রচনা বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ - Online story

Wednesday, 23 September 2026

রচনা বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ




      বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ

          রচনা



 ভূমিকা: অরণ্য পরম বহু, পৃথিবীর প্রাণ,

সে ভাসে অরণ্যের গান।"

ভারতের প্রথম নভশ্চর ব্যাপাটেন রাকেশ শর্মা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন যে, নিকাব কালো মহাকাশে পৃথিবীর মতো এমন সুন্দর গ্রহ আর তিনি একটিও দেখতে পাচ্ছেন না। সবুজ রঙের স্নিগ্ধ আলোয় একটি উজ্জ্বল। এই শ্যামলিমার উৎস অরণ্যলালিত জীবজগৎ—পৃথিবীর অরণ্যের প্রাণবৈচিত্র্য্য প্রকৃতি গড়ে উঠে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরি নির্ভরতা নিয়ে। উদ্ভিদজগতের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে প্রাণীজগৎ

প্রতিটি প্রাণের সঙ্গে উদ্ভিদের সম্পর্ক গভীরভাবে আবদ্ধ আছে। প্রাণীটি বেঁচে থাকার জন্য যে অক্সিজেন সেটা উদ্ভিদ যোগান দেয়। জীব কুলের পক্ষে বিষাক্ত গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড উদ্ভিদ শোষণ করে নেয়। বন জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে । বন আবার পশুপাখির আবাসস্থল আবার খাদ্যশৃংখল একে অপরকে বাঁচিয়ে রাখে যার । উদ্ভিদ জগৎ বেঁচে থাকলে বাস্তুসংস্থানে কোন ঘাটতি দেখা যায় না। কিন্তু এই বাস্তুসংস্থানে কাটল ধরিয়েছে মানুষ। মানুষ তার বুদ্ধি আর প্রযুক্তি নিয়ে ক্রমশ হয়ে উঠেছে পৃথিবীর অধীশ্বর। মানুষের আগ্রাসী লোভের মুখে পৃথিবীর রাজ্য আজ নিঃশেষিত। অনুরূপ বন্যপ্রাণীদের আনেকেই চলে গেছে বিলপ্তির দেশে। মানুষের লোভের শিকার হয়েছে তারা। 


অনিয়ন্ত্রিত অরণ্য :- অরণ্য ধ্বংসের পরিণাম দেখা যাচ্ছে চারদিকে। এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীতে যে বায়োডাইভার্সিটি বা প্রাণবৈচিত্র্য রয়েছে, তা একদিন হয়ে যাবে নিঃশেষ।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংস হয়ে পৃথিবীতে যে কত প্রাণের সম্পূর্ণ অবলুপ্তি গিয়েছিল সরি হিসাব নেই। তারমধ্যে যেগুলি জানা গেছে সেগুলি হল বিশাল সরীসৃপ ডাইনোসর, হাতির পূর্বসূরি ম্যামথ, স্যারর-টুথ টাইগার বা পাড়া-পাঁত বাঘ। এই শতকে মরিশাস দ্বীপ থেকে হারিয়ে গেছে ডোডো নামে পাখি। আমেরিকার প্রেইরি বনভূমি থেকে হারিয়ে গেছে বাইসন, মেরু অঞ্চল হারিয়েছে স্বর্ণশৃগাল।

মানুষ যখন ঘাতকের ভূমিকায় :-

বন্যপ্রাণী অবলুপ্তির প্রধান কারণ হল অরণ্যনিধন। মানুষ তার বিলাসব্যসন ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে অরণ্য সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে চলেছে। ভারতে ইংরেজশাসন প্রবর্তনের পর শুধুমাত্র রেললাইনের স্লিপারের জন্য ভারতের শতাব্দী-প্রাচীন বিশাল বৃক্ষগুলিকে যেভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

বনক্ষয়: - বন্যপ্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা মানুষের অন্যতম প্রয়োজনীয় দায়িত্ব। কারণ তাদের এক-একটি প্রজাতির অবলুপ্তি সর্বদাই মানুষের ক্ষতি ডেকে আনে। যেমন, বাঘ বিলুপ্ত হলে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। হরিণ বৃদ্ধি পেলে তারা অরণ্য নিঃশেষ করবে। তখন এই হরিণরা অরণ্য-পার্শ্ববর্তী কৃষিক্ষেত্রে ধ্বংসলীলা চালাবে। এজন্য পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা জরুরি। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদের পাশাপাশি আরণ্যক প্রাণীর সুরক্ষা একান্ত প্রয়োজন।

উপসংহার : -বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য ইদানীং গড়ে উঠেছে নানা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা, যেমন – WWF বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড-লাইফ ফেডারেশন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সংরক্ষণ আন্দোলন। সুন্দরলাল বহুগুণা ও চিপকো আন্দোলন, মেধা পাটেকরের 'নর্মদা বাঁচাও' আন্দোলন প্রভৃতি ভারতে অরাজনৈতিক সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম। আশার কথা এই যে, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে নানা অভয়ারণ্য এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প। গুজরাটের গির অরণ্যের সিংহ-প্রকল্প, সুন্দরবনের বাঘ কুমির প্রকল্প, আমাদের কাজিরাঙায় গন্ডার প্রকল্প—এসব - প্রকল্পগুলি মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।