তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারল না। তারা কারা ? স্বপ্ন দেখাতে পারল না কেন ? অসুখে একজন কবিতা || দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: ‘উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে — মন্দির থেকে কী উলটে পড়ল? কী কারণে উলটে পড়েছিল?
উত্তর> পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা অনুসারে মন্দির থেকে শান্ত হলুদ দেবতারা উলটে পড়েছিল।
আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই যুদ্ধের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়েছিল মন্দির ও বিগ্রহ। কবির ভাষায় ‘শান্ত হলুদ' দেবতাদের দেবালয় টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়ে। অর্থাৎ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্পর্শে মানুষের অন্তরমনের হাজার বছরের জীর্ণ বিশ্বাস টাল খায়। যুদ্ধ যেন দেবত্বের ধ্যানস্থ- নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেও ভেঙে চুরমার করে।
প্রশ্ন : 'তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’-'তারা' কারা? স্বপ্ন দেখতে পারল না কেন?
উত্তর> পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন’ কবিতায় ‘তারা’ বলতে শান্ত
হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে।
॥ এখানে কবি বিনাশ ও ধ্বংসের কলরোলে দৈবীমহিমার অসারতার
প্রতি কটাক্ষপাত করেছেন। মানবতার অপচয়-প্রাণহানি কিংবা চূড়ান্ত
বীভৎসতার সময় কোনো দৈবমাহাত্ম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। মানুষের মতোই একইরকমভাবে যুদ্ধ-তাণ্ডবের ভয়াবহতায় তারাও নিরাশ্রয়, অস্তিত্বহীন এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয়। তাই এককথায় দৈব ক্ষমতার ফানুস চুরমার হয়ে যাওয়ায় তাদের যেন মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা লোপ পায়। আলোচ্য অংশে কবির এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে।
