষিতীশ এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ক্ষিতীশের মতে, চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না, তাকে শুধু চিনে নিতে হয়। গঙ্গার ঘাটে কোনির লড়াকু সত্তাকে চিনে নিতে ভুল করেনি তাঁর অভিজ্ঞ চোখ।
আপসহীন সংগ্ৰাম: ঔদ্ধত্য বা প্রতিকূলতার কাছে এই দৃঢ়চেতা মানুষটি কোনোদিন মাথা নত করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে যতই চক্রান্ত করা হোক-না-কেন তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী : কোনিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ক্ষিতীশ কঠোর থেকে তার অনুশীলন, শরীরচর্চা, খাওয়াদাওয়া, এমনকি জীবনযাত্রার ধরনকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি কোনিকে শেখান যন্ত্রণা আর সময় তার দুই শত্রু। যন্ত্রণাকে জয় করে চেষ্টা করলে মানুষ সব পারে'। তাই প্রতিনিয়ত তিনি কোনিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ফাইট কোনি, ফাইট' বলে। এইজন্যই ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোনি যখন নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করছিল তখন ক্ষিদ্দা তাকে বলেছিলেন— 'ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি। দৈহিকভাবে উপস্থিত না-থেকেও ক্ষিতীশ কোনির জেতার প্রবল ইচ্ছে, জেতার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা, প্রচেষ্টার যন্ত্রণা সব কিছুর মধ্যেই ভীষণভাবে উপস্থিত ছিলেন।
