বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল আমার পায়ের দাগ পায়ের দাগ। পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া কিসের ইঙ্গিতবাহী? অসুখিএকজন কবিতা। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন:: বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ – কার পায়ের দাগ-বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল? পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া কীসের ইঙ্গিতবাহী?
উত্তর> কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় বৃষ্টির পথে
পড়ে থাকা কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে গেল।
পথিকের চলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট পায়ের ছাপ কখনও চিরস্থায়ী হয় না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়ার অন্য তাৎপর্য বহন করেছে। কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বৃহত্তর সমাজ গড়ে তোলার দাবি কখনো-কখনো মানুষকে নিজ ঘর তথা স্বদেশ ছাড়তে বাধ্য করে, – অন্তত কবির ব্যক্তিগত জীবনের চরম আলোড়ন তাই প্রমাণ করে। বিধ্বংসী ও ভয়ানক বিপ্লবের পথ হয়ে দাঁড়ায় অন্বিষ্ট। স্বদেশের সঙ্গে বিচ্ছেদ যত গভীর হয়, বেদনার নিবিড়তা
ততই প্রবল হয়। সময় অতিক্রান্ত হয়, আবছা হয় স্মৃতি; চেনা পৃথিবী, প্রিয়
মানুষেরা—সব কিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয় চূড়ান্ত সংগ্রামের
সংকর। কিন্তু একইসঙ্গে মাতৃভূমির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা কারও কাম্য নয়; কবিও তা চাননি। তাঁর স্পর্শকাতর মন প্রদেশের বুকে তাঁর অস্তিত্বের চিহ্ন রেখে দিতে চেয়েছিল। টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় কবিও জানেন তাঁর স্মৃতি, অস্তিত্ব অনেকের মন থেকে একটু একটু করে মুছে যাবে। তাই 'পায়ের দাগ পুরে যাওয়া' এখানে অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিতবাহী।
প্রশ্ন> 'তারপর যুদ্ধ এল'— 'তারপর' বলতে কোন সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? যুদ্ধের পরিণতি কী হয়েছিল?
অথবা, ‘তারপর যুদ্ধ এল—যুদ্ধের মর্মান্তিক পরিণতি কবিতার যেভাবে
চিত্রিত হয়েছে তা লেখো।
উত্তর > কবি পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কবিতার কথক প্রিয়তমাকে নিজ বাসভূমিতে ফেলে রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। অথচ জীবন তার নিজস্ব ছন্দে চলতে থাকে। কিন্তু প্রিয় নারীটির অপেক্ষার যন্ত্রণা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।
বছরের-পর-বছর কাটে। এমন সময় আসে যুদ্ধ। ঘটনা পরম্পরার এই ক্রমটিকে ফুটিয়ে তুলতেই এখানে কবি ‘তারপর’শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
||| যুদ্ধের ভয়াবহ বীভৎসতায় মানুষ আশ্রয়হীন হল। নৃশংসতার হাত
থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও। দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল। ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভিতরের দেবতারা। তাদের দেবত্ব নষ্ট হল। মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল। কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে। ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল। বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ। শুধু সেই
ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অবিচল ভালোবাসা।
