হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠলো ৭০ সংখ্যাটা । প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ৭০ সংখ্যাটা চোখে ভেসে ওঠার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। কোনি গল্প || দশম শ্রেণী
প্রশ্ন। ‘হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠল '৭০' সংখ্যাটা।-প্রসঙ্গ উল্লেখ করে '৭০' সংখ্যাটা চোখে ভেসে ওঠার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর/ সাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের কাহিনি অনুষারে মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের একের পর এক সোনাজয়ী সাঁতারু রমা যোশির নাম শুনেছিল কোনি। মাদ্রাজে গিয়ে রমা যোশির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে। প্রথমটায় সাধারণ চেহারার মেয়েটিকে চিনতে না-পারলেও নাম শুনে সে বুঝে যায়, এই তার সেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী যাকে হারানোর জন্য কোনিকে অক্লান্ত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে পড়ে যায় '৭০' সংখ্যাটি।
রমা যোশি শুধু মহারাষ্ট্র স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে নয়, দিল্লিতে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে সে একাই ছ-টি সোনা জিতে চারটে ব্যক্তিগত রেকর্ড করেছিল। তাই ক্ষিতীশের লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রমা যোশিকে অতিক্রম করার মতো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি কোনিকে দাঁড় করানো। ক্ষিতীশ তাই অ্যাপোলো ক্লাবের বারান্দার দেয়ালে '৭০' লিখে টাঙিয়ে দিয়েছিল, আর কৌতূহলীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি হেসে বলতেন— 'অতবছর আমায় বাঁচতে হবে কিনা, সেটা যাতে মনে থাকে তাই চোখের সামনে রাখলাম রোজ দেখার জন্য। কিন্তু কোনি জানত ওটা হল আসলে ৭০ সেকেন্ড অর্থাৎ ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড, যা ছিল রমা যোশির সময়ের চেয়ে ২ মিনিট কম; আর এটাই ছিল কোনির লক্ষ্য। কোনি যাতে সে-বছরই রমা যোশির সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে, তাই কোনির চোখে সর্বদাই ওই সময়টিকে ভাসিয়ে রেখেছিল। ক্ষিতীশ। শয়নে-স্বপনে কখনও যাতে কোনি এ কথা না-ভোলে, সেইজন্য তার এই ব্যবস্থা। রমা যোশিকে দেখে কোনির সেই কথাই মনে পড়ে গিয়েছিল।
