অসুখী একজন কবিতার ছোট প্রশ্নের উত্তর || পর্ব ৪
![]() |
অসুখী একজন কবিতার ছোট প্রশ্নের উত্তর
দশম শ্রেণী
প্রশ্ন: "আমি তাকে ছেড়ে দিলাম -- কবি কাকে ছেড়ে দিলেন।তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন?
উত্তর > পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কবি তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন।
|| স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় কবি যেভাবে রেখে এসেছিলেন কবিতার কথক তথা কবি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান তাঁর প্রিয়তমাকে। যদিও সে জানত না যে, কবি আর কখনও ফিরে আসবে না। এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহুর্তের ছবি এঁকেছেন।
প্রশ্ন: “বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ/ঘাস জন্মালো রাস্তায়— উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর/ উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত ৷
কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষমাণা রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদূরে পাড়ি দেন। থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না। তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় না। সপ্তাহ-বছর কেটে যায়। প্রাকৃতিক নিয়মেই কথকের চলার পথের পদচিহ্ন মুছে যায়। তাতে ঘাস জন্মায়। কিন্তু কবির চলে যাওয়ার মুহূর্তটি তাঁর প্রিয়তমার হৃদয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায়।
প্রশ্ন:“সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।– 'সে কে? ‘আমি আর কখনো ফিরে আসব না' বলার কারণ কী?
উত্তর> প্রশ্নে উদ্ধৃত ‘সে' বলতে পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতায় অপেক্ষরতা মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।
| পাঠ্য কবিতাটি শুরু হয় এক বিদায়দৃশ্যকে অবলম্বন করে। বাড়ির
দরজায় প্রিয়তমাকে ফেলে রেখে কবি চলে যান বহুদুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে। এই যাত্রার কারণ কবিতায় উল্লিখিত হয় না। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তিনি তাঁর ভালোবাসার নারী, প্রিয় ঘরবাড়ি এবং পছন্দের শহরটিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের এ ঘটনা কবিকে পীড়িত ও বিচলিত করে অথচ মেয়েটি তা বুঝতে পারে না। মেয়েটির জীবনে প্রিয়তমের জন্য অন্তহীন অপেক্ষার পালা এভাবেই নীরবে নেমে আসে।
