আন্তর্জাতিক যোগদিবস প্রবন্ধ রচনা - Online story

Wednesday, 28 October 2026

আন্তর্জাতিক যোগদিবস প্রবন্ধ রচনা

 


প্রবন্ধ রচনা

আন্তর্জাতিক যোগদিবস

ভূমিকা : যোগাসন-এর জন্ম ভারতে। প্রায় ৫০০০ হাজার বছরের পুরোনো, সিন্ধু সভ্যতায় উদ্ধার হওয়া পদ্মাসনে উপবিষ্ট ‘পশুপতি’ মূর্তি দেখে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, ভারতে যোগাসনের চল ছিল। যোগের সাহায্যে শরীর ও মন দুই সুস্থ থাকে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রপুঞ্জে গিয়ে 'আন্তর্জাতিক যোগদিবস' পালনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর এই আবেদন মেনে নিয়ে ২০১৫ সালের ২১ জুন দিনটিকে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও আন্তর্জাতিক যোগদিবস বলে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে।

কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে উদ্যোগ :  ২১ জুন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যোগাকর-সহ বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা হাজির ও আয়ুষ দফতর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্কুল-কলেজে আন্তর্জাতিক যোগদিবস পালন নিয়ে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের সার্কুলার, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে স্কুলে স্কুলে পাঠানো হয়। যোগচর্চার সঙ্গে যুক্ত কলকাতার বিভিন্ন সংগঠন এতে যোগ দেয়। রামকৃষ্ণ মিশন, আদ্যাপীঠ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, আর্ট অফ লিভিং এবং প্রজাপতি ব্রষ্মকুমারীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির তরফে স্কুলে স্কুলে উপস্থিত ছিলেন যোগাসনে পারদর্শী বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিভিন্ন স্কুলের ছেলেমেয়েরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা দিয়ে। এরই মাঝে মাঝে মঞ্চে দেখানো হল রোগ প্রতিরোধক বিভিন্ন আসন। এ ছাড়াও যোগের ওপর নৃত্যনাট্য হয়। সেইসঙ্গে স্বামী যোগানন্দ, বিচরণ ঘোষ, নীলমণি দাস প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা :

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেও যোগদিবস পালিত হয়। তারা ২০ জুন থেকেই যোগদিবস পালনে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এই দিন ক্রীড়াভারতী নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে ১৬টি যোগকেন্দ্রকে নিয়ে আয়োজিত হয় এক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনতয়ান উপস্থিত ছিলেন। যোগের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়াও হাওড়ার মৌড়ীগ্রামের হরিরাম ইন্সটিটিউট, কলকাতার জে বি রায় আয়ুর্বেদিক কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও পূর্ণ উদ্যমে যোগদিবস পালিত হয়েছিল।

 বাংলায় যোগশিক্ষার ইতিহাস ও ঐতিহ্য :

পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যসূচিতে ব্রতচারী এসেছে। ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যায় যোগ ছাড়া এই খেলাধুলা সম্পন্ন করা সহজ নয়। বিবেকানন্দের ছেলেবেলায় ধ্যান-ধ্যান খেলা আত্মমগ্নতার অনন্য উপায় ছাড়া আর কিছুই নয়। কথার অর্থই হল সংযুক্তিকরণ। শরীরের সঙ্গে মনের, বহিঃপ্রকৃতির সঙ্গে অন্তঃপ্রকৃতির নিবিড় একাত্মতা গড়ে ওঠে যোগাসনের মাধ্যমে। মানসিক একাগ্রতা, নিষ্ঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সর্বোপরি শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত নিদর্শন হল যোগাসন। মানবীয় নৈপুণ্যের সামগ্রিক বিকাশ সাধিত হয়। নিয়মিত যোগাসন চর্চায়। তা যেমন মানুষের মন ও শরীরকে সুন্দর করে। তোলে, তেমনই চিন্তার প্রসার ঘটায়।


উপসংহার : বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে যোগাসনের চর্চা চলে আসছে। বাংলাকে যোগব্যায়ামের ভাবনায় অনেক দিন ধরেই যিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি হলেন নীলমণি দাশ। তাঁর লেখা যোগাসন শিক্ষার বই এক অমূল্য পুস্তক। তাই সম্প্রতি যে যোগদিবস পালিত হল আশা করা যায় এই পদক্ষেপ ভারত তথা বাংলাকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে, গড়ে উঠবে এক সুস্থসবল দেশ।