রচনা প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান
প্রবন্ধ- রচনা
★★প্রাত্যহিক জীবান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ★★
ভূমিকা: কোনো এক মনীষী বলেছিলেন, উনিশ শতকটা ছিল দার্শনিকদের যুগ। বিশ শতক এল বিজ্ঞানীদের যুগ হয়ে। এই সূত্র ধরে এখন বলা যায়, একবিংশ শতাব্দী নিয়ে এসেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগল অন্বেষণ এ যুগটি তাঁদের।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক : 'বিজ্ঞান' দেয় নিত্যনতুন সত্যের সন্ধান। সেই আবিষ্কৃত সত্যকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি আমাদের হাতে হাতে উপহার দিচ্ছে ব্যাবহারিক নানা জিনিস। যে-বিদ্যুৎ একদা আকাশের মেঘে মেঘে সংঘর্ষে উৎপন্ন হয়ে পৃথিবীর জীবজগৎকে কাঁপিয়ে তুলেছিল, সেই শক্তি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন—তাকে মানবকল্যাণে যে ব্যবহার করা যায়,
সে ইঙ্গিতও দিলেন তাঁরা। কিন্তু তাকে ব্যাবহারিক জীবনে কাজে লাগাল
যে, সে হল প্রযুক্তি।
প্রযুক্তির ফসল: আধুনিক বিজ্ঞানের প্রযুক্তির ফসল হল বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ যে অনেক বড়ো বড়ো কাজে ব্যবহৃত হয়, তা চোখের সামনে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে আমরা তাকে কাজে লাগিয়ে চলেছি একটি চাকরের মতো। আমাদের ঘরে ঘরে আলো জ্বালিয়ে, মাটির ভিতর থেকে জল তুলে তা ট্যাংকে ভরে দেয় এই বিদ্যুৎ।
রেডিয়ো, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ারকুলার সবই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফসল। এই ব্যবহার দিকে দিকে বেড়ে চলেছে।
জ্বালানি গ্যাসের আবিষ্কার: মাটির তলায় রয়েছে বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার।
বিজ্ঞান তার সন্ধান দিল এবং তাকে যে আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনে
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তার ইশারাও দিল। বিজ্ঞানের হাত ধরাধরি করে পরে এগিয়ে এল প্রযুক্তি। তাকে ভরে ফেলল সিলিন্ডারে। এর নতুন নাম হল, “লিক্যুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস’–এই গ্যাস এখন আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে রান্নার কাজে লাগছে। আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই রান্নার গ্যাসের প্রভাব অপরিসীম।
টেলিফোন ও মোবাইল আবিষ্কার:
আজ আমাদের ঘরে ঘরে যে টেলিফোন এবং হাতে হাতে মোবাইল ফোন তাও সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলেই মোবাইল ফোন ছাড়া প্রাত্যহিক জীবনে এক পা চলতে পারে না। এই ফোনযোগে দূরত্ব বা কোনো দুর্গমতা থাকে না। আমেরিকার মানুষও এই মোবাইলে এসে ধরা দেয়। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে প্রযুক্তি যেভাবে দিনে দিনে উন্নীত করছে, তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।
কম্পিউটারের ব্যবহার:
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কম্পিউটারের ব্যবহার আরও এক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা যেসব এসএমএস করি সেটা কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসে বড়ো বড়ো চিঠি, লেখা ই-মেল' করে দূরদূরান্তে পাঠিয়ে দিতে পারি। এইভাবে আমরা ঘরে বসে ‘fax' করে পাঠিয়ে দিচ্ছি নানা বার্তা ও সংবাদ। শেয়ার বাজার থেকে বাজারদর, কর্মখালি থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি, আরও নানান প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় তথ্য মুহূর্তে আমাদের কাছে এসে যাচ্ছে।
ল্যাপটপ আবিষ্কার: ‘কম্পিউটার' যন্ত্রটিকে ঘরের টেবিলে বসিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এ যন্ত্রটি হাতের ব্যাগে ঢুকে পড়ছে। তখন সে হয়ে যাচ্ছে ‘ল্যাপটপ’। আমাদের চলার পথের সঙ্গী হয়ে আমাদের প্রতি মুহুর্তের কাজের সহায়ক হয়ে উঠেছে।
উপসংহার: আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কীভাবে এবং কতভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যে ঢুকে পড়েছে, তার হদিস পেতে পারি পূর্বের আলোচনা থেকেই। প্রাত্যহিক জীবনে দিনে দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ যেভাবে বাড়ছে, পরে তার দাক্ষিণ্য ছাড়া মানুষ তার জীবনযাপন করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে একটা চিন্তা থেকেই যায়। তাই সুস্থ দেহে স্বাভাবিক মন নিয়ে প্রাত্যহিক জীবন-যাপন করতে মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্র-নির্ভরতা ছেড়ে প্রযুক্তিকে সাথে নিয়ে চলতে হবে।
