সব দর্প চূর্ণ হয়ে গেল জ্বলে গেল আগুনে। এমন পরিস্থিতির কারণ কি? অসুখী একজন কবিতা। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: 'সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে/ কোন্ কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কী?
উত্তর> পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় আগ্নেয়পাহাড়ের ন্যায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভয়ংকর লেলিহান আগুনে চূর্ণ হয়েছিল কথকের বাড়ি, একদা কোন কোন জিনিস যে বাড়ির বারান্দার ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমোতেন। ধ্বংস হয়ে গেছে কবির গোলাপি গাছ, চিমনি আর পুরোনো জলতরক্ষা।
|| সময় পেরিয়ে যখন যথার্থই মুক্তির আবাহন হয়, সমাজ পরিবর্তনের
প্রয়োজন আসে, তখন বিপ্লবের নামান্তর যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। প্রবল লড়াইয়ে যে-হত্যালীলা চালে, সেখানে রেহাই পায় না শিশুরাও। ধ্বংস হয়পরিণতির কারণ সাধের সুন্দর বাড়ি। যেখানে একদিন শহর ছিল, সেখানে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন হয়ে পড়ে থাকে শুধু কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। কথকের প্রিয় স্মৃতিময় জিনিস চূর্ণ হয়ে যায়, জ্বলে যায় ভয়ংকর যুদ্ধের কারণে।
প্রশ্ন: "সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা" বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতাটিতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবি প্রিয়তমা, ঘরবাড়ি, এমনকি তাঁর প্রিয় শহরও ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপরে একদিন আসে বীভৎস যুদ্ধ; যার করাল গ্রাসে কবির ঘরবাড়ি, দেবালায় সমস্ত কিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায়। শহরটিও বাদ যায় না। এক সময়ের সুন্দর শহরে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের দাগ। আসলে শহরের বিধ্বংসী রূপটি তুলে ধরতেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
