ভারতের সেই স্বর্গে করো জাগরিত। উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা । প্রার্থনা কবিতা - Online story

Saturday, 10 January 2026

ভারতের সেই স্বর্গে করো জাগরিত। উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা । প্রার্থনা কবিতা



নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।”
- প্রসঙ্গ সহ উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য আলোচনা করো।


উত্তর : প্রসঙ্গ : প্রশ্নোকৃত অংশটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নৈবেদ্য’ কাব্যের অন্তর্গত ৭২ নং কবিতা 'প্রার্থনা' থেকে নেওয়া হয়েছে। পরমেশ্বরে বিশ্বাসী কবি উপলব্ধি করেছেন যে, এই জগৎ ও জীবনের স্রষ্টা হলেন পরমেশ্বর।
এখানে এমন কোনো কার্য বা ঘটনা ঘটে না যেখানে ঈশ্বরের পবিত্র স্পর্শ পড়ে না। কবির ধারণা বর্তমান ভারতীয়রা অলস, কর্মবিমুখ এবং চিন্তাশক্তিহীন। ফলে তারা তাদের পূর্বগৌরব হারিয়ে ফেলেছে। সেই অবস্থা থেকে ভারতবাসীকে জাগরিত করতে পারেন একমাত্র ঈশ্বরই। সেই প্রসঙ্গেই কবি উক্তিটি করেছেন। তাৎপর্য - কবির মতে প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র ছিল উদার প্রকৃতির মতোই মুক্ত। বিবিধ প্রকারের সংস্কার বা আচার-অনুষ্ঠানের কখন
সেই জীবনধারাকে গ্রাস করতে পারেনি। তবে বর্তমানে শুষ্ক আচার-অনুষ্ঠানের জালে বন্দি ভারতীয়দের জীবন। মুক্ত জ্ঞানচর্চার অবকাশ নেই এখানে। যেন মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে ভারতবাসী। ভারতীয়দের এমন জড়তাগ্রস্ততা, মোহাচ্ছন্নতা দূর করতে পারেন কেবল সৃষ্টিকর্তাই; তিনিই সকল কর্ম-চিন্তা-আনন্দের কারণ, তিনিই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। তাই পরমেশ্বরের কাছে কবি প্রার্থনা করেছেন—পরমপিতা যেন কঠোর আঘাতের মাধ্যমে ভারতীয়দের তন্ত্রাচ্ছন্নতার অবসান ঘটিয়ে, তাদের প্রাচীন গৌরবের স্থানে উন্নীত করেন। কবির স্বর্গ কোনো অলৌকিক স্থান নয়; যেখানে ভারতীয়রা নির্ভীক চিত্তে উন্নত মস্তকে, উদারভাবে জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকতে পারে সেই জাগতিক স্বর্গই কবির কাম্য। ভারতীয়দের জাগতিক উন্নতি ঘটিয়ে সেই স্বর্গে স্থাপন করার আকাঙ্ক্ষাই করেছেন কবি।