অসুখী একজন কবিতার বিষয় সংক্ষেপ । দশম শ্রেণী
![]() |
অসুখী একজন কবিতার বিষয়ক সংক্ষেপ উল্লেখ করো।
উত্তর: বিষয়সংক্ষেপ:
আমাদের পাঠ্য ‘অসুখী একজন' কবিতাটি আত্মকথনের আদলে কবিতাটি শুরু হয়। কথক তাঁর ভালোবাসার জনপ্রিয়তমাকে দুয়ারে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রেখে দূরে-বহুদূরে চলে গেলেন। প্রিয়তম ফিরে আসবে এই সরল বিশ্বাসে অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে কথকের প্রিয়তমা। সে জানেই না যে, তার প্রিয়তম আর কখনও ফিরে আসবে না। কুকুরের চলে যাওয়া, গির্জার নানের হেঁটে যাওয়ার উপমার কবি সময়ের বহমানতা প্রকাশ করেছেন। সপ্তাহ, মাস, বছর কেটে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে আসে কথকের স্মৃতি। কথকের পায়ের চিহ্ন ধুয়ে যার, সেখানে ঘাস জন্মায়।
এইভাবে প্রতিদিনকার অপেক্ষার মুহূর্তগুলো একটার-পর-একটা পাথরের মতো জমতে জমতে ভারী হয়ে নেমে আসে অপেক্ষতা মেয়েটির মাথার ওপর। তারপর আসে প্রাণঘাতী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের বীভৎসতা রক্তস্নাত আগ্নেয়পাহাড়ের মতো, যার নিষ্ঠুরতার হাত থেকে বাদ যায়নি শিশুরাও। খুন হয় বাড়ির সকলে। সমস্ত স্মৃতি মুছে যায়। কিন্তু এতসবের মধ্যেও বেঁচে থাকে কবির প্রিয় সেই মেয়েটি। কারণ প্রেম শাশ্বত, তার মৃত্যু নেই। চিরন্তন প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায়। যুদ্ধের আগুন থেকে বাদ যায় না দেবালয়ও। শান্ত, ধ্যানমগ্ন দেবতারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে এই দুঃসময়ে দেবতারাও মানুষকে বাঁচাতে ও স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধের রোষানলে কবির ফেলে আসা বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গ সব কিছুই ধ্বংস হয়। শুধু শহরের জায়গায় ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের বীভৎস মাথা। ধ্বংসের তীব্রতাকে স্পষ্ট করে দেয় কালো রক্তের দাগ। আর এই ধ্বংসের মধ্যে জেগে থাকে মৃত্যুহীন ভালোবাসা; যে-ভালোবাসা নিয়ে কবির জন্য অপেক্ষা করে থাকে
তাঁর প্রিয়তমা।
